পে স্কেল ঘোষণায় বাড়তে পারে পণ্যের দাম

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
দীর্ঘ এক দশক পর সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ছে। নবম পে স্কেল অনুমোদনের ফলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হাতে বাড়তি টাকা আসবে। এতে তাদের জীবনযাত্রায় স্বস্তি ফিরতে পারে, বাড়তে পারে কেনাকাটার সক্ষমতা। কিন্তু এই বাড়তি অর্থের বিপরীতে বাজারে পণ্য ও সেবার সরবরাহ একই হারে না বাড়লে উল্টো চাপ সৃষ্টি হতে পারে সাধারণ মানুষের ওপর। অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা, চাহিদা বাড়লেও উৎপাদন এবং সরবরাহ বাড়ানো না গেলে নিত্যপণ্যের মূল্য আরও বাড়তে পারে।
অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, বাজারে ক্রেতা বাড়বে; কিন্তু পণ্য যদি না বাড়ে তাহলে দাম বাড়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হবে। উদাহরণ দিয়ে তারা বলেছেন, একটি বাজারে প্রতিদিন ১০০ বস্তা চাল আসে এবং ক্রেতার চাহিদা থাকে ১০০ বস্তা। পরে মানুষের হাতে বাড়তি টাকা আসায় চাহিদা বেড়ে ১২০ বস্তা হলো; কিন্তু বাজারে চাল এলো ১০০ বস্তাই। তখন স্বাভাবিকভাবেই দাম বেড়ে যায়। একই ঘটনা ঘটতে পারে মাছ, মাংস, সবজি, ডিম, তেলসহ অন্যান্য পণ্যের ক্ষেত্রেও।
এরই মধ্যে বাজারে নিত্যপণ্যের দামের চাপ রয়েছে। এখন নতুন করে চাহিদা বাড়লে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে। সরকারি চাকরিজীবীরা বেতন বৃদ্ধির সুবিধা পেলেও বেসরকারি চাকরিজীবী, দিনমজুর, রিকশাচালক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী কিংবা নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের আয় একই হারে না বাড়লে তাদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে।
গার্ডেন রোডে ভ্যানে সবজি বিক্রি করেন হেদায়ত উল্লাহ। তিনি বলেছেন, এখনো দাম বাড়েনি। সবজি কমেই কিনেছি। পরে কী হয়, তা তো জানি না। এ দেশে দাম বাড়ার নজির আছে, কমার নজির কম। একই এলাকার বাসিন্দা নয়ন ভ্যান থেকে বাজার করেন। তিনি বললেন, ‘এখনো দাম বাড়েনি। তবে বাড়বে বলে মনে হচ্ছে। এর সঙ্গে যদি আমাদের বেতন না বাড়ে, তাহলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে যাবে।’
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, পে স্কেল বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি প্রয়োজন হবে। রাজস্ব আদায় কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে না থাকায় এই অর্থের জোগানও সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। সরকার যদি অতিরিক্ত ব্যয় মেটাতে বেশি ঋণ নেয়, তাহলে অর্থনীতিতে আরেক ধরনের চাপ সৃষ্টি হতে পারে। আবার রাজস্ব বাড়াতে গিয়ে ব্যবসা বা সাধারণ মানুষের ওপর নতুন করের চাপ সৃষ্টি হলেও তার প্রভাব পরোক্ষভাবে পণ্যের দামে পড়তে পারে। তবে পে স্কেল মানেই নিশ্চিতভাবে সব পণ্যের দাম বেড়ে যাবে, বিষয়টি এমন নয়। উৎপাদন বাড়ানো, বিনিয়োগের পরিবেশ সৃষ্টি, জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং বাজারে কৃত্রিম সংকট ও অস্বাভাবিক মুনাফা ঠেকানো গেলে বাড়তি চাহিদার বড় অংশ উৎপাদনের মাধ্যমে সামাল দেওয়া সম্ভব।
এদিকে পে স্কেলের পর দাম বাড়ার কথাও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহিদ উর রহমান।







