১৪ শিক্ষকের প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার্থী ১ জন, তিনিও এইচএসসিতে ফেল

দুর্বাশুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ। ছবি: আগামীর সময়
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার দুর্বাশুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজে কাগজে-কলমে শিক্ষক রয়েছেন ১৪ জন। অথচ কলেজ শাখায় নিয়মিত শিক্ষার্থী নেই বললেই চলে। এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটি থেকে অংশ নিয়েছিলেন মাত্র একজন। গত ৩১ অক্টোবর প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, সেই একমাত্র পরীক্ষার্থীও পাস করতে পারেননি।
তবে ওই শিক্ষার্থী কোন বিভাগ থেকে পরীক্ষা দিয়েছেন এবং কয়টি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি দুর্বাশুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের শিক্ষকরা।
শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও পাঠদান কার্যক্রমের এমন চিত্রে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম, ব্যবস্থাপনা এবং তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও এ পরিস্থিতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষে মুকসুদপুর উপজেলার বহুগ্রামে কলেজ শাখার কার্যক্রম শুরু করে দুর্বাশুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কলেজ শাখায় শিক্ষার্থী উপস্থিতি ও নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন।
সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটিতে গিয়ে দেখা যায়, কলেজ শাখার শ্রেণিকক্ষে কোনো শিক্ষার্থী নেই। সেখানে চলছে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কার্যক্রম। প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষকদের ভাষ্য, অধ্যক্ষসহ কাগজে-কলমে ১৪ জন শিক্ষক থাকলেও কলেজ শাখায় বাস্তবে কোনো শিক্ষক নেই। বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দিয়েই কলেজের পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
এ কারণে কলেজে ভর্তি হয়েও অনেক শিক্ষার্থী অন্য প্রতিষ্ঠানে গিয়ে পড়াশোনা করেন বলে জানা গেছে। তবে গত কয়েক বছরের পরীক্ষার ফলাফল ও শিক্ষার্থীসংক্রান্ত তথ্য জানতে চাইলে তা দিতে রাজি হয়নি কলেজ কর্তৃপক্ষ।
প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ঝর্না রানী বিশ্বাস বললেন, পরিবেশ-পরিস্থিতির কারণে শিক্ষার্থী ভর্তি না হলে তাদের কিছু করার নেই। তা ছাড়া কলেজ শাখায় কোনো শিক্ষকও নেই।
এ বিষয়ে সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেছেন, বিষয়টি তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবেন।
প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা পরিতোষ সরকার বললেন, কলেজ শাখার অনুমোদন নেওয়ার সময় শিক্ষক ছিলেন। পরে এমপিওভুক্ত হতে না পেরে তাদের অনেকে চলে গেছেন। কলেজ শাখায় ভালো কিছু হচ্ছে না। সেখানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সংকট রয়েছে। তাই প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে গেলেই ভালো হয় বলে মনে করেন তিনি।
অন্যদিকে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পরিমল কীর্তন বলেছেন, এক সপ্তাহ আগে তিনি সভাপতির দায়িত্ব পাওয়ার চিঠি পেয়েছেন। এখনো প্রতিষ্ঠানে গিয়ে কোনো সভা করতে পারেননি। তাই এসব বিষয়ে তার কিছু জানা নেই।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, শুধু কাগজে-কলমে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা নয়, শিক্ষার্থীদের জন্য কার্যকর পাঠদান ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ তদারকি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।



