জিডিপিতে যুক্ত হচ্ছে নতুন ৫ খাত

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি হিসাব করতে যুক্ত হচ্ছে নতুন পাঁচ খাত ও উপখাতের অবদান। এগুলো হলো কুরিয়ার সার্ভিস, মুদ্রাবিনিময় সেবা, শিল্পকলা ও বিনোদন, পরিবারে সেবা প্রদানকারী অলাভজনক প্রতিষ্ঠান এবং নির্মাণ খাতের বিভিন্ন উপখাত। অর্থনীতিতে এসব খাতের অবদান খুঁজতে জরিপ পরিচালনা করেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। এতে মালিকানা, কর্মসংস্থান এই খাতগুলোর অবদানসহ বিস্তারিত তথ্য উঠে এসেছে। গত ২ জুলাই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে সংস্থাটি। এতে দেখা যায়, অর্থনীতিতে খাতগুলোর অবদান বাড়ছে।
এ প্রসঙ্গে প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বললেন, ‘এতদিন এই পাঁচ খাতের কোনো তথ্য আমাদের হাতে ছিল না। ফলে নির্দিষ্ট খাতের নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্থনৈতিক কার্যক্রম এবং অবদান মূল্যায়ন করার জন্য জরিপটি পরিচালনা করা হয়। নির্বাচিত নমুনা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর ভিত্তি করে তাদের উৎপাদন, মধ্যবর্তী ভোগ, স্থূলমূল্য সংযোজন, কর্মসংস্থান এবং গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অনুপাতগুলো বিশ্লেষণ করা হয়েছে। যদিও এই ফলগুলো পুরো খাতকে প্রতিনিধিত্ব করে না, তবু এগুলো প্রতিষ্ঠানপর্যায়ে এদের কার্যকারিতা এবং অর্থনৈতিক প্রভাব সম্পর্কে মূল্যবান ধারণা দেয়। জাতীয় হিসাব ও জিডিপি সংকলনের সঠিকতা ও ব্যাপ্তি বাড়াতে সহায়ক হবে।’
তিনি আরও জানান, খাত ও উপখাতগুলোর হালনাগাদ তথ্য পাওয়া গেছে। জিডিপি হিসাবের ক্ষেত্রে ভিত্তিবছর পরিবর্তনের সময় এসব তথ্য যুক্ত করা হবে। বর্তমানে ২০১৫-১৬ ভিত্তিবছর ধরে হিসাব করা হয় জিডিপি প্রবৃদ্ধি। সেটি পরিবর্তন করে ২০২৫-২৬ ভিত্তিবছর করার কাজ চলছে। ফলে এসব খাত-উপখাতের তথ্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
বিবিএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৩৮টি কুরিয়ার প্রতিষ্ঠান থেকে জরিপের তথ্য নেওয়া হয়েছে। কুরিয়ারে কর্মরত মানুষের সংখ্যা ৫ হাজার ৮২৭ জন। ২০২২-২৩ অর্থবছরের কুরিয়ার সার্ভিসের আয় ছিল ২১৮ কোটি, এটি বেড়ে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে হয়েছে ২৩৬ কোটি টাকা। কুরিয়ার সার্ভিসে ব্যবসায়িক প্রেক্ষাপটে ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের প্রাধান্য রয়েছে, তবে প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি ও অংশীদারত্বভিত্তিক গঠিত কিছু কাঠামোগত প্রতিষ্ঠানেরও উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি দেখা গেছে। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের ৯৪ দশমিক ৭৪ শতাংশ নেতৃত্বে রয়েছেন পুরুষ, যেখানে মাত্র ৫ দশমিক ২৬ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে রয়েছেন নারী।
মুদ্রাবিনিময় সেবায় কর্মরত আছেন ২৪২ জন। বার্ষিক আউটপুট ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৮ কোটি টাকা। টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১০ কোটি টাকা। মুদ্রাবিনিময় (কারেন্সি এক্সচেঞ্জ) কার্যক্রম অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। সামগ্রিকভাবে মূল ব্যবসায়িক কার্যক্রমে, বিশেষ করে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন সেবা খাতে উচ্চ প্রবৃদ্ধি নির্দেশ করে।
শিল্পকলা ও বিনোদন খাতে কাজ করছে ৬ হাজার ২৯২ জন। ২০২২-২৩ অর্থবছরে অর্থনীতিতে অবদান ছিল ১০০ কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সেটি বেড়ে হয়েছে ১০০ কোটি ৮ লাখ টাকা। শিল্পকলা ও বিনোদন খাতের অবদান বাড়ছে।
খানাসমূহে (পরিবার) সেবা দানকারী অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন ৭ হাজার ৫৫৮ জন। এ খাতে স্থল মূল্যসংযোজন বার্ষিক ২০২২-২৩ অর্থবছর ছিল ১৫২ কোটি ৮২ লাখ টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সেটি বেড়ে হয়েছে ১৫৬ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। এ ছাড়া অর্থনীতিতে বার্ষিক নির্বাচিত নির্মাণ খাতের বিভিন্ন উপখাতের অবদান হচ্ছে ১ হাজার ২১৮ কোটি টাকা।
সূত্র জানায়, জিডিপি হিসেবে কৃষি খাতে শস্য, প্রাণিসম্পদ, বনজ ও মৎস্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। শিল্প খাতে রয়েছে খনিজ ও খনন, উৎপাদন, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি সরবরাহ এবং নির্মাণ খাত। এ ছাড়া সেবা খাতে অন্তর্ভুক্ত আছে পাইকারি ও খুচরা ব্যবসা, হোটেল এবং রেস্তোরাঁ, পরিবহন, আর্থিক খাত, আবাসন, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবাসহ অন্যান্য খাত।
পরে এতে মোবাইল ব্যাংকিং, এজেন্ট ব্যাংকিং, গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগি (আলাদা উপখাত হিসেবে), নার্সারি, ফলমূল উৎপাদন (যেমন: লটকন, ড্রাগন ফল, স্ট্রবেরি ইত্যাদি), আবাসন, কেবল টেলিভিশন, ইন্টারনেট এবং হেলিকপ্টার সেবাও যুক্ত করা হয়।




