হাতে ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগের কাগজ, থানার গেটেই লুটিয়ে পড়লেন বাবা

চৌদ্দগ্রাম থানা— সংগৃহীত
মাদকাসক্ত ছেলের নির্যাতনের অভিযোগ জানাতে থানায় এসেছিলেন ৭৫ বছর বয়সী আবু তাহের মজুমদার। হাতে ছিল ছেলের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ। কিন্তু সেই অভিযোগ আর পুলিশের কাছে দেওয়া হলো না। থানার প্রধান ফটকের সামনে হঠাৎ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আজ শনিবার দুপুরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থানার প্রধান ফটকের সামনে ঘটে এ ঘটনা। নিহত আবু তাহের মজুমদার মুন্সীরহাট ইউনিয়নের বাংপাই গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, ছেলে শহিদুল ইসলাম শরীফের (৩২) বিরুদ্ধে মারধর ও শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ নিয়ে শনিবার থানায় আসেন আবু তাহের। এর আগে থানার পাশের একটি দোকান থেকে নিজের অভিযোগটি লিখিতভাবে কম্পোজ করান তিনি। এরপর অভিযোগের কপি হাতে নিয়ে থানার মূল ভবনে প্রবেশ করছিলেন। কিন্তু থানার প্রধান ফটকের কাছেই হঠাৎ মাটিতে পড়ে যান বৃদ্ধ আবু তাহের। মুহূর্তেই ছুটে আসেন পুলিশ সদস্য ও স্থানীয়রা। তাকে উদ্ধার করে দ্রুত চৌদ্দগ্রাম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আবু তাহেরের সঙ্গে শ্বাসকষ্টের জন্য ব্যবহৃত একটি ইনহেলারও পাওয়া যায়। তবে ঠিক কী কারণে তার মৃত্যু হয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আবু তাহেরের ছেলে শহিদুল ইসলাম শরীফ মাদকাসক্ত ও উচ্ছৃঙ্খল। বিভিন্ন সময় তিনি বাবাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। শনিবার সকালে শরীফ বসতঘরে ঢুকে তার বাবাকে কিল-ঘুসি মারেন এবং শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে আবু তাহেরের চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। ছেলের নির্যাতনের বিচার চাইতে থানায় এসেছিলেন বৃদ্ধ বাবা। অভিযোগের কাগজটিও তৈরি করেছিলেন। কিন্তু সেই অভিযোগ আর জানানো হলো না। থানার দরজার সামনেই থেমে গেল তার জীবন।
চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফ হোসাইন বলেছেন, ‘থানায় অভিযোগ দিতে এসে এক বৃদ্ধ গেটের সামনে পড়ে যাওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।’







