টাঙ্গাইলে ৬ মাসে ১০৮ সড়ক দুর্ঘটনা, ১৩০ জনের মৃত্যু
- ৬ মাসে আহত ৮৩ জন
- আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন ৫২ জন

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে গত ছয় মাসে ১০৮টি সড়ক দুর্ঘটনা হয়েছে। এসব দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৩০ জন এবং আহত হয়েছেন ৮৩ জন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে নিহত হয়েছেন ১২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ১৬, মার্চে ২৩ জন, এপ্রিলে ২৪, মে মাসে ৩৯ এবং জুন মাসে ১৬ জন। জানুয়ারিতে আহত হয়েছেন ৯ জন, ফেব্রুয়ারি ও মার্চে ৭ জন করে, এপ্রিলে ১৮, মে মাসে ৩৬ জন এবং জুনে ৬ জন।
অপরদিকে টাঙ্গাইলে গত ছয় মাসে ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৮ জন। এরমধ্যে জানুয়ারি মাসে একজন, ফেব্রুয়ারিতে ২, মার্চে ৮ জন, এপ্রিলে ২, মে মাসে ৫ জন জন। জুন মাসে কোন দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টাঙ্গাইলের ঘারিন্দা রেল পুলিশ স্টেশনের মুন্সি আবুল বাশার।
এসব দুর্ঘটনায় বিআরটিএ-এর মাধ্যমে টাঙ্গাইলের ট্রাস্টি বোর্ড থেকে আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন ৫২জন। তাদেরকে চেকের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে মোট ২ কোটি ১৬ লাখ টাকা।
গত ২৫ মে দুপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের কালিহাতী উপজেলায় একটি ট্রাক উল্টে ঘটনাস্থলে ১৫ জনের মৃত্যু হয়। আহত হন ৯ জন। নিহতদের মধ্যে ৯ জনের বাড়ি ছিল নওগাঁর মান্দা উপজেলার ভারসো ইউনিয়নে।
মোটরসাইকেল আরোহী আব্দুর রহিমুল্লাহ জানান, ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়ক অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এটি দুর্ঘটনা প্রবণ এলাকা। এই মহাসড়কের যে অংশে সার্ভিস লেন আছে, সেখানে বিভিন্ন যানবাহন রেখে আটকে রাখা হয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে মহাসড়কে উঠে যাচ্ছেন মোটরসাইকেল চালকেরা। এছাড়া এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত এখনো কোনো সার্ভিস লেন নেই। মহাসড়কের দুই পাশে বালুর স্তূপ থাকায় দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। দুই পাশের বালুর স্তূপ সরিয়ে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।
টাঙ্গাইলের বাস কোচ মিনিবাস মালিক সমিতির আহবায়ক শফিকুল ইসলাম খান শফিক জানান, এই মহাসড়কে উত্তরাঞ্চলের যানবাহনের দুর্ঘটনার হার বেশি। দুর্ঘটনার জন্য উত্তরাঞ্চলের যানবাহনগুলোর বেপরোয়া গতিকে দায়ী করেছেন তিনি। অদক্ষ চালক দিয়ে যানবাহনগুলো পরিচালিত হয় বলে অভিযোগ করেন শফিকুল।
কৃষকের ‘ঘুম ভাঙছে’—দেশীয় বিশ্বমানের কৃষি প্রযুক্তির বার্তা নিয়ে এনএসি’র নতুন ওভিসি
০৭ জুলাই ২০২৬
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহনের টাঙ্গাইলের সহকারি পরিচালক মাহতাব উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ‘ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে বিভিন্ন সময়ে দুর্ঘটনা হচ্ছে। এতে প্রাণহানিও ঘটছে। তাই পরিবহন মালিক-শ্রমিকসহ সবাইকে নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান করে থাকি আমরা।’
টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) রবিউল ইসলাম পরামর্শ দেন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করার জন্য প্রথমত চালককে সচেতন থাকতে হবে। বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো যাবেনা। মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে বাঁক রয়েছে। বাঁকগুলোেতে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালালে দুর্ঘটনা ঘটবেই। সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিরোধে এসব নিয়ম মেনে চললে দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমে আসবে। চালকদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিয়ে গাড়ি চালাতে হবে। অদক্ষ চালক দিয়ে গাড়ি চালানো যাবে না। পথচারীদের ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে।
তিনি জানান, সার্ভিস লেন থেকে মহাসড়কে উঠে গাড়ি চালাচ্ছেন অনেক মোটরসাইকেল চালকেরা। সেটা থেকে তাদেরকে বিরত থাকতে হবে এবং অতিরিক্ত গতি থেকে সরে আসতে হবে।
এছাড়া দুর্ঘটনার বড় একটি কারণ হলো ওভারটেক করা। এ বিষযে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।






