Agamir Somoy E-Paper
শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬
আগামীর সময়
১২ লাখ চারা বিতরণ প্রকৌশলী টুটুলের
শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

[email protected]

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

আগামীর সময় কাজললেখা

অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়

দেশভাগের যন্ত্রণায় জীবনের অন্তর্লীন ভুবন

শিমুল সালাহ্‌উদ্দিন
শিমুল সালাহ্‌উদ্দিন
agamir somoy
প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ১৭:০৩
শেয়ার করুন:
দেশভাগের যন্ত্রণায় জীবনের অন্তর্লীন ভুবন

অতীন বন্দ্যোপাধ্যায় (৬ নভেম্বর, ১৯৩০—১৯ জানুয়ারি, ২০১৯)

বাংলা কথাসাহিত্যে অতীন বন্দ্যোপাধ্যায় এক স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বর। একই সঙ্গে ছিলেন ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, কিশোরসাহিত্যিক, সাংবাদিক এবং বিচিত্র কর্মজীবনের অধিকারী। তার সাহিত্যে দেশভাগের যন্ত্রণা, ছিন্নমূল মানুষের সংগ্রাম, গ্রামবাংলার নিসর্গ এবং জীবনের লৌকিক-অলৌকিক উপলব্ধি এক আশ্চর্য সরলতায় মিলেমিশে আছে।

তিনি মূলত আত্মজৈবনিক লেখক— নিজের অভিজ্ঞতাকেই শিল্পের ভাষা দিয়েছেন। তার জনপ্রিয়তম উপন্যাস ‘নীলকণ্ঠ পাখির খোঁজে’ দেশভাগের যন্ত্রণা নিয়ে লেখা বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি। এ উপন্যাসকে বিভূতিভূষণের ‘পথের পাঁচালী’র সমতুল্য মনে করতেন সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ। তিনি অবশ্য অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখার মধ্যে গ্রিক ট্রাজেডির ছাপও খুঁজে পেতেন। এসব মূল্যায়নই অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাহিত্যের স্বরূপ ধরে রাখে— একদিকে গ্রামবাংলার নিসর্গ ও মানুষের সরল জীবন, অন্যদিকে দেশভাগের অমোঘ নিয়তির কাছে মানুষের অসহায় আত্মসমর্পণের ট্র্যাজিক আবহ।

অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়ের কিশোরসাহিত্যও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়— ‘নীল তিমি’, ‘বিন্নি ধানের খই’, ‘বিন্নির খই লাল বাতাসা’, ‘ফেনতুর সাদা ঘোড়া’ ইত্যাদি রচনা বাংলা কিশোরসাহিত্য সমৃদ্ধ করেছে। তিনি ছোটদের ও বড়দের জন্য আলাদা করে ভাবেননি; তার গদ্যের স্বাভাবিক কাব্যিকতা উভয়শ্রেণির পাঠককেই আকৃষ্ট করেছে। তার সাহিত্যকর্মের পরিধি বিস্তৃত এমনকি থ্রিলারও লিখেছেন।

‘সমুদ্রে বুনো ফুলের গন্ধ’ তার থ্রিলার ধারার উপন্যাস, যা আনন্দবাজারের রবিবাসরীয়তে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়েছিল। রমাপদ চৌধুরীর পরামর্শে তিনি এ থ্রিলার লেখেন। এ বৈচিত্র্যই প্রমাণ করে, তার কলম কোনো নির্দিষ্ট গণ্ডিতে বাধা ছিল না।

নীলকণ্ঠ পাখির খোঁজে উপন্যাসটি শুধু বাংলা সাহিত্যকে নয়, ভারতীয় সাহিত্যকেও সমৃদ্ধ করেছে। ভারতের ন্যাশনাল বুক ট্রাস্টের উদ্যোগে এ উপন্যাস বারোটি মূল ভারতীয় ভাষায় অনুবাদ হয়েছে, যা বাংলা সাহিত্যের জন্য এক বিরল সম্মান। অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাহিত্যকে অনুসরণ করতে গেলে আমাদের ফিরে যেতে হয় বিংশ শতকের বাংলার দেশভাগ, উদ্বাস্তু জীবন এবং এক অস্থির লেখকের অন্তর্লীন জগতে।

জন্ম ১৯৩০ সালের ৬ নভেম্বর বাংলাদেশের ঢাকা জেলার আড়াইহাজার থানার রাইনাদি গ্রামে। তার পিতা অভিমন্যু বন্দ্যোপাধ্যায় মুড়াগাছা জমিদারের অধীনে কাজ করতেন। মাতার নাম লাবণ্যপ্রভা দেবী। শৈশব-কৈশোর কেটেছে গ্রামের বাড়িতে, যৌথ পরিবারে। স্কুলের পড়াশোনা সোনারগাঁওয়ের পানাম স্কুলে।

তবে তার জন্মসাল নিয়ে মজার এক গল্প আছে। তিনি নিজেই বইয়ের দেশের সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘আমার সব বইয়ে জন্মসাল দেওয়া আছে ১৯৩৪। গণ্ডগোলটা করেছিলেন আমার সোনা-জ্যাঠামশাই। ম্যাট্রিক পরীক্ষার ফর্ম ভরা হচ্ছে, সেটাই তখনকার দিনে বয়সের প্রমাণপত্র। ফর্ম ভরতে সাহায্য করছিলেন প্রধানশিক্ষক,সোনা-জ্যাঠাকে জিজ্ঞেস করলেন, কত বয়স হলো ওর? উনি আন্দাজে বলে দিলেন, এই তো সেদিন জন্মাল, ১৩-১৪ লিখে দিন।’

রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে তিনি বলেছিলেন, ‘রবীন্দ্রনাথ তো বিশাল ব্যাপার। এক সারিতে বসাই কী করে! তবে ওর উপন্যাস নিয়ে আমার রিজার্ভেশন আছে। ডায়ালগ পোর্শন বড় পোশাকি।

পরে পিসির কাছে জানতে পারেন, তিনি জন্মেছেন ১৩৩৭ সালের ২২ কার্তিক, ইংরেজিতে ১৯৩০ সালের ৬ নভেম্বর। কিন্তু সার্টিফিকেটের বয়স আর সংশোধন করা হয়নি। পুরো জীবনই পশ্চিমবঙ্গে কাটানো অতীন বন্দ্যোপাধ্যায় পূর্ববাংলার শৈশব সম্পর্কে বলেছিলেন, ‘এখন মনে হয় স্বপ্নের মতো। অদ্ভুত স্নিগ্ধ প্রকৃতি ছিল। পুকুর, নদী, খাল, বিল, চাষের জমি। ডাঙা, জল যেন সমান সমান। আমাদের কুকুর, বেড়াল, ছাগল, গরু সবার একটা করে নাম!’

