মার্কিন ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের আহ্বান
- অর্থ এবং শিল্পমন্ত্রীর সঙ্গে পৃথক বৈঠক

সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় অংশ নিতে মার্কিন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলকে নির্ভয়ে ও বড় পরিসরে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রীর দপ্তরে এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে অনুষ্ঠিত পৃথক দুটি বৈঠকে এই আহ্বান জানানো হয়।
সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মার্কিন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেন। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন এক্সিলারেট এনার্জির নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট অলিভার সিম্পসন।
অর্থমন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেছেন, ‘আপনারা নিশ্চিন্তে এবং নির্ভয়ে বিনিয়োগ করুন। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সব ধরনের নীতিসহায়তা ও সুযোগ-সুবিধা প্রদানে সরকার বদ্ধপরিকর।’ তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকার ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ উন্নয়নে ‘ডিরেগুলেশন’ বা নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণের নীতি গ্রহণ করেছে। এর মাধ্যমে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো হচ্ছে এবং দুর্নীতি হ্রাসে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেছেন, ‘গত ১৫ বছরে একটি স্বৈরাচারী সরকার রাষ্ট্রব্যবস্থাকে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। আমরা সেই অবস্থা থেকে উত্তরণের চেষ্টা করছি। ব্যাংক খাতে গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনা, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং ব্যবসাবান্ধব আইনকানুন প্রণয়নের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।’
বৈঠকে প্রতিনিধিদলের পক্ষে মাস্টারকার্ডের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট রাভি অরোরা বললেন, ‘গণতান্ত্রিক সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা ব্যবসা ও বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা।’ তিনি জানিয়েছেন, এখানে বিনিয়োগের প্রচুর সুযোগ ও বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নীতিসহায়তা পেলে দীর্ঘ মেয়াদে বিনিয়োগ বাড়াতে তারাও বদ্ধপরিকর।
অন্যদিকে, শিল্প মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের ৩৩ সদস্যের প্রতিনিধিদলের পৃথক আরেকটি বৈঠক হয়। এই দলে নেতৃত্ব দেন কাউন্সিলের উপদেষ্টা নিশা বিসওয়াল।
শিল্পমন্ত্রী জানিয়েছেন, ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য অর্জনে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের বড় পরিসরে বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশে ব্যবসা করতে গিয়ে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো যেসব প্রশাসনিক ও কৌশলগত সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ বাণিজ্য ও রপ্তানিনীতি, ডিজিটাল অর্থনীতি, ই-কমার্স প্রসার এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে প্রস্তাবিত মুক্তবাণিজ্য চুক্তি নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় হয়েছে।
শিল্পমন্ত্রী বলেছেন, পাট, চামড়া, জাহাজ নির্মাণ ও পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ খাতকে বহু বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি শিল্পে পরিণত করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা আগামী মাসে ঘোষণা করা হবে। এ ছাড়া বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রক্রিয়াগুলো সহজ করা হচ্ছে। বিভিন্ন লাইসেন্স, পারমিট ও ছাড়পত্রের ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় সমন্বয়হীনতা ও পুনরাবৃত্তি চিহ্নিত করে দূর করা হবে।
তিনি বলেছেন, ‘ইজ অব ডুয়িং বিজনেস’-এ বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে ছিল। তাই ব্যবসা সহজীকরণের জন্য এরই মধ্যে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ব্যবসা ও বিনিয়োগের পরিবেশ আরও সহজ, গতিশীল এবং কার্যকর করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। সব অনুমোদন ও সেবা ডিজিটালাইজড করা হবে, যাতে ব্যবসায়ীদের শারীরিকভাবে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে যেতে না হয়।




