তিন শর্তে মেয়াদ বাড়ল থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পের

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল নির্মাণকাজের ভৌত অগ্রগতি শতভাগ (অর্থাৎ ৯৯ দশমিক ৯৫ শতাংশ)। কিন্তু এরপরও শেষ হয়নি প্রকল্প। নানা জটিলতায় মেয়াদ এক বছর বাড়িয়ে করা হয়েছে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত। এর নেপথ্যে অন্যতম কারণগুলো হলো, ঝুলে থাকা ৬ হাজার ৩৩২ কোটি টাকার অডিট আপত্তি নিষ্পত্তি না হওয়া, নিয়োগ হয়নি আন্তর্জাতিক অপারেটর এবং অন্যান্য ইউটিলিটি ও অপারেশনাল ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা, কমিশনিং ও কার্যকারিতা যাচাই হয়নি। এ পরিপ্রেক্ষিতে মেয়াদ বাড়াতে গিয়ে তিন শর্ত দিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। গত ১৬ জুন অনুষ্ঠিত পর্যালোচনা সভায় এসব সুপারিশ দিয়ে মেয়াদ বাড়ানোর পক্ষে মত দেওয়া হয়েছে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।
জানতে চাইলে পরিকল্পনা কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা আগামীর সময়কে বলেছেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের (প্রথম পর্যায়) আওতায় থার্ড টার্মিনাল নির্মাণ করা হচ্ছে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাব পাওয়ার পর বিভিন্ন সংস্থার মতামত নেওয়া হয়। এক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) এবং বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) মতামত-সংক্রান্ত চিঠি পর্যালোচনা করে মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে জটিলতাগুলো সমাধান করার জন্যই এ সময়ের প্রয়োজন।
সূত্র জানায়, প্রকল্পটি মূল অনুমোদিত ব্যয় ছিল ১৩ হাজার ৬১০ কোটি টাকা। পরে সংশোধনের মাধ্যমে বাড়িয়ে করা হয় ২১ হাজার ৩৯৯ কোটি টাকা। এখন পর্যন্ত খরচ হয়েছে প্রায় ২০ হাজার ৩৪৭ কোটি টাকা। এটি বাস্তবায়নে সহায়তা দিচ্ছে জাইকা। এ ছাড়া ২০১৭ সাল থেকে পাঁচ বছরে বাস্তবায়নে কথা ছিল; কিন্তু শেষে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়। এবার ব্যয় বৃদ্ধি ছাড়া মেয়াদ জুন ২০২৭ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সচিব) ড. নেয়ামত উল্যা ভূঁইয়া পর্যালোচনা সভায় জানালেন, প্রকল্পটির ভৌত অগ্রগতি শতভাগ সম্পন্ন হলেও ব্যয় বৃদ্ধি ছাড়া প্রকল্পের বাস্তবায়ন মেয়াদ জুন ২০২৭ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে। প্রস্তাবটি বিবেচনার আগে অপারেটর নিয়োগ, অডিট আপত্তি, ডিসপিউট বোর্ডের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন এবং প্রকল্পের অবশিষ্ট কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এ সভার আয়োজন করা হয়েছে।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক ওই সভায় জানালেন, প্রকল্পের আওতায় থার্ড টার্মিনালের ভৌত নির্মাণকাজ প্রায় শেষ হলেও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন অপারেটর নিয়োগ হয়নি। ফলে থার্ড টার্মিনালের বিভিন্ন সিস্টেম, বিশেষ করে সুয়্যারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট, ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট এবং অন্যান্য ইউটিলিটি ও অপারেশনাল ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা, কমিশনিং ও কার্যকারিতা যাচাই সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। জাপানি যে সংস্থার সঙ্গে অপারেটর নিয়োগের নেগোসিয়েশন চলছে, তা চূড়ান্ত করার জন্য আরও সময় প্রয়োজন।
প্রকল্প পরিচালক এ কে এম মাকসুদুল ইসলাম জানালেন, বৈদেশিক সহায়তাপুষ্ট প্রকল্প অডিট অধিদপ্তরে উত্থাপিত ৬ হাজার ৩২২ কোটি ৮৩ হাজার টাকার অডিট আপত্তি নিষ্পত্তির জন্য এর মধ্যে ঠিকাদারের কাছ থেকে ১ হাজার ৭৭ কোটি টাকা আদায় করা হয়েছে। অবশিষ্ট আপত্তি সম্পর্কে ডিসপিউট বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুসারে ব্রডশিট জবাব দেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট আপত্তিগুলো নিষ্পত্তির জন্য শিগগির ত্রিপক্ষীয় সভা আহ্বান করা হবে।
মেয়াদ বৃদ্ধির শর্ত: বর্ধিত মেয়াদের মধ্যে প্রকল্পের সব কাজ শেষ করতে হবে। ৬ হাজার ৩২২ কোটি ৮৩ লাখ টাকার অডিট আপত্তি দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে। প্রকল্প শেষ হওয়ার আগেই সব আর্থিক, কারিগরি, চুক্তিগত এবং প্রশাসনিক বিষয় নিষ্পত্তি করে প্রকল্প হস্তান্তর করতে হবে।