এ স্নিগ্ধ প্রকৃতিই তার সাহিত্যের মূল উপাদান হয়ে উঠেছিল।

নীলকণ্ঠ পাখির খোঁজে উপন্যাসের যেকোনো পৃষ্ঠা খুললেই সেই স্নিগ্ধ প্রকৃতির ছাপ পাওয়া যায়— তরমুজ খেত, সোনালি বালির চর, পুকুরপাড়ে নিমগাছ, নোনা ধরা ইটের প্রাচীর। এই সবকিছুই তার কৈশোরের চোখে ধরা পড়া দৃশ্য, যা পরবর্তী সময়ে উপন্যাসের পাতায় অমর হয়ে গেছে।

তার শৈশবের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো যৌথ পরিবারের আবহ। একান্নবর্তী পরিবারে বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতা তাকে দিয়েছিল মানুষের সঙ্গে মেলামেশার এক বিশেষ ক্ষমতা, যা পরে তার চরিত্র নির্মাণে কাজে লেগেছে। ‘মানুষের ঘরবাড়ি’ উপন্যাসে এই যৌথ পরিবারের ভাঙনের চিত্রই তিনি তুলে ধরেছেন। গ্রামের বাড়ির পুকুর, আমবাগান, উঠোন— এসবই তার স্মৃতিতে গেঁথে আছে। তিনি নিজেই বলেছেন, ‘ওখানে আমি সাড়ে ১৭ বছর থেকেছি। আমার পুকুর, গাছপালা, ঠাকুরদার শ্মশান, আমার বাড়ির চারপাশের লোকজন, আমার স্কুল সবটা নিয়েই তো আমি।’

শৈশবের আরেকটি ঘটনা তিনি বিশেষভাবে স্মরণ করেছেন— ঠাকুরদার মৃত্যুর রাত।

তিনি লিখেছেন, ‘মা ডেকে দেয়ায় বারান্দায় এসে দেখি, ঠাকুরদাকে খাটসুদ্ধ উঠোনে শোয়ানো হয়েছে।...এরই মধ্যে আমাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। শোরগোল পড়ে গেল।... দেখা গেল, আমি লেপ জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে আছি। কখন ফাঁকতালে ঢুকে গেছি ঠাকুরদার লেপের তলায়। এভাবেই মৃত্যুর সঙ্গে আমার প্রথম আলাপ।’

এই মৃত্যু-সান্নিধ্যের অভিজ্ঞতাই তার সাহিত্যে বারবার ফিরে এসেছে— বিশেষ করে নীলকণ্ঠ পাখির খোঁজে উপন্যাসের সেই দীর্ঘ মৃত্যুর দৃশ্যে, যেখানে বুড়োকর্তার মহাপ্রয়াণের সময় গোটা গ্রাম জড়ো হয়, আর পাগল জ্যাঠামশাইকে জ্যেঠিমা ডেকে বলেন, ‘বাবা, বাবা, আপনি আশীর্বাদ করুন আপনার পাগল ছেলেকে।’ এই দৃশ্যই মনে করিয়ে দেয়, অতীনের শৈশবের স্মৃতি কীভাবে তার সাহিত্যের গভীরে প্রোথিত হয়ে আছে।

৩.

দেশভাগের পর ছিন্নমূল হয়ে অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়রা চলে যান ভারতে। পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের বানজেটিয়া গ্রামে গড়ে ওঠা মণীন্দ্র কলোনিতে পিতার বাড়িতে কিছুকাল থিতু হয়ে থাকেন। এখান থেকেই দেন প্রবেশিকা পরীক্ষা।

দেশভাগের সময়কার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে তিনি বলেছিলেন, ‘গ্রামের মুসলমানরা একধার থেকে ভেঙে পড়ে পথ আগলে ছিলেন আমাদের। বারবার কাতর গলায় বলেছেন, কেন আপনারা দেশ ছেড়ে যাবেন। আমরা আছি, কিছু হবে না আপনাদের। পরস্পর চোখের জলে বিদায় নিয়েছি। তাড়া খাওয়া, হানাহানির মধ্যে পড়তে হয়নি একবারও।’

কিন্তু উদ্বাস্তু জীবনের কষ্ট তাকে নাড়া দিয়েছিল গভীরভাবে। পরিবারের সবাই কাজ হারিয়েছিলেন। বাবা ওপারে (বাংলাদেশে) মুড়াগ্রাম জমিদার বাড়ির আদায়পত্রের কাজ করতেন। এপারে (মুর্শিদাবাদে) পায়ের তলায় মাটি চাই, রুটি-রুজির ব্যবস্থা দরকার। তখন কাশিমবাজার রাজাদের জঙ্গল বিক্রি হচ্ছে। বানজেটিয়ার জঙ্গলের ২৫ বিঘা বাবা আর সোনা-জ্যাঠা ৫০০ টাকায় কিনে নিলেন। জঙ্গল সাফ করে চাষ হবে, ঘর তুলতে হবে। এই বাস্তব অভিজ্ঞতাই পরে মানুষের ঘরবাড়ি উপন্যাসে উঠে এসেছে।

উপন্যাসে উদ্বাস্তু পরিবারের সংকট চিত্রিত হয়েছে এভাবে: ‘আমরা ছিন্নমূল মানুষ, সব দেশের স্বার্থে, এটা কত বড় আত্মত্যাগ! আমাদের আবার ভাড়া কি।’ এই পঙক্তি দেশভাগের যন্ত্রণাকে ব্যক্তিগত থেকে সর্বজনীন স্তরে উন্নীত করে— একটি পরিবারের উদ্বাস্তু-বোধ গোটা জাতির আত্মত্যাগের আখ্যানে পরিণত হয়।

মানুষের ঘরবাড়ি উপন্যাসে উদ্বাস্তু জীবনের যে চিত্র তিনি এঁকেছেন, তা কেবল পরিসংখ্যান নয়— তা হলো প্রতিদিনের বেঁচে থাকার সংগ্রামের খতিয়ান।

উপন্যাসের বর্ণনায় পাওয়া যায়: ‘আমাদের খাওয়া-দাওয়াটা এখন কোনো নিয়মমাফিক ব্যাপার নয়! ভাত খাওয়াটা আমাদের কাছে ভোজের মতো। ভাত না থাকলে, বনআলু না পাওয়া গেলে শুধু গাছের পেঁপে সিদ্ধ করে খাওয়া।’

এই সাধারণ বাক্যটিই উদ্বাস্তু জীবনের নির্মম বাস্তবতা পাঠকের হৃদয়ে পৌঁছে দেয়। শুধু মানুষের ঘরবাড়ি নয়, নীলকণ্ঠ পাখির খোঁজে উপন্যাসেও এই জঙ্গল সাফ করে ঘর তোলার অভিজ্ঞতা প্রতিফলিত হয়েছে।

