আগামীর সময়ে সংবাদ প্রকাশের পর
গাইবান্ধায় জলাতঙ্কে ৫ মৃত্যু : হাইকোর্টে রিট, তদন্তের নির্দেশ

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়ে পাঁচজনের মৃত্যুর ঘটনায় হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট আবেদন করা হয়েছে। রিটে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ, আক্রান্তদের বিনামূল্যে চিকিৎসা এবং সারাদেশে অ্যান্টি-রেবিস টিকার পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিতের।
বুধবার আইনজীবী সাফিনুর ইসলাম এ রিট আবেদন করেন। এতে বিবাদী করা হয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।
রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্টের বিচারপতি ইকবাল কবির ও বিচারপতি এস এম সাইফুল ইসলামের দ্বৈত বেঞ্চ গাইবান্ধার সিভিল সার্জনকে ঘটনাটি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ৮ জুনের মধ্যে আদালতে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
রিটে অ্যান্টি-রেবিস টিকার সংকট, সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ আনা হয়েছে। একই সঙ্গে সারাদেশের সরকারি হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টিকার পর্যাপ্ত ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে নির্দেশনা চাওয়া হয়।
ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী জানান, নিহত ও আহতদের জন্য রাষ্ট্রীয় ক্ষতিপূরণ এবং চিকিৎসা সহায়তার আবেদন জানানো হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য বিভাগের ব্যর্থতা, টিকার ঘাটতি ও চিকিৎসা অবহেলা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, সে বিষয়ে রুল জারির আবেদনও করা হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, আদালত বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে ঘটনার প্রকৃত কারণ, চিকিৎসায় কোনো অবহেলা ছিল কি না এবং টিকা সরবরাহে ঘাটতি ছিল কি না তা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
রিট আবেদনের সঙ্গে দৈনিক “আগামীর সময়”-এ প্রকাশিত একটি সংবাদ প্রতিবেদন সংযুক্ত করা হয়। গত ১০ মে “৭২ ঘণ্টায় তিন মৃত্যু; ভ্যাকসিন সংকটে বাড়ছে জলাতঙ্ক আতঙ্ক” শিরোনামে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কঞ্চিবাড়ি ও ছাপরহাটী ইউনিয়নে পাগলা কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত ১৩ জনের মধ্যে তিনজনের মৃত্যুর তথ্য উঠে আসে। পরে আরও দুই নারী মারা গেলে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় পাঁচে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আক্রান্তরা সরকারি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় অ্যান্টি-রেবিস টিকা না পাওয়ায় চিকিৎসা নিতে বিলম্ব হয়। বর্তমানে আহত আরও ১০ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রিটে নিহত নন্দা রাণী, ফুলু মিয়া ও রত্নেশ্বর কুমারসহ পাঁচজনের পরিবারের জন্য রাষ্ট্রীয় ক্ষতিপূরণ নিশ্চিতের আবেদন জানানো হয়েছে। পাশাপাশি আক্রান্ত ও ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে।
এছাড়া দেশব্যাপী জেলা হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যান্টি-রেবিস টিকার জরুরি মজুদ ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে জাতীয় জরুরি প্রতিক্রিয়া নীতিমালা প্রণয়নের আবেদন জানানো হয়েছে। টিকার প্রাপ্যতা ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় কোনো অনিয়ম বা অবহেলা ছিল কি না তা তদন্তে জাতীয় কমিশন গঠনের নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে।






