খুমেক হাসপাতালের ওটিতে আগুন, স্থানান্তরের সময় আইসিইউ রোগীর মৃত্যু

ছবি: আগামীর সময়
খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের অগুনের ঘটনা ঘটেছে। আজ বুধবার সকাল ৬টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয় তৃতীয় তলায় পুরাতন আইসিইউ ইউনিটের পাশের একটি স্টোররুমে। পরে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিটের এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
এ সময় হাসপাতালের এক নম্বর আইসিইউতে থাকা ১৫ রোগীকে দ্রুত অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়। আগুন আতঙ্কে তাড়াহুড়া করে আইসিইউ থেকে বেরিয়ে আসতে গিয়ে অক্সিজেনের অভাবে নাসরিন নাহার নামে একজন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি খুলনার কয়রা উপজেলার নেছার আলির মেয়ে। ডায়াবেটিস নিয়ে গত রবিবার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আগুন লাগার পর কালো ধোঁয়ায় মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে। পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ড ও ওটির ভেতর ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। এ সময় রোগীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। অনেকে রোগীদের অন্য হাসপাতালে নিয়ে যান। আইসিইউর রোগীদেরও বাইরে সরিয়ে আনা হয়।
ইমারজেন্সি ওটির দায়িত্বে থাকা সহকারী অধ্যাপক দিলীপ কুমার জানিয়েছেন, সকাল ৫টা ৫০ মিনিটের দিকে পোস্ট অপারেটিভ রুম অথবা পাশের স্টোররুমে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। পরে এসির আউটডোর ইউনিট এবং অক্সিজেন লাইনের আউটডোর অংশে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। অক্সিজেন লাইনের মুখে আগুন লাগায় বিস্ফোরণের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়ে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
তিনি আরও বলেছেন, ওটিতে থাকা দুই নার্স ও এক চিকিৎসক জানালা দিয়ে লাফিয়ে বের হন। তারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন। আগুন লাগার সময় ওটি বিভাগের ১৫টি শয্যাতেই রোগী ছিলেন। তাদের মধ্যে একজন রোগী আগুন লাগার আগেই মারা যান এবং আরেক রোগী স্থানান্তরের সময় মারা যান।
ওয়ার্ডবয় রেজাউলের ভাষ্য, স্টোররুম থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ধোঁয়ার কারণে ওটি ও পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। পেছনের দরজা দিয়ে মুমূর্ষু রোগীদের বের করা হয়। ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়া দুই নার্সকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আরেক নার্স তিনতলা থেকে নামতে গিয়ে আহত হন।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১১টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক সরকার মাসুদ আহমেদ জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।
খুমেক হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মী ও আনসার কমান্ডার এসিপি মো. আরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, আগুন নিয়ন্ত্রণের সময় গ্রিল কাটতে গিয়ে গ্রিল ভেঙে পড়ে দুই নার্স ও ফায়ার সার্ভিসের এক সদস্য আহত হন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) হোসেন আলী জানিয়েছেন, শর্টসার্কিট অথবা এসি বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তদন্তের পর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
হাসপাতালের পরিচালক ডা. কাজী আইনুল ইসলাম জানিয়েছেন, আগুনের কারণে অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় আপাতত সব ধরনের অপারেশন বন্ধ রাখা হয়েছে। দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
এদিকে রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টাই অপারেশন চললেও এমন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কীভাবে আগুন লাগল, তা রহস্যজনক। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।





