রোনালদো
দুঃস্বপ্নের ম্যাচ, ভুলে যাওয়ার মতো বিশ্বকাপ

মঞ্চ প্রস্তুত ছিল ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ রাঙানোর। কিন্তু ফুটবল দেবতা হয়তো ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর বিদায়লগ্ন নিয়ে বিষাদময় স্ক্রিপ্ট লিখে রেখেছিলেন। বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর হাইভোল্টেজ ম্যাচে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছে পর্তুগাল। আর সেইসঙ্গে সবুজ ঘাসে চোখের জলে শেষ হলো ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম মহানায়কের বিশ্বকাপ যাত্রা।
রোনালদোর জন্য ম্যাচটি ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। পুরো ম্যাচে মাঠে থেকেও স্পেনের দুর্ভেদ্য রক্ষণের সামনে তিনি অসহায় আত্মসমর্পণ করেছেন। ম্যাচের ৯১ মিনিটে মিকেল মেরিনোর নাটকীয় গোলে পর্তুগিজদের স্তব্ধ করে কোয়ার্টার ফাইনালে পা রাখে স্পেন। ম্যাচ শেষে কোমরে হাত রেখে রোনালদোর শূন্য দৃষ্টি যেন বলে দিচ্ছিল, ফুটবল ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অপূর্ণতাটা আর কখনোই ঘুচবে না।
৪১ বছর বয়সী পর্তুগিজ মহাতারকা পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই ফর্মের সঙ্গে লড়াই করেছেন। হয়েছেন চরম বিতর্কিত। দলের ভেতর তার গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। যথারীতি স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচে ছিলেন নিজের ছায়া হয়ে। স্প্যানিশ ডিফেন্ডারদের কড়া পাহারায় পুরো ম্যাচে মাত্র ১৯ বার বল স্পর্শ করতে পেরেছিলেন, যা তার বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারে শুরুর একাদশে খেলা ম্যাচগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন। পরিসংখ্যান বলছে, পুরো বিশ্বকাপে মোট ১৭টি শট নিয়েও সতীর্থদের জন্য একটিও গোল করার সুযোগ তৈরি করতে পারেননি রোনালদো। গত ৬০ বছরের বিশ্বকাপে কোনো খেলোয়াড়ের ক্ষেত্রে এমন নিষ্ফলা আক্রমণের নজির আর দেখা যায়নি। একসময় যার পায়ে ড্রিবলিংয়ের জাদু দেখা যেত, সেই রোনালদো নিজের শেষ ৯টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে একটিও ড্রিবলিংয়ের চেষ্টাও করেননি!
কান্নায় শেষ রোনালদোরও
০৭ জুলাই ২০২৬
স্পেনের জমাট ডিফেন্স আর গোলরক্ষক উনাই সিমনের অতিমানবীয় ফর্মের সামনে রোনালদোর চেনা হুংকার শুধুই নীরব আর্তনাদে রূপ নিয়েছিল। ২০০৬ সালে জার্মানির মাটিতে শুরু হয়েছিল রোনালদোর বিশ্বকাপ যাত্রা, যা শেষ হলো ২০২৬ সালে এসে। এই দীর্ঘ ২০ বছরের যাত্রায় বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফিটা ছুঁতে না পারলেও তিনি যা অর্জন করেছেন, তা ফুটবল ইতিহাসে জ্বলজ্বল করবে।
ইতিহাসের প্রথম ও একমাত্র পুরুষ খেলোয়াড় হিসেবে ভিন্ন ৬টি বিশ্বকাপে গোল করার অনন্য রেকর্ড গড়েছেন রোনালদো। পর্তুগালের হয়ে ১১টি গোল নিয়ে শেষ করলেন বিশ্বকাপ ক্যারিয়ার, যার মধ্যে ১০টি গোলই এসেছে গ্রুপ পর্বে। নকআউট পর্বে তার একমাত্র গোলটি এসেছিল গত সপ্তাহে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে। সব মিলিয়ে এই বিশ্বকাপ নিশ্চয়ই ভুলে যেতে চাইবেন রোনালদো। তবে ফুটবলের ইতিহাসে তার আসন চিরস্থায়ী।







