এইচএসসিতে ফল বিপর্যয়
শিক্ষার্থী ডাকছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো, সব আসন ভরবে তো?

ফাইল ছবি
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার পাসের হার গত ১০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। ১২ লাখ ৭০ হাজার শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করে ৬ লাখ ৪৬ হাজার। এতে পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। এর মধ্যে ‘এ’ প্লাস পেয়েছে ৪০ হাজার, যা গত বছর ছিল ৬৯ হাজার।
অন্যদিকে, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে স্নাতক প্রথম বর্ষে আসন ৬৩ হাজার ৬৫৬টি। বিভিন্ন কলেজ ও ইনস্টিটিউট মিলিয়ে আসন আছে ১০ লাখ ১৮ হাজার ৬৩২। এর সঙ্গে শতাধিক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় যোগ করলে সর্বমোট আসন সংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় ১৪ লাখ ৯২ হাজারের বেশি।
ফলে প্রশ্ন উঠেছে, যোগ্য শিক্ষার্থীর অভাবে এবার স্নাতক প্রথম বর্ষে অনেক আসন ফাঁকা থেকে যাবে?
তবে শিক্ষাবিদরা বলছেন, আসন ফাঁকা থাকল কী, না থাকল সেটি না দেখে শিক্ষার মান নির্ধারণ হয় না। তাছাড়া পাসের হার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আসনসংখ্যা এখনই তুলনা করা ঠিক হবে না।
কারণ, এর মধ্যে রয়েছে গতবার এইচএসসি উত্তীর্থ শিক্ষার্থী, যারা এবারও পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন; ভর্তিযোগ্যতার শর্ত শিথিল এবং অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগের কারণে ভর্তিযোগ্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়তে পারে।
কেমন ছিল গত ১০ বছরে এইচএসসির ফল
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে উল্লেখযোগ্য ওঠা-নামা দেখা গেছে। ২০১৬ সালে পাসের হার ছিল ৭৪ দশমিক ৭০ শতাংশ। ২০১৭ সালে তা কমে ৬৮ দশমিক ৯২ শতাংশ এবং ২০১৮ সালে ৬৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ হয়। ২০১৯ সালে পাসের হার ছিল ৭৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ।
২০২০ সালে করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে পরীক্ষা না নিয়ে সবাইকে পাস করানোয় পাসের হার দাঁড়ায় ১০০ শতাংশে। পরবর্তী বছরগুলোতেও পাসের হার তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল। ২০২১ সালে ৯৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ, ২০২২ সালে ৮৪ দশমিক ৩১ শতাংশ, ২০২৩ সালে ৭৪ দশমিক ৬৭ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ৭৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেন।
তবে ২০২৫ সালে পাসের হার কমে নেমে আসে ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশে। আর ২০২৬ সালে তা আরও কমে দাঁড়ায় ৫২ দশমিক ১২ শতাংশে। এবার জিপিএ ৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী। গতবার পেয়েছিল ৬৯ হাজার।
সর্বশেষ দুই বছরে এইচএসসি পরীক্ষার ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা গেছে। বিশেষ করে ২০২৬ সালের ফলাফল উচ্চশিক্ষায় ভর্তির সুযোগ ও শিক্ষার্থীর সংখ্যা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মানবিক শাখায় ৫৯৭৮ এ প্লাস, বিজ্ঞানে ২৬৭০২
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বাদে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে স্নাতক প্রথম বর্ষে ভর্তির জন্য মোট আসন রয়েছে ৬৩ হাজার ৬৫৬টি।
অন্যদিকে এ প্লাস পাওয়া ৪০ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে বিজ্ঞান ও গার্হস্থ্য অর্থনীতি শাখা থেকে ২৬ হাজার ৭০২জন। মানবিক শাখায় ৫ হাজার ৯৭৮ জন। আর ব্যবসায় শিক্ষায় ৩২৬৮ জন। আর মাদ্রাসা বোর্ডে ৩ হাজার ২৫০ জন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজসহ সরকারি ৩৭টি মেডিকেলে মোট আসন রয়েছে ৫ হাজার ১০০টি।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ১১ হাজার ২৯০টি আসন রয়েছে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬ হাজার ১২৫টি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩ হাজার ৯৫৬টি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪ হাজার ৩৩টি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ হাজার ৮১৫টি ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ হাজার ৮৪৮টি।