দেশভাগের সময়কার এক ঘটনা তিনি বিশেষভাবে স্মরণ করেছেন— গ্রাম ছাড়ার সময় তার বড় জ্যাঠা, যিনি মস্তিষ্কবিকৃত ছিলেন, তিনি ওপারেই নিখোঁজ হয়ে যান। এই ঘটনা তার মনে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করেছিল। নীলকণ্ঠ পাখির খোঁজে উপন্যাসের পাগল জ্যাঠামশাই মণীন্দ্রনাথের চরিত্রে এই ঘটনার ছায়াপাত আছে। উপন্যাসের সেই মর্মান্তিক দৃশ্যে জ্যেঠিমা পাগল ছেলেকে নিয়ে স্বামীর শেষ সময়ে কাঁদছেন— সেই ব্যক্তিগত যন্ত্রণাই সাহিত্যের ভাষার গুণে সবার বেদনা হয়ে ওঠে।

৪

অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়ের যৌবন কেটেছে এক যাযাবরের মতো।

আইএ পাস করার সঙ্গে সঙ্গে তিনি চাকরির চেষ্টা করতে থাকেন। পরিবারে তখন ভীষণ আর্থিক অনটন। সরকার থেকে মাসিক ২০ টাকা ক্যাশ-ডোল দেওয়া হত উদ্বাস্তু পরিবারপিছু। কিন্তু বাবা নিতে রাজি ছিলেন না— বিনা পরিশ্রমে কোনো টাকা নিতে তিনি রাজি নন। চোখের সামনে নিজের লোকেদের অনাহার সহ্য করা যায় না। তাই জাহাজে কলবয়ের চাকরি নিয়ে চলে যান। নানা দেশে, বন্দরে ঘুরেছেন— শ্রীলংকা, ইস্ট আফ্রিকায় ডারবান, কেপটাউন, দক্ষিণ আমেরিকার ব্রাজিল, আর্জেন্টিনার বুয়েন্সআয়ার্স, তারপর পেরু। এই জাহাজের জীবনের অভিজ্ঞতাই তার প্রথম উপন্যাস ‘সমুদ্র মানুষ’-এর উপাদান।

পরে কখনো ট্রাক-ক্লিনারের কাজ, কখনো প্রাথমিক স্কুলে শিক্ষকতা, কখনো কারখানার ম্যানেজার, কখনো প্রকাশনা সংস্থার উপদেষ্টা— করেননি কী? শেষমেশ অমিতাভ চৌধুরীর আহ্বানে যোগ দেন কলকাতার ‘যুগান্তর’ পত্রিকায় সাংবাদিকতার কাজে এবং সেখান থেকেই কর্মে অবসর নেন।

১৯৫৬ সালে কৃষ্ণনাথ কলেজ থেকে বি.কম. পাস করেন এবং পরে বি.টি. পাস করেন। বি.টি. পড়ার সময়ই আলাপ হয় সহপাঠী ‘মমতা’র সঙ্গে, পরে তাকে বিয়ে করেন। জাহাজের জীবন সম্পর্কে তিনি বলেছিলেন, ‘সঠিক হিসাব দেওয়া মুশকিল। সমুদ্রের মাঝে দিন-রাত গুলিয়ে যেত। ঋতু টের পেতাম না। যতদূর দৃষ্টি যায় উত্তাল জলরাশি, বিপুল আলস্য আসত শরীরে। দিনের হিসাব করতে ইচ্ছে হতো না। কখনো-সখনো আপার ডেকে টাঙানো নোটিস বোর্ড থেকে জেনে আসতাম আজ কত তারিখ। বেশ কয়েকবার সমুদ্রঝড়, সাইক্লোনে পড়েছি। ঝড় থামলে বেঁচে যে আছি, বিশ্বাস করতেই অনেকক্ষণ কেটে যেত। আমাদের জাহাজটাও ছিল জোড়াতালি দেওয়া। তরুণ অবস্থায় জাহাজে উঠেছিলাম, ফিরলাম পূর্ণ যুবক হয়ে।’

এই অভিজ্ঞতাই তার সমুদ্র মানুষ এবং ‘অলৌকিক জলযান’ উপন্যাসের প্রাণভোমরা। অলৌকিক জলযান সম্পর্কে সমালোচকরা বলেছেন, এটি এমন এক উপন্যাস যেখানে ‘কল্পনা ও বাস্তবতা এক অপূর্ব সেতুবন্ধনে মিলিত হয়েছে।’ উপন্যাসে জাহাজ কেবল একটি বাহন নয়, ‘এটি এক সময়চক্র, যা মানুষের অন্তর্দ্বন্দ্ব, বেঁচে থাকার লড়াই ও স্বপ্নের প্রতীক।’ এই বিচিত্র কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা তার সাহিত্যে এক বিশেষ বাস্তবতা এনে দিয়েছে— তিনি যখন জাহাজের কথা লেখেন, তখন পাঠক টের পান লেখক নিজেই সেই ডেকের উপর দাঁড়িয়ে আছেন; যখন কারখানার কথা লেখেন, তখন ম্যানেজারের ঘরের গন্ধ পর্যন্ত পাঠক অনুভব করতে পারেন।

৫.

সাহিত্যের প্রতি অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুরাগ কলেজে পড়ার সময় থেকেই— বহরমপুর কলেজে বন্ধুরা খুব সাহিত্যচর্চা করত। তিনি নিজেই লিখেছেন— ‘বাড়িতে ‘দেশ’ পত্রিকা আসত। রাখাও হতো বিল্বপত্রের মতো! তখন দেশ পত্রিকা খুব পড়ি’। ততদিনে অবশ্য জাহাজ থেকে ফিরে এসেছেন। বন্ধুরা চেপে ধরল তাকে, ‘তুই একটা গল্প লেখ। তোর জাহাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখ’।

তিনি বললেন, ‘আমি কী লিখব! গল্প লেখার নিয়মকানুন-কৌশল কিছুই জানি না’। এক বন্ধু বলল,‘তুই যেমন আমাদের সামনে বসে জাহাজের গল্প বলছিস, এভাবে লেখ’।

অতীন বন্দ্যোপাধ্যায় লিখলেন,‘কার্ডিফের রাজপথ’। ওয়েলসের বন্দর শহর নিয়ে লেখা। বন্ধুদের ‘অবসর’ পত্রিকায় ছাপা হলো। সেই তার প্রথম গল্প। এর পরের গল্প ছিল ‘বাদশা মিঞা’। বহরমপুরের কলেজের বন্ধুদের আগ্রহে ‘উল্টোরথ’ পত্রিকায় উপন্যাস প্রতিযোগিতায় জাহাজের জীবন নিয়ে প্রথম উপন্যাস সমুদ্র মানুষ লিখেই ১৯৫৮ সালে ‘মানিক-স্মৃতি পুরস্কার’ পান।

