সংকুচিত করা হচ্ছে ভিন্নমতের রাজনীতি: সারজিস

সিলেট সার্কিট হাউসে কথা বলছেন এনসিপি নেতা সারজিস আলম। ছবি: আগামীর সময়
সিলেটের গোলাপগঞ্জে গাড়িতে হামলার ঘটনায় বিএনপি ও ছাত্রদলকে অভিযুক্ত করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম। তার মতে, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে হামলা ও বাধা দেওয়ার মাধ্যমে দেশে ভিন্নমতের রাজনীতি সংকুচিত করার চেষ্টা চলছে।
হামলার বিষয়ে আজ বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে সিলেট সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। তার অভিযোগ, সকালে গোলাপগঞ্জে শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিমিয়ে যাওয়ার পথে এবং অনুষ্ঠান শেষে ফেরার পথে এনসিপির গাড়িবহরে ছোড়া হয় ইট, পাথর ও লোহার রড।
সারজিদের দাবি, হামলায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা জড়িত। এতে গুরুতর আহত হয়েছেন এনসিপির একজন কর্মী। ‘রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে। কিন্তু হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া গণতান্ত্রিক রাজনীতির অংশ হতে পারে না। এ ধরনের কর্মকাণ্ড স্বৈরাচারী রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রতিফলন’- মনে করেন এই এনসিপি নেতা।
সিলেট বিভাগে এ নিয়ে দুই দফা এনসিপির গাড়িবহরে হয়েছে হামলা।
এই ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রসঙ্গ টেনে সারজিসের অভিযোগ, ‘প্রকাশ্যে গণতন্ত্রের কথা বলা হলেও বাস্তবে বিরোধী রাজনৈতিক কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ওপর হামলার সংস্কৃতি অব্যাহত থাকলে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ আরও সংকুচিত হবে।’
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। ‘হামলার সময় ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও হামলাকারীদের প্রতিহত করতে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এমনকি এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তারও করা হয়নি।’
চব্বিশের অভ্যুত্থানের অন্যতম এই সমন্বয়ক বলেছেন, ‘একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে এনসিপি শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করতে চায়। তবে হামলা ও বাধার কারণে আমাদের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।’ রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা সহিংসতায় রূপ নেয়ার বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন তিনি।
জুলাই অভ্যুত্থানে গোলাপগঞ্জে শহীদদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আজ দুপুরে ছিল এনসিপির মতবিনিময় সভা। তাতে যোগ দিতে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহর গোলাপগঞ্জে পৌঁছামাত্র একদল যুবক ‘ভুয়া ভুয়া’, ‘এনসিপি ভুয়া’ স্লোগান দিতে শুরু করেন।
অনুষ্ঠান শেষ করে বের হওয়ার সময় উপজেলা গেইটের কাছে নূর ম্যানশনের সামনে সারজিসের গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। এসবে স্থানীয় যুবদল ও ছাত্রদল জড়িত বলে অভিযোগ এনসিপির।
তবে এ অভিযোগের বিষয়ে যুবদল ও ছাত্রদলের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশও ঘটনার বিষয়ে দেয়নি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য। তবে গাড়িতে হামলার বিষয়টি দুপুরে নিশ্চিত করেছিলেন গোলাপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ছবেদ আলী।
এই হামলার ঘটনা ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে জানিয়েছেন এনসিপি নেত্রী ও সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু। তার অভিযোগ, ‘বিএনপির সন্ত্রাসীরা এতে জড়িত। গাড়িতে আমি, সারজিস এবং অন্যান্য কয়েকজন ছিলাম।’
মিতু বলছেন, ‘এরা আসলে মেরে ফেলার জন্য চেষ্টা করছে। আমাদের গাড়ির ডান পাশের, পেছনের গ্লাসগুলো গুঁড়ো গুঁড়ো করে ফেলছে। পুলিশ নির্বিকার হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তারেক রহমানের কাছে জবাব চাওয়া যাবে না, তাতে আবার নাকি বেয়াদবি হবে।’
এর আগে গত মঙ্গলবার হবিগঞ্জে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি ঘিরে গাড়িবহরে হয় হামলা। ওই ঘটনার জন্য ছাত্রদলকে দায়ী করেন দলটির নেতারা। পরদিন হবিগঞ্জে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার পথে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ও বাহুবল এলাকায় দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহর একাধিকবার পুলিশের বাধায় পড়ে।







