মোহনগঞ্জ
বক্তব্যে শহীদ জিয়ার নাম নিলেন না শিক্ষা কর্মকর্তা, পরে দুঃখ প্রকাশ

সংগৃহীত ছবি
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের আলোচনাসভায় স্বাগত বক্তব্যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম উল্লেখ না করায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। এ নিয়ে অনুষ্ঠানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে নিজের বক্তব্যের বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাসান মোহাম্মদ জুনায়েদ। এরপর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
আজ শনিবার দুপুরে মোহনগঞ্জ উপজেলা অডিটোরিয়াম কাম মাল্টিপারপাস হলরুমে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে দিবসটি উপলক্ষ্যে আলোচনাসভায় এ ঘটনা ঘটে।
অনুষ্ঠানের ব্যানারে প্রধান অতিথি হিসেবে স্থানীয় সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবরের নাম থাকলেও তিনি উপস্থিত ছিলেন না। অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা খাতুন, মোহনগঞ্জ থানার ওসি হাফিজুল ইসলাম হারুন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি সেলিম কার্নায়েন, সাধারণ সম্পাদক গোলাম এরশাদুর রহমানসহ উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাসান মোহাম্মদ জুনায়েদ। তার পুরো বক্তব্যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম উল্লেখ না করায় উপস্থিত বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। একপর্যায়ে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করতে শুরু করেন। এতে হলরুমে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
পরিস্থিতি বুঝতে পেরে আসন ছেড়ে আবার মঞ্চে যান ওই কর্মকর্তা। এ সময় তিনি নিজের বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি সাত নভেম্বরের তাৎপর্য ও জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বের বিষয়টি তুলে ধরেন। পরে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফরিদুজ্জামান ফরিদ বলেন, শিক্ষা কর্মকর্তা তার বক্তব্যে একবারও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম উল্লেখ করেননি। সাত নভেম্বরের সঙ্গে জিয়াউর রহমানের নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাকে বাদ দিলে এ দিবসের কোনো অর্থ থাকে না। এ কারণে নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে কর্মকর্তা দুঃখ প্রকাশ করায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি সেলিম কার্নায়েন বলেন, বক্তব্যে জিয়াউর রহমানের নাম উল্লেখ না করায় উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিষয়টি উপলব্ধি করে শিক্ষা কর্মকর্তা দুঃখ প্রকাশ করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাসান মোহাম্মদ জুনায়েদ বলেন, তাকে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দিতে বলা হয়েছিল। আগে থেকে কোনো লিখিত বক্তব্য বা স্ক্রিপ্ট প্রস্তুত ছিল না। তাৎক্ষণিকভাবে বক্তব্য দেওয়ায় আলোচ্য প্রসঙ্গে জিয়াউর রহমানের নাম আসেনি। বক্তব্যে তার নাম উল্লেখ করা প্রয়োজন মনে করেননি বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, বক্তব্য শেষে একজন এসে মঞ্চে বসা ইউএনওর কাছে এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। দর্শক সারিতে কয়েকজন উত্তেজিত হয়ে পড়েন। পরে তিনি আবার বক্তব্য দিয়ে বিষয়টি পরিষ্কার করেন। এ সময় সাত নভেম্বরের তাৎপর্য ও জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বের বিষয়টি তুলে ধরলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা খাতুন আগামীর সময়কে বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বক্তব্য দেওয়ার সময় জিয়াউর রহমানের নাম উল্লেখ না করায় উপস্থিত নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। কর্মকর্তা লিখিত বক্তব্য না থাকায় এমনটি হয়েছে বলে জানিয়েছেন। বিষয়টি সেখানেই সমাধান হয়েছে।




