রাজশাহী
গোডাউনের তালা ভেঙে উদ্ধার ৩৩০ বস্তা সার

ছবি: আগামীর সময়
বাজারে সার নেই। অথচ গোডাউনে মজুত ছিল বস্তার পর বস্তা সার। রাতের আঁধারে সেই সার পাচারেরও চেষ্টা চলছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এমনই চিত্র পেয়েছে প্রশাসন। পরে দুটি গোডাউনের তালা ভেঙে জব্দ করা হয়েছে ইউরিয়া, এমওপি, টিএসপি ও ডিএপিসহ ৩৩০ বস্তা সার।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজশাহীর পুঠিয়ার শিলমাড়িয়া ইউনিয়নের কার্তিকপাড়া বাজারে এ অভিযান চালানো হয়।
অভিযানের নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিয়াকত সালমান ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিবু দাশ। সার্বিক সহযোগিতা করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা স্মৃতি রানী।
এ সময় অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা কাজী ইফফাত তামান্না, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. ইসরাফিল হক, পুঠিয়া থানার সাধনপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ও পুলিশ সদস্যরা, গোয়েন্দা পুলিশের সদস্য এবং আনসার বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযানকালে কার্তিকপাড়া বাজারের নিশি কীটনাশক বিপণির মালিক মো. সাইদুল ইসলামের দুটি গোডাউনে তল্লাশি চালানো হয়। সেখানে অননুমোদিতভাবে মজুত করা ৩৩০ বস্তা সার পাওয়া যায়। এর মধ্যে ইউরিয়া, এমওপি, টিএসপি ও ডিএপি সার রয়েছে।
অভিযানের খবর পেয়ে ব্যবসায়ী সাইদুল ইসলাম পালিয়ে যান। পরে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কার্তিকপাড়া ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদকের উপস্থিতিতে গোডাউনের তালা ভেঙে সারগুলো জব্দ করে প্রশাসন।
এর আগে রাতের আঁধারে সার সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন কয়েকজন। স্থানীয় সচেতন যুবসমাজ একটি ভ্যান আটক করে। ভ্যানটিতে পাওয়া যায় ৫ বস্তা টিএসপি ও ৫ বস্তা এমওপি সার। পরে ১০ বস্তা সারও প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সারগুলো স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। জব্দ করা ৩৩০ বস্তা সারও বিসিআইসি ডিলারের গোডাউনে সংরক্ষণ করা হয়েছে। পরে তা নির্ধারিত মূল্যে কৃষকদের কাছে বিক্রি করা হবে। বিক্রির অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা স্মৃতি রানী বলেছেন, ‘উপজেলাজুড়ে নিয়মিত বাজার মনিটরিং চলছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কার্তিকপাড়া বাজারে অভিযান চালিয়ে ৩৩০ বস্তা সার জব্দ করা হয়েছে। রাতের আঁধারে পাচারের সময় স্থানীয়দের আটক করা আরও ১০ বস্তা সারও সরকারি মূল্যে কৃষকদের কাছে বিক্রি করা হয়েছে।’
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিবু দাশ বললেন, ইউএনওর উপস্থিতিতে পরিচালিত অভিযানে বিভিন্ন ধরনের ৩৩০ বস্তা সার জব্দ করা হয়েছে। সারগুলো বিসিআইসি ডিলারের গোডাউনে সংরক্ষণ করা হয়েছে। সাধারণ কৃষকদের কাছে সরকার নির্ধারিত মূল্যে এসব সার বিক্রি করা হবে। বিক্রির অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত সালমান বললেন, অভিযানের খবর পেয়ে ব্যবসায়ী সাইদুল ইসলাম পালিয়ে যান। পরে কার্তিকপাড়া ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের উপস্থিতিতে দুটি গোডাউনের তালা ভেঙে ৩৩০ বস্তা বিভিন্ন ধরনের সার জব্দ করা হয়।




