মধ্যবর্তী নির্বাচন: মেইল ভোটে ট্রাম্পের বিধিনিষেধ আটকে দিল সুপ্রিম কোর্ট

বস্টনে মেইলে ভোটের নিয়ম কঠোর করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের বিরুদ্ধে মামলার শুনানি শেষে ফেডারেল আদালতের বাইরে জড়ো হয়েছেন সমর্থকেরা। ফাইল ছবি / রয়টার্স
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেইলে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপের উদ্যোগ আটকে দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এটি ট্রাম্পের মেইল ভোট সীমিত করার উদ্যোগে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় সময় সোমবার রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠ আদালত মার্কিন ডাক বিভাগের নতুন নিয়ম কার্যকরের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। এই নিয়মের মাধ্যমে মেইলে পাঠানো ব্যালট যাচাই ও বাতিলের ক্ষমতা ডাক বিভাগকে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন।
এর আগে মার্কিন জেলা আদালতের বিচারক ইন্দিরা তালওয়ানি নিয়মটি কার্যকর বন্ধে নির্দেশ দিয়েছিলেন। সুপ্রিম কোর্টের সর্বশেষ সিদ্ধান্তে সেই নির্দেশ বহাল রয়েছে।
গত মার্চে ট্রাম্প মেইলে ভোটের নিয়ম কঠোর করতে একটি নির্বাহী আদেশে সই করেন। এরপর ডাক বিভাগ নতুন নিয়মটি চালু করে।
নিয়ম অনুযায়ী, অঙ্গরাজ্যগুলোকে মেইলে ভোট দেওয়ার ব্যক্তিদের একটি তালিকা ডাক বিভাগকে দিতে হতো। একই সঙ্গে ডাক বিভাগের অনুমোদিত খামের মাধ্যমে ব্যালট পাঠানোর কথা ছিল।
নতুন নিয়মের শর্ত পূরণ না হলে কিংবা নিবন্ধিত ভোটারের তালিকায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম না থাকলে ডাক বিভাগ ব্যালট গ্রহণে অস্বীকৃতি জানাতে পারত।
তবে বিচারক তালওয়ানি নিয়মটি কার্যকরের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেন। তিনি বলেছেন, এটি সম্ভবত মার্কিন সংবিধান লঙ্ঘন করছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনও এগিয়ে আসায় নিয়মটি বাস্তবায়ন করা কঠিন হবে বলে তিনি মনে করেন।
এরপর ট্রাম্প প্রশাসন জরুরি ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ চায়। প্রশাসন যুক্তি দেয়, ডাকব্যবস্থাকে ভোট জালিয়াতির কাজে ব্যবহার ঠেকাতে এই নীতি গুরুত্বপূর্ণ।
আগস্টের শেষ দিকে সুপ্রিম কোর্ট প্রক্রিয়াগত কারণে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ এগিয়ে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছিল। তবে তখন আদালত এই পরিকল্পনা আইনসম্মত কি না, সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি।
সর্বশেষ আদেশে আদালত বলেছে, এই মামলায় ট্রাম্প প্রশাসনের সফল হওয়ার সম্ভাবনা কম। আদালত কোনো স্বাক্ষর ছাড়াই আদেশটি প্রকাশ করেছে।
তবে বিচারপতি স্যামুয়েল আলিটো ও বিচারপতি ক্ল্যারেন্স থমাস ভিন্নমত দিয়েছেন। আলিটো বলেছেন, কিছু আবেদনকারীর এ মামলা করার আইনগত অধিকার নেই। অন্যদের দাবিকে আদালত এর আগে ‘শেষ চেষ্টা’ হিসেবে উল্লেখ করেছিল বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন।
ট্রাম্পের নিয়োগ দেওয়া বিচারপতি ব্রেট কাভানাও সংখ্যাগরিষ্ঠের সঙ্গে ভোট দিয়েছেন। তবে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, ভবিষ্যতে তিনি এ নীতির পক্ষে থাকতে পারেন।
সমালোচকরা সতর্ক করে বলেছেন, নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর হলে হাজার হাজার ব্যালট পৌঁছাতে সমস্যা হতে পারে। এতে মেইলে ভোটের ওপর নির্ভরশীল অনেক ভোটার ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে আলাবামা, নর্থ ক্যারোলাইনা ও উইসকনসিনে এরই মধ্যে ব্যালট পাঠানো শুরু হয়েছে। এসব অঙ্গরাজ্যের মধ্যে কয়েকটিতে মেইলে ভোট দেওয়ার প্রবণতা বেশি।
ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে মেইলে ভোটের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসছেন। তিনি ব্যাপক ভোট জালিয়াতির যে দাবি করে আসছেন, তা এরই মধ্যে খারিজ হয়ে গেছে। তবে ২০২৪ সালের নির্বাচনসহ নিজেও তিনি মেইলে ভোট দিয়েছেন।
সূত্র: আল জাজিরা