প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ১ হাজার ৩০৯টি, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) ৯৩১টি, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) ১ হাজার ২৩৫টি, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) ১ হাজার ১০৫টি এবং ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডুয়েট) ৭৮০টি আসন রয়েছে।
এ ছাড়া বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ হাজার ৩৪টি এবং শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭০৫টি আসন রয়েছে।
পরিকল্পনা ছাড়াই বাড়ানো হয়েছে উচ্চশিক্ষার আসন
দেশে বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষার আসনসংখ্যা বাড়ানোর প্রবণতা নিয়েও বিস্তর অভিযোগ অধ্যাপক আব্দুস সালামের।
তার মতে, দেশে উচ্চশিক্ষার অস্বাস্থ্যকর সম্প্রসারণ ঘটেছে। বিশেষ করে বিগত সরকারগুলোর সময়ে প্রয়োজনীয় জনবল পরিকল্পনা ও গবেষণা ছাড়াই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে আসন বাড়ানো হয়েছে।
তিনি বলেন, একটি দেশে কোন খাতে কতজন দক্ষ জনবল প্রয়োজন, কতজন প্রকৌশলী, শিক্ষক, মৎস্যবিজ্ঞানী কিংবা অন্যান্য পেশাজীবী দরকার—এসব বিবেচনা করেই উচ্চশিক্ষার আসন নির্ধারণ করা উচিত। কিন্তু বিজ্ঞানসম্মত মানবসম্পদ পরিকল্পনা ছাড়াই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ও আসন বৃদ্ধি করা হয়েছে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোর উদাহরণ দিয়ে ঢাবির এই অধ্যাপক বলেন, অনেক কলেজে পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকলেও বিপুলসংখ্যক বিষয়ে পাঠদানের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এমনকি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগেও প্রয়োজনীয়তা, শিক্ষক ও অবকাঠামো যাচাই না করে আসন বাড়ানো হয়েছে।
ফল বিপর্যয়ে ভর্তিতে শর্ত শিথিল রাবির
এইচএসসি পরীক্ষার ফল তুলনামূলক খারাপ হওয়ায় ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষায় আবেদনের যোগ্যতা কমানোর প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি)।
গত ১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত ভর্তি পরীক্ষা কমিটির প্রথম বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মানবিক শাখা থেকে উত্তীর্ণ আবেদনকারীদের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় চতুর্থ বিষয়সহ পৃথকভাবে ন্যূনতম জিপিএ ৩.০০ এবং মোট জিপিএ ৬.৫০ থাকতে হবে। গত শিক্ষাবর্ষে মোট জিপিএর শর্ত ছিল ৭.০০।
অন্যদিকে, বিজ্ঞান শাখার শিক্ষার্থীদের এসএসসি ও এইচএসসিতে চতুর্থ বিষয়সহ পৃথকভাবে ন্যূনতম জিপিএ ৩.৫০ এবং মোট জিপিএ ৭.০০ থাকতে হবে। গত বছর এ ক্ষেত্রে মোট জিপিএর শর্ত ছিল ৭.৫০।
এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্যদের পরীক্ষা ১ ডিসেম্বর শুরু
এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পুনঃপরীক্ষা ১ ডিসেম্বর থেকে শুরু হবে। এক বিজ্ঞপিতে এ তথ্য জানিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। এ বছর এক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে মোট ২ লাখ ৯৮ হাজার ৪০ জন। দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে ১ লাখ ২৪ হাজার ৮৬৫ শিক্ষার্থী।
এর আগে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এক ও দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পুনঃপরীক্ষা এক মাসের মধ্যে নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
নিজ নিজ আসনে বিশ্ববিদ্যালয় চান এমপি-মন্ত্রীরা
সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ সংসদীয় আসনে বিশ্ববিদ্যালয় চান। এর জন্য চাপও প্রয়োগ করেন।
ঢাবি অধ্যাপক আব্দুস সালামের মতে, রাষ্ট্রের সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ করা উচিত প্রাথমিক ও মৌলিক শিক্ষার মান উন্নয়নে। মৌলিক শিক্ষার পর শিক্ষার্থীদের জীবনমুখী, কারিগরি, দক্ষতাভিত্তিক ও উদ্যোক্তামুখী শিক্ষার সুযোগ তৈরি করতে হবে।
প্রতিটি জেলায় নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি প্রসঙ্গে অধ্যাপক আব্দুস সালাম বলেন, রাজনৈতিক বিবেচনায় নতুন নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রবণতা অযৌক্তিক, অবৈজ্ঞানিক ও অপরিকল্পিত। এ ধরনের উদ্যোগ বন্ধ করা প্রয়োজন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আগে আগামী ১০ থেকে ২০ বছরে দেশের কোন খাতে কতজন দক্ষ জনবল প্রয়োজন, তা নির্ধারণ করতে হবে। সেই চাহিদার ভিত্তিতেই উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠান ও আসনসংখ্যা নির্ধারণ করা উচিত। শুধু রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি কিংবা স্থানীয় চাহিদার কথা বিবেচনা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করলে ভবিষ্যতে সেগুলো রাষ্ট্রের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
