চার পরিবারকে সমাজচ্যুত করে বিএনপি নেতার মাইকিং

গোবিন্দপুর ইউনিয়ন (উত্তর) বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন— সংগৃহীত
কুমিল্লার লাকসামে চার পরিবারকে সমাজচ্যুত করার অভিযোগে গোবিন্দপুর (উত্তর) ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর হোসেনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সাধারণ সম্পাদক পদসহ দলের সব সাংগঠনিক ও প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে তাকে।
আজ শুক্রবার উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুর রহমান বাদল স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ বহিষ্কারাদেশ দেওয়া হয়। আজ শনিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুর রহমান বাদল।
বহিষ্কারাদেশে বলা হয়, ইছাপুরা গ্রামের চারটি পরিবারকে সমাজচ্যুত করার অভিযোগ গুরুতর অপরাধ। এতে দলের ভাবমূর্তি ও সাংগঠনিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে। এটি দলীয় শৃঙ্খলা ও সাংগঠনিক স্বার্থের পরিপন্থী। এ কারণে গোবিন্দপুর (উত্তর) ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক পদসহ দলের সব সাংগঠনিক ও প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, গত সোমবার সন্ধ্যায় আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে ইছাপুরা গ্রামের চারটি পরিবারকে সমাজচ্যুত করার ঘোষণা দিয়ে এলাকায় মাইকিং করা হয়। এ সময় তাদের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য, লেনদেন এবং এলাকার দোকানপাটে চলাফেরা না করার নির্দেশনাসহ বিভিন্ন ঘোষণা দেওয়া হয়। ওই ঘোষণার পর পরিবারগুলো সামাজিকভাবে মর্যাদাহানি ও হেয়প্রতিপন্ন হওয়ার পাশাপাশি একঘরে হয়ে পড়ে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
ঘটনার একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে গত বুধবার লাকসাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী কামরুন্নাহার লাইলী দুই পক্ষকে থানায় ডেকে আনেন। পরে সমাজচ্যুত করার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের জন্য সংশ্লিষ্ট সালিশ-বৈঠককারীদের নির্দেশ দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী চার পরিবারের একজন মমিন আলী বলেছেন, ‘আমাদের সমাজচ্যুত করার ঘোষণা দিয়ে এলাকায় মাইকিং করায় আমরা বিব্রতবোধ করি এবং চরম বিপাকে পড়েছি। তারা ক্ষমতাশালী হওয়ায় সবাই তাদের কথা শোনে।
তার অভিযোগ, ‘বিএনপি নেতা আলমগীরসহ কতিপয় লোক পরিকল্পিতভাবে তাদের সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন ও মর্যাদাহানির লক্ষ্যে এমন অমানবিক ও দেশের প্রচলিত আইন পরিপন্থী ঘটনা ঘটিয়েছেন।’
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে চার পরিবারকে সমাজচ্যুত করার মূল হোতা গোবিন্দপুর (উত্তর) ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন। রাজনৈতিক পদ ব্যবহার করে তিনি তাদের সমাজচ্যুত করার পর এলাকায় মাইকিং করিয়েছেন বলে তারা দাবি করেন। পরে ইউএনও ও থানার ওসি ডাকার পর সমাজচ্যুত করার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হয়।
লাকসাম থানার ওসি কাজী কামরুন্নাহার লাইলী শনিবার বিকালে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন, ‘মাইকিং করে চারটি পরিবারকে সমাজচ্যুত করার ঘটনাটি সম্পূর্ণভাবে দেশের প্রচলিত আইন পরিপন্থী। বিষয়টি আমার নজরে আসলে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে সংশ্লিষ্ট সর্দার-মাতব্বরদের থানায় এনে এসব বেআইনি কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ প্রদান করা হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘একপর্যায়ে তারা ভুক্তভোগী পরিবারের কাছে ক্ষমা চেয়ে পুনরায় মাইকিংয়ের মাধ্যমে তাদের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করেন।’