এর আগের বছরও তিনি দ্বিতীয় হয়েছিলেন। প্রথম হয়েছিলেন মতি নন্দী এবং তৃতীয় পূর্ণেন্দু পত্রী। পুরস্কার নিতে এসে বিচারক লীলা মজুমদার, নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়রা বলেছিলেন,উপন্যাসটা কোনো বাঙালির লেখা বলে আমাদের মনে হয়নি। অল্প বয়সী বাঙালির এত দেশ, বিদেশ, সমুদ্রের অভিজ্ঞতা কোথায়? সন্দেহ হচ্ছিল কাহিনিটা কোথাও থেকে চুরি কিনা।

বন্ধুরা বলেছিল, ‘ওই সন্দেহেই তোকে থার্ড পজিশনে দিয়েছে’।

এই ঘটনাটি প্রমাণ করে, তার অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার কতটা বিস্তৃত ছিল— যা তখনকার বাংলা সাহিত্যে বিরল। এই পুরস্কার প্রাপ্তির পর কলকাতার অনেকেই নাক কুঁচকেছিলেন— কোথাকার এক গ্রামের ছেলে এতজনের মধ্য থেকে পুরস্কার নিয়ে চলে গেল। তারা সব ইন্টেলেকচুয়াল। এই অভিজ্ঞতা তাকে বিনয়ী করে রেখেছিল।

তিনি বলেছিলেন, ‘কনফিডেন্স আজও আমার নেই। এটুকু বুঝলাম, যা লিখি, তা-ই লেখা হয়ে যায়। ভেতরে একটা তার, মানে তন্ত্রীতে কম্পন তৈরি হলেই লেখা আপনিই সঠিক পথে চলতে শুরু করে।’

তার সাহিত্যজীবনের প্রথম পর্বে সমুদ্র মানুষ ছাড়াও কার্ডিফের রাজপথ ও ‘বাদশা মিঞা’ নামে দুটি গল্প তিনি লিখেছিলেন, যা পরবর্তী সময়ে গল্পগ্রন্থে স্থান পায়। এই প্রথম পর্বের লেখাগুলোতেই তার গদ্যের সেই বিশেষ কাব্যিক অবলোকনের বীজ নিহিত ছিল, যা পরে পূর্ণ বিকাশ লাভ করে।

দেশভাগের যন্ত্রণা কেবল তার নিজের ছিল না— সেই যন্ত্রণা ছিল লাখো মানুষের। তিনি সেই যন্ত্রণাকে শিল্পের ভাষা দিয়েছেন, আর সেই ভাষাই আজ লাখো পাঠকের হৃদয়ে বেঁচে আছে

৬.

অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাহিত্যের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপনটির নাম নীলকণ্ঠ পাখির খোঁজে। এটি মূলত চারটি সিরিজে বিন্যস্ত— প্রথম পর্ব ‘নীলকণ্ঠ পাখির খোঁজে’, দ্বিতীয় পর্ব ‘মানুষের ঘরবাড়ি’, তৃতীয় পর্ব ‘অলৌকিক জলযান’ এবং চতুর্থ পর্ব ‘ঈশ্বরের বাগান’।

দেশভাগের যন্ত্রণা নিয়ে লেখা এই উপন্যাসে ছিন্নমূল মানুষের জীবন, তাদের সংগ্রামী বিষয় এবং পটভূমিসহ জীবনের রোমাঞ্চকর অভিযানের লৌকিক-অলৌকিক উপলব্ধি সুন্দরভাবে পরিস্ফুট হয়েছে। এই উপন্যাস নিয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘নিরপেক্ষ হতে সময় লেগেছিল আমার। বাধ্য হয়ে দেশত্যাগের জন্য অন্য উদ্বাস্তুদের মতো আমিও মুসলিমদের দায়ী করতাম।... দিন যেতে উপলব্ধি করলাম, প্রত্যেক জনজাতি তাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে চায়। এই যে লাখে লাখে মানুষ এপারে চলে এল, তার মূল কারণ নিরাপত্তাহীনতা। ইজ্জত বাঁচানোর তাগিদ। ঘটনা এতটা ভয়াবহ ছিল না।’

এই নিরপেক্ষতা অর্জন করতে তাকে প্রায় কুড়ি বছর অপেক্ষা করতে হয়েছিল। তিনি বলেছিলেন, ‘নিরপেক্ষ হতে না পারা অবধি কোনো শিল্প সৃষ্টিতে হাত দেওয়া উচিত নয়।’

উপন্যাসটি পাঠকের কাছে এত প্রিয় কেন, সে সম্পর্কে তিনি বলেছিলেন, ‘তার কারণ কী জানো, ওখানে যেসব চরিত্র আছে, তারা কেউ কেউ রক্তের সম্পর্কের, বাকিরা পাশের বাড়ির অথবা আমার গ্রামের পাশের গ্রামের লোক। প্রকৃতি আমার আশপাশের গ্রামের। এখনো চোখ বুজলে গোটা অঞ্চলটা আমি দেখতে পাই।’

উপন্যাসের শেষে সোনার যে চিঠি রেখে যাওয়ার দৃশ্য—‘জ্যাঠামশাই, আমরা হিন্দুস্থান চলিয়া গিয়াছি, ইতি সোনা’—তা দেশভাগের ইতিহাসে এক চিরস্থায়ী বিদায়ের দলিল। উপন্যাসের আরেকটি মর্মান্তিক দৃশ্যে বুড়োকর্তার মৃত্যুকে ঘিরে গোটা গ্রামের মানুষ জড়ো হয়— তারিণী সেন ঘোড়ায় চড়ে আসেন, রায়মশাইরা ব্রাহ্মন্দী থেকে ছুটে আসেন, গোপালদি থেকে আসেন অর্জুন সাহা, লতব্দি থেকে অম্বিকা রায়, হাজিসাহেব তার দুই ছেলে নিয়ে আসেন। এই সমবেত শোকের দৃশ্যই গ্রামবাংলার সামাজিক বন্ধনের চিত্র।

৭.

অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়ের গল্প-উপন্যাসে অধিকাংশ সময় প্রধান চরিত্র তিনি নিজে— শুধু নামটা বদলে দিয়ে। এই প্রবণতা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেছিলেন, ‘সেটা করতে পারে যে কোনো লেখক। তবে আমার বিশ্বাস, আমি যা জানি, সেটুকুই লিখতে পারি। অভিজ্ঞতার বাইরে গেলেই...দেখাটা লেখকের মতোই হয়ে যায়। লেখকের অভিজ্ঞতা অনুভূতির ভিত্তিতে। রিকশাওয়ালার জীবনযাপন, মন, মেধা ওপর থেকে দেখে কতটা বোঝা সম্ভব? ব্যাপারটা আমার কাছে কৃত্রিম লাগে।’

তবে তিনি চেষ্টাও করেছিলেন। ‘শেষ দৃশ্য’ উপন্যাসে ডোমেদের জীবন নিয়ে লিখেছিলেন— ছয়-সাত মাস তাদের জীবন খুব কাছ থেকে দেখেছেন, তাদের কাজে হাত লাগিয়েছেন। মরদেহ পঁচিয়ে কঙ্কাল বের করে বিক্রি করত তারা। উপন্যাসটা পাঠকদের ভালো লেগেছিল।

শীর্ষেন্দু বলেছিল, এ রকম একটা লেখা লিখতে পারলে আমি আর লিখতাম না। উৎসাহ পেয়েছিলেন ঠিকই। কিন্তু তিনি নিশ্চিত ছিলেন, চরিত্রগুলোকে তিনি পুরোটা চিনতে পারেননি। ওদের এবং পাঠকদের প্রতি অবিচার করেছেন।

উপন্যাসটির ডোম সম্প্রদায়ের চিত্রায়ণে তিনি দেখিয়েছেন, কীভাবে দারিদ্র্য মানুষের মর্যাদা কেড়ে নেয়।

উপন্যাসের শুরুটাই এক অন্য জগতের দরজা খুলে দেয়: ‘এক হরিদ্বার থেকে কোনো একদিন ওরা রওনা হয়েছিল— ওরা অন্তত তাই বলে। প্রয়াগ বারাণসীর পথ ধরে গঙ্গার ধারে ধারে ওরা ডেরা বেঁধেছিল।’ এই ডোমেদের জগতে ‘ছেঁড়া কাঁথাটাই দরজার মতো কাজ করছে। ছেঁড়া কাঁথাটা তেলচিটে নোংরা। কোথাও পোড়া— চিতার আগুনের দাগ। তবু এটাই ওদের দরজার আব্রু, মনের আব্রু, চটানের ভালোবাসার আব্রু।’ এই বাক্যই বলে দেয়, দারিদ্র্যের মধ্যেও মানুষের মর্যাদা ও ভালোবাসার স্পৃহা কীভাবে টিকে থাকে।

তার আত্মজৈবনিকতার আরেকটি দিক হলো, তিনি নিজের জীবনের ‘ভুল’গুলোও সাহিত্যে রূপ দিয়েছেন। জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে তিনি বলেছিলেন, ‘আমার গোটা জীবনটাই তো ভুলে ভরা। কোনটা শোধরাব।’

৮.

অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়ের গদ্যের একটি বিশেষত্ব হলো তার কাব্যিক অবলোকন। এটা কীভাবে আয়ত্ত করলেন, জানতে চাইলে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি খুব সাধারণ গদ্যে বাক্য লিখতে পারি না। আমার ভেতর একটা এলোমেলো ব্যাপার আছে। এগুলোই হয়তো এক ধরনের কাব্যের রূপ নেয়। কাব্য হিসেবে আমি লিখছি না, অথচ হয়ে যাচ্ছে। রবীন্দ্রনাথ থেকে যে চালু গদ্য চলে আসছে, সেটা আমি কিছুতেই লিখতে পারি না। একটা দরখাস্তও গুছিয়ে লিখতে পারি না আমি।’

তার প্রিয় সাহিত্যিকদের মধ্যে অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বুড়ো আংলা’ পড়ে তিনি যেভাবে অভিভূত হয়েছেন, আর কোনো লেখা পড়ে অতটা হননি। এছাড়া বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, বিমল মিত্র, রমাপদ চৌধুরী, সমরেশ বসু ছিলেন তার প্রিয়।

রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে তিনি বলেছিলেন, ‘রবীন্দ্রনাথ তো বিশাল ব্যাপার। এক সারিতে বসাই কী করে! তবে ওর উপন্যাস নিয়ে আমার রিজার্ভেশন আছে। ডায়ালগ পোর্শন বড় পোশাকি। রবীন্দ্রনাথের গান অসাধারণ। রবীন্দ্রসংগীত শুনতে শুনতে লেখা একসময় আমার অভ্যাস ছিল। একটি টিউন তৈরি হয়ে যেত মনে মনে।’

অলৌকিক জলযান-এ জাহাজের একাকীত্ব ও যন্ত্রণার যে চিত্র তিনি এঁকেছেন, তা বাংলা সাহিত্যে বিরল। দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রায় মানুষ কীভাবে যন্ত্রে পরিণত হয়, কীভাবে তার মনুষ্যত্ব ক্ষয় হতে থাকে— এই মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ তিনি নিজের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই করতে পেরেছিলেন।

সমালোচকদের মতে, উপন্যাসটিতে জাহাজের ভেতরের ‘একাধিক ভয়াবহ জায়গা’ রয়েছে, যা দীর্ঘদিন জাহাজে থাকা অনেকেরই অজানা— আর অতীন বন্দ্যোপাধ্যায় ‘ধীরে ধীরে উন্মোচন করেছেন তার সেই দীর্ঘ জাহাজ জীবন যাত্রার অভিজ্ঞতা।’

তার গদ্যভাষার আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো যতিচিহ্নের স্বাধীন ব্যবহার। তিনি যেখানে প্রয়োজন মনে করেছেন, সেখানে দাঁড়ি টানেননি। আবার যেখানে সাধারণত দাঁড়ি টানা হয়, সেখানে টানেননি। এই স্বাধীনতা তার গদ্যকে এক বিশেষ ছন্দ দিয়েছে। পাঠক টের পান, এই গদ্য যেন শ্বাস নিচ্ছে— কখনো দ্রুত, কখনো ধীরে। এই কাব্যিক গদ্যেই তিনি লিখেছেন মানুষের ঘরবাড়ি’র সেই বিখ্যাত বাক্য— ‘খোঁড়া গরুটাকে নিয়ে আসার পর বাবার ঘরবাড়ি ষোলকলা পূর্ণ হয়ে গেল। কারণ অভাব বলতে তার তখন সন্তান-সন্ততিদের পাতে একটু দুধ দেওয়াই ছিল প্রাণাধিক ইচ্ছা।’

এই এক বাক্যেই এক গোটা পরিবারের অভাব-অনটন, পিতার স্বপ্ন ও সংগ্রামের কথা ধরা পড়ে যায়।

৯.

অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাহিত্যে যৌনতা প্রায়ই বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে। ‘এটা আমার একেবারে স্বাভাবিক। সুদীর্ঘকাল ধরে আমি যেটা উপলব্ধি করেছি, আমরা যে সংঘবদ্ধ হয়ে আছি, তার কারণ, এর মধ্যে একটি নারী আছে। যদি নারী না থাকত, তাহলে এ সমাজ, রাজনীতি, শিল্প সৃষ্টি কিছুই থাকত না। এ থাকাটাই মূল্যবান। আর এর কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে যৌনতা। আমি মনে করি, যৌনতাই প্রাণ, যৌনতাই সৃষ্টির উৎস, যৌনতাই ঈশ্বর। যৌনতা আমার কাছে ভোগের বস্তু নয়’, বলেছিলেন তিনি।

অলৌকিক জলযান-এ যে হোমোসেক্সুয়ালিটির ইঙ্গিত পাওয়া যায়, সে সম্পর্কে বলেছিলেন, ‘এটাকে বোধহয় ঠিক হোমোসেক্সুয়ালিটি বলা যায় না। দীর্ঘদিন নারী বিবর্জিত হয়ে সমুদ্রে কাটালে এক ধরনের হ্যালুসিনেশন, ইলিউশন তৈরি হয়। পুরুষের মধ্যে নারীর ইমেজ খোঁজে নাবিক। জাহাজের যে কিশোরটির প্রতি অনুরাগ তৈরি হয়েছিল আমার, তারও হয়েছিল আমার ওপর। সে আসলে নারীই ছিল। ছদ্মবেশে থাকত, উপন্যাসের শেষের দিকে আমি দেখিয়েছি।’

এই স্বীকারোক্তি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ— এটি প্রমাণ করে, তার সাহিত্যে যৌনতা কখনোই কৌতূহলোদ্দীপক উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়নি, বরং মানবিক সম্পর্কের জটিলতা ও নিঃসঙ্গতার গভীরতাকে প্রকাশ করার হাতিয়ার হিসেবে কাজ করেছে। তার মতে, ‘যৌনতাই প্রাণ, যৌনতাই সৃষ্টির উৎস, যৌনতাই ঈশ্বর।’

এই দর্শন তার সাহিত্যের গভীরে কাজ করেছে। তবে তিনি কখনো অশ্লীলতার সীমায় পা রাখেননি। তার যৌনতার চিত্রায়ণ সর্বদা মানবিক আবেগ ও সম্পর্কের জটিলতার ভেতর দিয়ে এসেছে। ‘দ্বিতীয় পুরুষ’ উপন্যাসে নারী-পুরুষের সম্পর্কের টানাপোড়েন তিনি নতুন করে আলোকপাত করেছেন। সমালোচকদের মতে, ‘এই উপন্যাসে নারী পুরুষের সম্পর্কের উপর নতুন করে আলো ফেলেছেন অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়।’

‘পঞ্চযোগিনী’ উপন্যাসেও নারীর অবস্থান ও ক্ষমতার প্রশ্ন তিনি তুলেছেন। এই কারণেই তার সাহিত্য সংবেদনশীল পাঠকের কাছেও গ্রহণযোগ্য, আরাধ্য।

১০.

অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়ের জীবন আদতে এক অস্থির যাত্রা। বারবার চাকরি ছেড়েছেন, বারবার নতুন পেশায় ঢুকেছেন। বলেছিলেন, ‘এ অস্থিরতার কারণ আর কিছুই নয়, সংসারের অভাব। যে করে হোক রোজগার করতে হবে। টাকা পাঠাতে হবে বাবাকে। বাড়ি থেকে দূরে কাজ করতে যেতে দিত না। তাই পালাতে হতো। পরিবারের অনাহারক্লিষ্ট মুখ, মা-বাবার মলিন পোশাক আমাকে ভীষণভাবে বেদনাহত করত। ওপারে কত স্বাচ্ছন্দ্যে, সম্মানের সঙ্গে ছিলেন ওঁরা। এপারে কী নিদারুণ কষ্ট! অথচ কারোর কাছে হাত পাততে পারবেন না। আমার একটাই উদ্দেশ্য ছিল, এ পরিবারটাকে রক্ষা করতে হবে।’

জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে বলেছিলেন, ‘সংসারে খারাপ অবস্থা জেনেও বারবার চাকরি ছেড়েছি। বাজে লোককে চিনতে না পেরে ঠকেছি। লিখতেও চলে এসেছি ভুল করে। যশ-খ্যাতির আগ্রহ আমার কোনোদিনই ছিল না।’ তবে এই ‘ভুলে ভরা’ জীবনই তাকে দিয়েছে অফুরন্ত অভিজ্ঞতা, যা তার সাহিত্যের মূলধন হয়ে উঠেছে।

অর্থকষ্টই তার লেখার অনুপ্রেরণা ছিল। তিনি বলেছিলেন, ‘অর্থকষ্ট। অর্থকষ্টই আমার লেখার অনুপ্রেরণা। বড় কাগজ থেকে লেখার ডাক বেশি আসেনি। ছোট কাগজে অনেক লিখে উপার্জন করতে হয়েছে।’

তিনি ছোটদের জন্যও অনেক লিখেছেন— ‘বিন্নি ধানের খই লাল বাতাসা’, ‘নীল তিমি’, ‘ফেনতুর সাদা ঘোড়া’। এমনকি থ্রিলারও লিখেছেন আনন্দবাজার রবিবাসরীয়তে ধারাবাহিক হিসেবে—‘সমুদ্রে বুনো ফুলের গন্ধ’।

রমাপদ চৌধুরীর পরামর্শে তিনি থ্রিলার লিখতে রাজি হয়েছিলেন। রমাপদ চৌধুরী বলেছিলেন, ‘একান্তই যদি অসুবিধা হয়, প্রথমেই একটা ক্যারেক্টারকে মেরে ফেলুন, মানে খুন। তাহলেই দেখবেন লেখা এসে যাচ্ছে।’ এই ঘটনাটি প্রমাণ করে, তিনি সব ধরনের লেখার প্রতি আগ্রহী ছিলেন এবং নিজের সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করতে চাইতেন।

১১.