তার মতে, উচ্চশিক্ষা সবার জন্য বাধ্যতামূলক নয়। প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। বরং দেশের প্রয়োজন অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি তৈরি করাই উচ্চশিক্ষার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।
ফল বিপর্যয়ে দুই কারণ, বললেন ড. আকতার বানু
বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন ফাঁকা থাকার সম্ভাবনা নিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. আকতার বানু বলেন, এ বছর আসনসংখ্যার তুলনায় পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ও উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম হলেও আগামী বছরও একই পরিস্থিতি থাকবে, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না।
এর পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, আগের বছরের অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে। দ্বিতীয়ত, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ভর্তি পরীক্ষায় আবেদনের ন্যূনতম যোগ্যতা কিছুটা শিথিল করেছে। ফলে আগে যারা আবেদনের যোগ্যতা অর্জন করতে পারেননি, তারাও এবার আবেদন করার সুযোগ পেতে পারেন।
এ ছাড়া এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পুনরায় পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হওয়ার সুযোগ রয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিলে ভর্তিযোগ্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়তে পারে।
তার মতে, শুধু এবারের ফলাফলের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিপুলসংখ্যক আসন ফাঁকা থাকবে বলে ধারণা করা ঠিক হবে না।
‘আগে পরীক্ষকদের নাম্বার বেশি দিতে দেওয়া হতো’
এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার কী কারণে কমল সে বিষয়ে মতামত জানতে চাওয়া হয় রাবির ড. আকতার বানুর কাছে। ‘দীর্ঘদিন ধরে পরীক্ষায় পাসের হার ও জিপিএ ৫ বাড়ানোর প্রবণতা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মানসিকতায় প্রভাব ফেলেছে’-মনে করেন তিনি।
‘আগে পরীক্ষার খাতায় শিক্ষার্থীরা যাই লিখুক, বেশি নম্বর দেওয়ার জন্য পরীক্ষকদের ওপর একধরনের চাপ থাকত। এতে কম পড়েও ভালো ফল করা সম্ভব এমন মানসিকতা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছিল, এটিও ফলে প্রভাব পড়েছে।’
প্রচলিত শিক্ষাপদ্ধতিকেও দায় হিসেবে দেখছেন রাবির ড. বানু। তার মতে, সৃজনশীল পদ্ধতিতে অনেক সময় পর্যাপ্ত বিষয়বস্তু না লিখেও ভালো নম্বর পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছিল।
‘দীর্ঘদিন এসব প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনার অভ্যাস দুর্বল হয়েছে’-যোগ করেন তিনি।
শিক্ষার্থীদের ক্লান্ত করছে কোচিং প্রাইভেট
স্কুল-কলেজের বাইরে কোচিং সেন্টার ও প্রাইভেট শিক্ষকের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শারীরিকভাবে ক্লান্ত করে তুলছে বলে মনে করেন ড. আকতার।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যথাযথ পাঠদান না হওয়ায় অভিভাবকেরা সন্তানদের কোচিং ও প্রাইভেট শিক্ষকের কাছে পাঠাতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে শিক্ষার্থীরা নিজের মতো করে পড়াশোনা ও বিশ্রামের পর্যাপ্ত সময় পাচ্ছে না।
শিক্ষাক্রমের বিষয়বস্তু কমানো, কোচিংনির্ভরতা বন্ধ করা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করতে সরকারি তদারকি বাড়ানোর উচিত বলে মনে করেন রাবির এই অধ্যাপক।
শিক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতার চিত্র উঠে এসেছে এবারের ফলে
এবারের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলকে ভিন্নভাবে দেখছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুস সালাম।
তার মতে, গত ১০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার হওয়াকে একেবারে নেতিবাচক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং দীর্ঘদিনের শিক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতা ও ফলাফলকেন্দ্রিক প্রবণতার বাস্তব চিত্র এবারের ফলাফলে উঠে এসেছে।
‘শিক্ষাব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং গুণগত মানের পরিবর্তে ফলাফলকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার প্রবণতা দেখা গেছে।’






