গাইবান্ধা
কুকুরের কামড়ে ৫ মৃত্যু : চিকিৎসায় ঘাটতি কি না খতিয়ে দেখছে বিশেষজ্ঞ দল

ফাইল ছবি
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে কুকুরের কামড়ের পর পাঁচজনের মৃত্যুর ঘটনা খতিয়ে দেখছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিশেষজ্ঞ দল। রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) এবং কমিউনিকেবল ডিজিজ কন্ট্রোল (সিডিসি)-এর কর্মকর্তারা আছেন এই দলে। ওই পাঁচ রোগীর চিকিৎসায় কোনো অব্যবস্থাপনা ছিল কি না— তদন্তে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেছে দলটি।
দলের সদস্য ডা. জাহিদুর রহমান এসব নিশ্চিত করেছেন।
মঙ্গলবার (১৯ মে) ছয় সদস্যের পর্যবেক্ষক দল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে সব নথিপত্র পর্যালোচনা করে। পাশাপাশি জলাতঙ্কে আক্রান্তদের আগের শারীরিক অবস্থা ও পরের চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট নথিও ঘেঁটে দেখেন বিশেষজ্ঞরা। আলোচনা করেন হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে।
এরপর ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃতদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছেন তারা। স্বজনদের কাছ থেকে শোনেন কুকুরের কামড় দেওয়া থেকে শুরু করে হাসপাতালে নেওয়া পর্যন্ত ঘটে যাওয়া সব ঘটনা।
সব তথ্য বিশ্লেষণ করে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন তৈরি করবে বিশেষজ্ঞদের এই দল। তা জমা দেওয়া হবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে। প্রতিবেদন পাওয়ার পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে স্বাস্থ্য বিভাগ, জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
পর্যবেক্ষক দলের কাছে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, ঘটনার সময় এলাকায় র্যাবিস ভ্যাকসিনের ঘাটতি ছিল। প্রয়োজনীয় টিকা না পেয়ে বাইরে গিয়ে চিকিৎসা নিতে হয়েছে অনেককে। এসব কারণে চিকিৎসা দেরিতে শুরু হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়।
এ বিষয়ে তদন্ত দলের সদস্য ডা. জাহিদুর রহমান বলেছেন, সংগৃহীত তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হবে। সব দিক বিশ্লেষণ করে কোথাও কোনো ব্যবস্থাগত দুর্বলতা ছিল কি না— সেগুলো খতিয়ে দেখা হবে। প্রতিবেদনেই সব বিষয় স্পষ্ট হবে।
তিনি আরও জানালেন, আক্রান্তদের মৃত্যু সত্যিই জলাতঙ্কজনিত ছিল কি না, সেটিও যাচাইয়ের আওতায় আনা হয়েছে। পাশাপাশি ভ্যাকসিন সরবরাহ ও ব্যবহারের বিষয়টি আরও গভীরভাবে পর্যালোচনার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও তদন্ত হবে।
গত ২২ এপ্রিল উপজেলার কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নের কঞ্চিবাড়ি, বজরা কঞ্চিবাড়ি এবং ছাপরহাটী ইউনিয়নের মন্ডলেরহাট এলাকায় একটি কুকুর শিশু ও বৃদ্ধসহ ১৬ জনকে কামড়ে আহত করে। এ ঘটনায় এক সপ্তাহের ব্যবধানে তিন নারীসহ পাঁচজন মারা যান। তাদের সবাই জলাতঙ্কপ্রতিরোধী ভ্যাকসিন নিয়েছিলেন।




