চালু কারখানায় জ্বালানি সরবরাহে নিশ্চয়তা চান ব্যবসায়ীরা

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
তীব্র জ্বালানি সংকটে কাঁচামাল ও মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি কমে যাওয়ায় দেশে বেসরকারি বিনিয়োগে বড় ধরনের স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। গ্যাস ও বিদ্যুতের অভাবে বিদ্যমান শিল্পকারখানার উৎপাদন যখন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, তখন সংকট কাটাতে সৌরবিদ্যুতের মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকেই সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছে সরকার।
গতকাল বুধবার ইআরএফ ও সিপিডি আয়োজিত ‘অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট ও উদীয়মান চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা জানিয়েছেন, টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ফেরাতে দ্রুত সময়ের মধ্যে চলমান কারখানায় জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনে সোলার প্রযুক্তির প্রসার এখন সময়ের দাবি। ইআরএফ সভাপতি দৌলত আক্তার মালার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বললেন, দেশের বর্তমান জ্বালানি সংকট মূলত একটি ‘উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত’ সমস্যা। বিগত সরকারের আমদানিনির্ভর জ্বালানিনীতি এবং দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে অনীহার কারণেই আজ এমন সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে বর্তমান সরকার ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সাধারণ গ্রাহকদের ‘উৎপাদকে’ রূপান্তরের উদ্যোগের পাশাপাশি সোলার ব্যাটারি ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জামের ওপর থেকে ভ্যাট ও আগাম আয়কর তুলে নেওয়া বা কমানো হয়েছে। এ ছাড়া সরকারের গৃহীত স্বচ্ছতার পদক্ষেপের ফলে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বৃদ্ধির হার বিগত আমলের ২ শতাংশ থেকে বর্তমানে ১১-১২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে বলে উল্লেখ করলেন তিনি।
ড. তিতুমীর উল্লেখ করলেন, কাতার থেকে ১১ ডলারে এলএনজি আমদানি করতে গিয়ে সরকারকে বিশাল ভর্তুকি দিতে হচ্ছে, যেখানে দেশীয় গ্যাস সরবরাহ থাকলে খরচ হতো মাত্র ৪ থেকে ৫ টাকা।
নতুন করে বন্ধ কারখানা চালুর উদ্যোগের চেয়ে চলমান কারখানাগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর অগ্রাধিকার দিতে সরকারকে তাগিদ দেন এফবিসিসিআই প্রশাসক মো. ফজলুল হক।
দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক চিত্র তুলে ধরে সিপিডির ফেলো ড. ফাহমিদা খাতুন জানালেন, মূলধনি যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানি কমে যাওয়ায় দেশে শিল্প উৎপাদন এবং কর্মসংস্থান সংকুচিত হচ্ছে। পরিসংখ্যান উল্লেখ করে তিনি বললেন, চলতি বছরের জুনে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ ৪.৪ শতাংশে নেমে এসেছে, যা গত ১০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। পাশাপাশি সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) প্রায় ১৫ শতাংশ কমেছে এবং বছরের প্রথম প্রান্তিকে শিল্প উৎপাদন শূন্য দশমিক ২৮ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশে পৌঁছানো এবং উচ্চ নীতি সুদহার উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন বিনিয়োগের পথ কঠিন করে তুলেছে।