কলকাতার লেখক বন্ধুদের মধ্যে অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পর্ক ছিল মধুর। সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, দিব্যেন্দু পালিত, বরেন গঙ্গোপাধ্যায়, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়—সবার সঙ্গে তার আড্ডা জমত। বিমল করকে ঘিরে তাদের আড্ডা হতো। তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা সবাই বিমলদার কাছে লেখালেখির এক ধরনের উত্তাপ পেতাম। বরাবরই বিমলদার লেখার আমি অনুরাগী। গদ্যে ওর পরিমিতি, সিম্বলিক অ্যাফেক্ট আমায় ভীষণ টানত।... বিমলদার প্রেসারেই আমি ‘দেশ’ পত্রিকায় অতটা গল্প লিখতে পেরেছি। ওঁর সঙ্গে আমার ছিল সাহিত্য-রক্তের সম্পর্ক।’

মতি নন্দীর সঙ্গে তার বিশেষ বন্ধুত্ব ছিল। মতিই তাকে কলকাতা চিনিয়েছে— চলন্ত ট্রামে কীভাবে নামতে হয়, উঠতে হয় শিখিয়েছে। সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সিরাজ তার প্রতিবেশী ছিলেন— বানজেটিয়ার হিজলের বিলের ওপারে সিরাজের গ্রাম। হেঁটে হেঁটে চলে আসতেন, আড্ডা হতো। সিরাজই প্রথম তাকে বলেছিলেন, ‘নীলকণ্ঠ’ লেখার আগে যে গল্পগুলো লিখছেন, সেগুলো পড়ে মনে হচ্ছে বড় কোনো কাজে হাত দিতে যাচ্ছেন।

এই ধরনের সাহিত্যিক বন্ধুত্বই তাকে ক্রমাগত লেখার প্রেরণা দিয়েছে। শীর্ষেন্দুর সঙ্গে তার সম্পর্কও গভীর ছিল। শীর্ষেন্দুর ‘দেশ’-এর প্রথম গল্প পড়ে তিনি যেচে আলাপ করেন। তারপর বন্ধুত্ব হয়ে যায়। শীর্ষেন্দু তার বাড়ির রাস্তায় এক মেসে থাকতেন, ওখানে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আড্ডা মেরেছেন। শীর্ষেন্দু তার কাশিমবাজারে রাজবাড়ির বাসায় অনেকবার এসেছেন। এই সাহিত্যিক বন্ধুত্ব তার লেখার জগৎ সমৃদ্ধ করেছে।

১২.

অতীন বন্দ্যোপাধ্যায় পেয়েছেন অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা— মানিক স্মৃতি পুরস্কার (১৯৫৮), বিভূতিভূষণ স্মৃতি পুরস্কার (১৯৯১), ভুয়ালকা পুরস্কার (১৯৯৩), বঙ্কিম পুরস্কার (১৯৯৮), সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার (২০০১), শরৎ পুরস্কার (২০০৫), সুরমা চৌধুরী আন্তর্জাতিক স্মৃতি পুরস্কার (২০০৮)।

নীলকণ্ঠ পাখির খোঁজে’র জন্য সাম্মানিক মূল্য দশ লক্ষ টাকা পেয়েছিলেন। সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেছিলেন,‘আমার আগে অনেক জুনিয়ররা পেয়ে গিয়েছে। হয়তো পেতামই না। সুনীল সাহিত্য অকাদেমির সভাপতি হওয়ায় পেলাম। তবে আমি পুরস্কার নিয়ে ভাবি না। অনেক পেয়েছি। সবচেয়ে বড় পুরস্কার এতদিন ধরে লিখে যেতে পারা। পাঠক আমাকে নিয়েছে।’

পুরস্কার সম্পর্কে এই উদাসীনতা তার ব্যক্তিত্বের একটি বড় বৈশিষ্ট্য। তিনি কখনো পুরস্কারের জন্য লেখেননি, লিখেছেন পাঠকের জন্য— এবং পাঠকও তাকে গ্রহণ করেছে।

তার অন্য উপন্যাসগুলো—‘পঞ্চযোগিনী’, ‘দ্বিতীয় পুরুষ’, ‘ঋতুসংহার’, ‘নগ্ন ঈশ্বর’, ‘দেবীমহিমা’, ‘মানুষের হাহাকার’, ‘দুঃস্বপ্ন’, ‘উপেক্ষা’—কম আলোচিত হলেও সাহিত্যিক মানের দিক থেকে কম নয়। পঞ্চযোগিনী’র জন্য তিনি ১৯৯৩ সালে ভুয়ালকা পুরস্কার পান। ‘দুই ভারতবর্ষ’ উপন্যাসের জন্য ১৯৯৮ সালে বঙ্কিম পুরস্কার।

ঋতুসংহার উপন্যাসে তিনি প্রকৃতির চক্র ও মানুষের জীবনের সংযোগকে এক নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখেছেন। দ্বিতীয় পুরুষ উপন্যাসে প্রজন্মের ব্যবধান ও মূল্যবোধের সংঘাত চিত্রিত হয়েছে। এই উপন্যাসগুলোর মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেছেন, তিনি কেবল দেশভাগের লেখক নন— তিনি জীবনের সমগ্রতার লেখক।

১৩.

২০১৯ সালের ১৮ জানুয়ারি শুক্রবার বাথরুমে পড়ে যাওয়ার কারণে তার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়। ভর্তি হন কলকাতার পোর্ট ট্রাস্টের সেন্টিনারি হাসপাতালে। পরদিন শনিবার, ১৯ জানুয়ারি বিকাল ৩টা ৪০ মিনিটে ৮৫ বছর বয়সে মারা যান।

তার জীবনটা শেষমেশ যেন নীলকণ্ঠ পাখির খোঁজে উপন্যাসের চরিত্র তার পাগল বড় জ্যাঠামশাই মণীন্দ্রনাথের একমাত্র অবলম্বন ‘গ্যাৎচোরেৎশালা’র মতো হয়ে গিয়েছিল। মৃত্যুর আগে তিনি বলেছিলেন, ‘এই যে, যে বাড়িতে আমি এখন আছি, প্রায় ৪০ বছর হয়ে গেল, সেটা আইনত সরকারের জমি। পাট্টা পাইনি। অথচ আমি কিনেছিলাম একটা কৃষি সমবায় থেকে। পরে জানা গেল, সমবায়ের স্বীকৃতি তুলে নিয়েছে সরকার। হিসাবমতো আমি আজও উদ্বাস্তু!’

এই উদ্বাস্তু-বোধই তার জীবনভর সঙ্গী হয়েছিল— দেশভাগের উদ্বাস্তু থেকে নিজের বাড়ির উদ্বাস্তু। মৃত্যুর সময়ও তিনি উদ্বাস্তু। এই বিদ্রূপাত্মক পরিণতি তার জীবনের এক অমোঘ বাস্তবতা। তার প্রিয় উপন্যাসের চরিত্র সোনার মতো তিনিও সারাজীবন একটি ঠিকানা খুঁজেছেন— কখনো গ্রামের বাড়ির, কখনো নিজের দেশের, কখনো নিজের ঘরের। আর সেই খোঁজই তার সাহিত্যের মূল বিষয় হয়ে উঠেছে।

নীলকণ্ঠ পাখির খোঁজে পড়লে আজও পাঠক সেই গ্রামের বাতাস গায়ে মাখতে পারেন, সেই নদীর জলে হাত ডুবাতে পারেন। মানুষের ঘরবাড়ি পড়লে আজও পাঠক উদ্বাস্তু জীবনের সেই নির্মম বাস্তবতা অনুভব করতে পারেন— যেখানে ‘ভাত খাওয়াটা ভোজের মতো।’ শেষ দৃশ্য পড়লে আজও পাঠক ডোমেদের সেই জগতে ঢুকে পড়েন, যেখানে ‘ছেঁড়া কাঁথাটাই দরজার আব্রু।’

১৪.

