এইচএসসির খাতা চ্যালেঞ্জে রেকর্ড, আবেদন ১০ লাখ ছাড়াল

ছবি: আগামীর সময়
এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ১০ লাখ ৩৭ হাজার ৭১৭টি খাতা পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন জমা পড়েছে। গত সাত দিনে ২ লাখ ৭৮ হাজার ৮৮২ শিক্ষার্থী এসব আবেদন করেছেন।
গত কয়েক বছরের মধ্যে এবারই সর্বোচ্চসংখ্যক শিক্ষার্থী খাতা পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছেন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি।
আজ শনিবার রাতে বাংলাদেশ আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ২ লাখ ৭৮ হাজার ৮৮২ শিক্ষার্থী ফল পুনর্নিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের আবেদন করেছেন। একজন শিক্ষার্থী একাধিক বিষয় ও পত্রের জন্য আবেদন করতে পারবেন। সব মিলিয়ে আবেদনের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ৩৭ হাজার ৭১৭টি।
আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য ১১টি শিক্ষা বোর্ডের ২ লাখ ২৬ হাজার ৫৬১ পরীক্ষার্থী ৪ লাখ ২৮ হাজার ৪৫৮টি খাতা পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছিলেন। এর আগের বছর ২০২৪ সালে ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট আবেদন জমা পড়েছিল ৫ লাখ ৮ হাজার ১১৬টি। সেই হিসাবে গত দুই বছরের তুলনায় এবার আবেদন বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি।
যেভাবে প্রকাশ হবে পুনর্নিরীক্ষণের ফল
এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের ফল আগামী ২৭ নভেম্বর প্রকাশ করা হবে। বাংলাদেশ আন্তশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক জেসমিন তাসলিমা বানু এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, ‘আবেদনপ্রক্রিয়া শেষে রবিবার বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কাছ থেকে আবেদনের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। ৯ নভেম্বর কম্পিউটার সেল থেকে উত্তরপত্রের তথ্যসংবলিত তালিকা ও বিষয়ভিত্তিক তালিকা সংশ্লিষ্ট শাখায় পাঠানো হবে। ১২ নভেম্বরের মধ্যে পুনর্মূল্যায়নের জন্য পরীক্ষক নিয়োগ এবং প্রধান পরীক্ষকদের কাছ থেকে উত্তরপত্র সংগ্রহ করা হবে।’
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক জানালেন, এরপর ১৩ থেকে ১৯ নভেম্বরের মধ্যে পরীক্ষকদের ব্রিফিং ও পুনর্মূল্যায়নের কাজ শুরু হবে। ২০ নভেম্বরের মধ্যে পরীক্ষকদের কম্পিউটার সেলে তথ্য পাঠাতে হবে। এরপর ২১ থেকে ২৩ নভেম্বর কম্পিউটার সেলে পরিবর্তিত নম্বর অন্তর্ভুক্তি ও উত্তরপত্রের কোড যাচাই করা হবে। ২৪ থেকে ২৬ নভেম্বর নম্বর পরিবর্তন হওয়া উত্তরপত্রগুলো চূড়ান্তভাবে যাচাই করা হবে। সব প্রক্রিয়া শেষে ২৭ নভেম্বর পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশ করা হবে।
গত ৩১ অক্টোবর চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। এতে প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন। এবারের ফলে পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। গেল বছর পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ শিক্ষার্থী।
চলতি বছরের গত ২ জুলাই সারা দেশে একযোগে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড এবং বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়।
এরপর ৮ আগস্ট লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা থাকলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বন্যার কারণে চট্টগ্রামসহ কয়েকটি বোর্ডের কিছু পরীক্ষা স্থগিত করে পরে তা নেওয়া হয়। ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়।
এ বছর ১১টি বোর্ডে ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ পরীক্ষার্থী অংশ নেন। এর মধ্যে ছাত্র সংখ্যা ৬ লাখ ২১ হাজার ৯৬৯ এবং ছাত্রী সংখ্যা ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৬১৪ জন।



