ইউটিউব দেখে তরমুজ চাষে বাজিমাত বাগেরহাটের জাকিরের

পতিত জমিতে তরমুজ চাষে নতুন স্বপ্ন বুনছেন বাগেরহাটের তরুণ উদ্যোক্তা মো. জাকির হোসেন। ছবি: আগামীর সময়
চারপাশে মাছের ঘের। ঘেরের পাশেই ৪০ শতক ফাঁকা জমি। মাছের ঘেরের পাশে দীর্ঘদিন পড়ে থাকা সেই অনাবাদি জমি এখন সবুজে ভরা। লতানো গাছে ঝুলছে ছোট-বড় অসংখ্য তরমুজ। চারপাশে চাষ হচ্ছে কাঁচামরিচ, পেঁপে, টমেটো ও ওলকচুসহ নানা ফসল। এই পতিত জমিতেই নতুন স্বপ্ন বুনছেন বাগেরহাটের তরুণ উদ্যোক্তা মো. জাকির হোসেন।
উপজেলার বেমরতা ইউনিয়নের বটতলা বাজারসংলগ্ন এলাকায় জাকিরের মাছের ঘের রয়েছে। ঘেরের পাশের ৪০ শতক জমি দীর্ঘদিন অনাবাদি পড়ে ছিল। সেই জমিতেই পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় ১ হাজার ২০০টি তরমুজের চারা রোপণ করেছেন তিনি।
জাকির জানালেন, প্রতিটি গাছে দুটি করে ফল রাখার পরিকল্পনা আছে। সে হিসাবে প্রায় ২ হাজার ৪০০টি তরমুজ উৎপাদনের আশা করছেন তিনি। তবে উন্নতমানের ও বড় আকারের ফল নিশ্চিত করতে গাছে অতিরিক্ত ফল এলে সেগুলো অপসারণ করা হবে।
উদ্যোক্তা জাকির আরও জানালেন, তিনি শহরে ব্যবসা করেন। ব্যবসার পাশাপাশি বেমরতা বটতলা বাজার এলাকায় তার একটি মাছের ঘের রয়েছে। ঘেরের পাশে ফাঁকা পড়ে থাকা জমিটি কাজে লাগানোর চিন্তা থেকেই ইউটিউব দেখে তরমুজ চাষের ধারণা নেন। পরে আধুনিক মালচিং পদ্ধতিতে তিন জাতের তরমুজ চাষ শুরু করেন। নিয়মিত পরিচর্যায় ফলনও আশানুরূপ হয়েছে।
তিন জাতের তরমুজই বেশ মিষ্টি ও সুস্বাদু। প্রথম বছর হিসেবে ফলন ভালো হয়েছে। চাষ থেকে ভালো লাভ হবে বলে আশা করছেন তিনি।
তার ক্ষেত দেখে এলাকার অনেকেই তরমুজ চাষে আগ্রহী হয়েছেন। কৃষি বিভাগের প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহযোগিতা পেলে এ অঞ্চলে তরমুজ চাষ আরও বাড়ানো সম্ভব বলেও জানালেন তিনি।
তরমুজের পাশাপাশি জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে চারপাশে কাঁচা মরিচ, ওলকচু, উন্নত জাতের পেঁপে ও টমেটোসহ আরও কয়েক ধরনের ফসল পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করেছেন জাকির। এতে একই জমি থেকে একাধিক ফসল উৎপাদনের পাশাপাশি বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করছেন তিনি।
ক্ষেত দেখতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা সফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, জাকিরের তরমুজের ক্ষেত দেখে তার ভালো লেগেছে। এলাকায় আধুনিক পদ্ধতিতে এভাবে তরমুজ চাষ আগে খুব একটা দেখা যায়নি। ফলনও ভালো হয়েছে। জমি নির্বাচন, পরিচর্যা ও চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে জেনে আগামী মৌসুমে তিনিও তরমুজ চাষের কথা ভাবছেন।
পাইকারি ব্যবসায়ী মিলন শেখ জানিয়েছেন, তরমুজগুলো আকারে সুন্দর ও দেখতে আকর্ষণীয়। ফলন ভালো হলে স্থানীয় বাজারেই এগুলোর চাহিদা তৈরি হতে পারে। এ সময়ে বাজারে তরমুজের সরবরাহ কম থাকায় ভালো মানের তরমুজ পাওয়া গেলে কৃষক ও ব্যবসায়ী উভয়েই লাভবান হবেন।
বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন জানিয়েছেন, পতিত ও অব্যবহৃত জমিকে কৃষির আওতায় এনে বহুমুখী উৎপাদন বাড়ানো গেলে কৃষকের আয়ও বাড়বে। মাছের ঘেরের পাশাপাশি ফাঁকা জমিতে জাকির হোসেনের তরমুজ চাষের উদ্যোগটি সম্ভাবনাময়। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তাকে প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। আগামীতে এ ধরনের আবাদ সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখা হবে।








