যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিসহ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সুখবর দিল আদালত

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসের কেমব্রিজে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে অংশ নিতে হেঁটে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। ফাইল ছবি / রয়টার্স
বাংলাদেশিসহ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সুখবর দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত। শিক্ষার্থী ও বিদেশি সাংবাদিকদের ভিসার মেয়াদ সীমিত করতে ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া সিদ্ধান্ত বাতিল করেছেন ম্যাসাচুসেটসের ফেডারেল বিচারক এফ. ডেনিস সেইলর চতুর্থ।
স্থানীয় সময় সোমবার দেওয়া রায়ে বিচারক ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নিয়ম স্থগিত করেন। এই নিয়মে বিদেশি শিক্ষার্থী, গবেষক, অধ্যাপক ও অন্যান্য শিক্ষাবিদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সময় সর্বোচ্চ চার বছরে সীমিত করার কথা ছিল।
আগের নিয়মে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে পারতেন। নতুন নিয়মে সেই সুযোগ সীমিত হয়ে যেত। এতে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা প্রায় ৫০ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থীসহ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।
নতুন নিয়ম কার্যকর হলে পিএইচডি শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তেন। একই স্তরে দ্বিতীয় কোনো ডিগ্রি নেওয়া, বিষয় পরিবর্তন করা বা অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে বদলি হওয়ার সুযোগও সীমিত হয়ে যেত।
বিদেশি সাংবাদিকদের ভিসার মেয়াদও ২৪০ দিনে সীমিত করার কথা ছিল। শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকরা ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করতে পারতেন। তবে সেই সিদ্ধান্ত নির্ভর করত হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের কর্মকর্তাদের ওপর। আবেদন প্রত্যাখ্যান হলে আপিলের সুযোগও থাকত না।
আদালত সাংবাদিকদের ভিসার মেয়াদ সীমিত করার নিয়মটিও বাতিল করেছেন।
৪৮ পৃষ্ঠার রায়ে বিচারক বলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসন নতুন নিয়মের পক্ষে যে যুক্তি দিয়েছে, তা মূলত কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। শিক্ষার্থী সেজে আসা অভিবাসীদের ব্যাপক জালিয়াতির কোনো প্রমাণও পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও বলেছেন, নতুন নিয়ম যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা ও অর্থনীতির জন্য ‘বিপর্যয়কর’ হতে পারে। এর ফলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে নিরুৎসাহিত হতে পারেন।
জাতীয় নিরাপত্তার জন্য চার বছরের সীমা প্রয়োজন— ট্রাম্প প্রশাসনের এ যুক্তিকেও বিচারক কঠোরভাবে সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, চার বছরের সময়সীমা কীভাবে ভিসা জালিয়াতি ঠেকাবে, কর্মকর্তারা তার কোনো ব্যাখ্যা দেননি।
বিদেশি সাংবাদিকদের ক্ষেত্রেও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ নতুন নিয়মের পক্ষে জোরালো যুক্তি দিতে পারেনি বলে রায়ে উল্লেখ করেছেন বিচারক। জাতীয় নিরাপত্তা, জালিয়াতি বা নিয়মের অপব্যবহার নিয়ে কোনো প্রমাণ বা সুস্পষ্ট ব্যাখ্যাও তারা দিতে পারেনি।
এই রায়ের বিরুদ্ধে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ আপিল করবে কি না, তা স্পষ্ট করেনি। তবে এক বিবৃতিতে বিভাগটি বলেছে, প্রকৃত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের নিয়ে গণমাধ্যম সত্যিই চিন্তিত হলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানাত। কারণ, তার নেওয়া পদক্ষেপের মাধ্যমে ব্যাপক জালিয়াতি ঠেকানো সম্ভব হবে এবং প্রকৃত শিক্ষার্থীরাই যুক্তরাষ্ট্রে পড়ার সুযোগ পাবেন।




