এবার আদর্শিক বিচ্যুতির অভিযোগ তুলে এনসিপি ছাড়লেন শিশির

মোস্তাক আহমেদ শিশির—সংগৃহীত ছবি
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ঢাকা মহানগর উত্তরের সাংগঠনিক সম্পাদক পদসহ দলটির সব পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন প্রতিষ্ঠাতা সংগঠক মোস্তাক আহমেদ শিশির।
দলের নৈতিক ও আদর্শিক বিচ্যুতি, সাংগঠনিক অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটের সিদ্ধান্তকে পদত্যাগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।
আজ শনিবার ফেসবুকে দেওয়া এক বিদায়ী বার্তায় পদত্যাগের ঘোষণা দেন মোস্তাক আহমেদ শিশির। তিনি এনসিপির ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক প্রধান অঞ্চল তত্ত্বাবধায়ক এবং সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।
পদত্যাগের ঘোষণায় শিশির বলেছেন, ‘২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় নিয়ে দলের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে কাজ শুরু করেছি। প্রতিষ্ঠাতা সংগঠক হিসেবে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে বিভিন্ন দায়িত্বও পালন করেছি।’
‘তবে সময়ের পরিক্রমায় দলের নৈতিক ও আদর্শিক বিচ্যুতি, অসাংগঠনিক ও অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, অনিয়ম-দুর্নীতি এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির অনুপস্থিতি হতাশ করেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এনসিপির প্রাথমিক আদর্শিক অবস্থান ও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক’, যোগ করেন তিনি।
শিশির আরও বলেন, শহীদদের রক্তের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং যে আদর্শিক অঙ্গীকার নিয়ে পথচলা শুরু হয়েছিল, তার সঙ্গে বর্তমান রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক বাস্তবতার সমন্বয় খুঁজে না পাওয়ায় দলের সঙ্গে আর পথচলা সম্ভব হচ্ছে না। কোনো ব্যক্তিগত অভিমান কিংবা পদ-পদবির প্রত্যাশা থেকে নয়; বরং সম্পূর্ণ আদর্শিক ও নৈতিক অবস্থান থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
বিদায়ী বার্তায় এনসিপি ছেড়ে যাওয়া নেতাদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আদর্শিক কারণে যারা আগে দল ছেড়েছিলেন, তাদের নিয়ে তখন বলা হয়েছিল, বিএনপির সঙ্গে জোট করতে না পেরেই তারা দল ছেড়েছেন। কিন্তু সময়ই প্রমাণ করে দিচ্ছে, তারা সঠিক ছিলেন নাকি ভুল।
তিনি উল্লেখ করেন, দল ছেড়ে যাওয়া নেতারা তখন বলেছিলেন, একটি আসনে জয়ী না হলেও তারা সারা দেশে নতুন নেতৃত্ব তৈরি করতে চান এবং স্বতন্ত্র বাংলাদেশপন্থী রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে চান। তার মতে, এটাই ছিল চব্বিশের আকাঙ্ক্ষা এবং নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের মূল ভিত্তি।
এদিকে এনসিপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মোস্তাক আহমেদ শিশির গত পাঁচ মাসের বেশি সময় ধরে সাংগঠনিক কার্যক্রমে নিষ্ক্রিয় ছিলেন। এ কারণে তাকে দলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে রাখা হয়নি। একই সঙ্গে ঢাকা মহানগর উত্তরের মূল নেতৃত্বের জন্যও তাকে বিবেচনা করা হয়নি।
সূত্রটি জানায়, ঢাকা মহানগর উত্তরের বিগত চারটি সাধারণ সভা, মহানগরের বিভিন্ন কর্মসূচি এবং কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচিতেও তার উপস্থিতি ছিল না।