সামগ্রিকভাবে, অতীন বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলা কথাসাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ। তার সাহিত্যে গ্রামবাংলার আটপৌরে সহজ জীবন অনেক বেশি করে ধরা দিয়েছে। তাই তার মধ্যে অনেকে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উত্তরাধিকার খুঁজে পান।

তার ভাষায়, ‘আমার সাহিত্যের যোগান তো রাইনাদি, পূর্ব বাংলার জল হাওয়া। ওটা তো আমার জন্মভূমি। ভুলে যাই কি করে? ওখানে আমি সাড়ে ১৭ বছর থেকেছি। আমার পুকুর, গাছপালা, ঠাকুরদার শ্মশান, আমার বাড়ির চারপাশের লোকজন, আমার স্কুল সবটা নিয়েই তো আমি।’

এই জন্মভূমির টান, এই স্মৃতির ভারই তার সাহিত্যের প্রাণ। দেশভাগের যন্ত্রণা তাকে উদ্বাস্তু করেছে, কিন্তু সেই যন্ত্রণাই তাকে দিয়েছে অমর সাহিত্য।

তার জীবন ও সাহিত্য একই সূত্রে গ্রথিত: উদ্বাস্তু-বোধ, গ্রামবাংলার প্রতি টান, মানুষের প্রতি ভালোবাসা এবং শিল্পের প্রতি নিরন্তর আনুগত্য। এই সমন্বয়েই অতীন বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলা সাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ হয়ে আছেন এবং থাকবেন।

তার লেখা আমাদের শেখায়, কীভাবে ব্যক্তিগত যন্ত্রণাকে সর্বজনীন শিল্পে রূপান্তরিত করতে হয়।

দেশভাগের যন্ত্রণা কেবল তার নিজের ছিল না— সেই যন্ত্রণা ছিল লাখো মানুষের। তিনি সেই যন্ত্রণাকে শিল্পের ভাষা দিয়েছেন, আর সেই ভাষাই আজ লাখো পাঠকের হৃদয়ে বেঁচে আছে। নীলকণ্ঠ পাখির খোঁজে উপন্যাসটি যখন প্রকাশিত হয়, তখন পাঠক তার মধ্যে নিজের দেশভাগের যন্ত্রণা খুঁজে পেয়েছিলেন। আজও নতুন প্রজন্মের পাঠক সেই একই যন্ত্রণা অনুভব করেন— কারণ দেশভাগের ক্ষত কখনো সম্পূর্ণ শুকায় না।

অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়জন্মদিনের স্মরণনীলকণ্ঠ পাখির খোঁজে
    আগামীর সময় ইপেপার
    শেয়ার করুন:
    সহজ হলো ভারতীয় ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া

    সহজ হলো ভারতীয় ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া

    চীনা যুদ্ধবিমান আসছে আগামী বছরই

    চীনা যুদ্ধবিমান আসছে আগামী বছরই

    জমি মেয়েদের দেওয়ায় ঘরে তালা দিল ভাই, বৃদ্ধের এখন ঠাঁই নাই

    জমি মেয়েদের দেওয়ায় ঘরে তালা দিল ভাই, বৃদ্ধের এখন ঠাঁই নাই

    রাজধানীতে যাত্রীবাহী বাসে আগুন

    রাজধানীতে যাত্রীবাহী বাসে আগুন

    মধ্যরাতে হোম ইকোনমিকস কলেজের অধ্যক্ষকে উদ্ধার, ছাত্রীকে চুল ধরে টেনে নামানোর অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে

    মধ্যরাতে হোম ইকোনমিকস কলেজের অধ্যক্ষকে উদ্ধার, ছাত্রীকে চুল ধরে টেনে নামানোর অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে

    পুলিশ গিয়েছিল, যাননি ইউএনও; ‘গার্ড অব অনার’ ছাড়াই হলো বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফন

    পুলিশ গিয়েছিল, যাননি ইউএনও; ‘গার্ড অব অনার’ ছাড়াই হলো বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফন

    সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় নারী-শিশুসহ ৭ বাংলাদেশি নিহত

    সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় নারী-শিশুসহ ৭ বাংলাদেশি নিহত

    শেখ হাসিনার ফেরার ঘোষণা দিয়ে ছাত্রলীগের মাইকিং

    শেখ হাসিনার ফেরার ঘোষণা দিয়ে ছাত্রলীগের মাইকিং

    তদন্তে ‘দিশা দেখাচ্ছেন’ দিশা

    তদন্তে ‘দিশা দেখাচ্ছেন’ দিশা

    রাষ্ট্র সংস্কারে জিয়ার ভূমিকা ও আজকের বাংলাদেশ

    রাষ্ট্র সংস্কারে জিয়ার ভূমিকা ও আজকের বাংলাদেশ

    নোয়াখালী রুটে চালু হচ্ছে নতুন ট্রেন ‘সুবর্ণচর এক্সপ্রেস’

    নোয়াখালী রুটে চালু হচ্ছে নতুন ট্রেন ‘সুবর্ণচর এক্সপ্রেস’

    ব্যানারে শহীদ জিয়ার ছবি নেই, শেখ মুজিবকে ‘জাতির পিতা’ বলায় হট্টগোল

    ব্যানারে শহীদ জিয়ার ছবি নেই, শেখ মুজিবকে ‘জাতির পিতা’ বলায় হট্টগোল

    এনসিপিতে অস্থিরতা : নতুন রাজনীতির স্বপ্ন কি ফিকে হচ্ছে

    এনসিপিতে অস্থিরতা : নতুন রাজনীতির স্বপ্ন কি ফিকে হচ্ছে

    ডেঙ্গু: মায়ের কোলে ফিরেই না ফেরার দেশে পড়ুয়া অরূপ

    ডেঙ্গু: মায়ের কোলে ফিরেই না ফেরার দেশে পড়ুয়া অরূপ

    ‘রোহিঙ্গা সংকট মূলত রাজনৈতিক সমস্যা, মানবিক নয়’

    ‘রোহিঙ্গা সংকট মূলত রাজনৈতিক সমস্যা, মানবিক নয়’