চীনের ‘পান্ডা কূটনীতি’: শির ওয়াশিংটন সফরের পর যুক্তরাষ্ট্রে পিং পিং ও ফু শুয়াং

পিং পিং ও ফু শুয়াং— এক্স
চীন-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে বড় কোনো অগ্রগতি না এলেও কূটনীতিতে নরম বার্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছে চীনের দুই জায়ান্ট পান্ডা। শি জিনপিংয়ের ওয়াশিংটন সফরের কয়েক দিনের মধ্যেই চেংদু থেকে ১৬ ঘণ্টার যাত্রা শেষে আটলান্টায় পৌঁছেছে পিং পিং ও ফু শুয়াং। আগামী ১০ বছর আটলান্টা চিড়িয়াখানায় থাকবে পান্ডা দুটি। দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেও ‘পান্ডা কূটনীতি’র মাধ্যমে বন্ধুত্বের বার্তা দিচ্ছে বেইজিং।
পান্ডা দুটি পাঠানোর বিষয়ে আগে থেকেই চুক্তি হয়েছিল। তবে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ওয়াশিংটন সফরের সময় গত বৃহস্পতিবার তাদের যাত্রার ঘোষণা দেওয়া হয়।
কালো-সাদা এই প্রাণী দুটি সারা বিশ্বেই অত্যন্ত জনপ্রিয়। বিদেশি সম্পর্ক জোরদারের অংশ হিসেবে ‘পান্ডা কূটনীতি’ কর্মসূচির আওতায় চীন বিভিন্ন দেশে পান্ডা পাঠিয়ে থাকে।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, পিং পিং ও ফু শুয়াং শনিবার স্থানীয় সময় রাত ৩টার দিকে একটি চার্টার্ড ফ্লাইটে চেংদু শুয়াংলিউ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছেড়ে যায়।
পরে সিনহুয়া জানায়, ১৬ ঘণ্টার যাত্রা শেষে স্থানীয় সময় রবিবার সকাল ৭টার কিছু আগে জর্জিয়ার আটলান্টায় পৌঁছায় পান্ডা দুটি।
চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম গ্লোবাল টাইমস জানিয়েছে, উড়োজাহাজে পান্ডা দুটির খাবারের জন্য ভাপানো ভুট্টার বান, বাঁশের কচি ডগা ও গাজর রাখা হয়েছিল।
যাত্রার আগে চেংদু রিসার্চ বেস অব জায়ান্ট পান্ডা ব্রিডিংয়ের পক্ষ থেকে তাদের বিদায় জানাতে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
গ্লোবাল টাইমস জানিয়েছে, পান্ডা দুটির সঙ্গে উড়োজাহাজে যাওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অভিজ্ঞ পরিচর্যাকারীদের পাঠানো হয়েছিল।
পান্ডা দুটির আগমন উপলক্ষে আটলান্টা চিড়িয়াখানা তাদের জন্য নির্ধারিত স্থাপনাগুলো সংস্কার করেছে এবং প্রাণীগুলোর পরিচর্যার জন্য একটি দল গঠন করেছে।
এ ছাড়া আটলান্টায় স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বাঁশের স্থিতিশীল ও দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। আটলান্টার জলবায়ু চীনের চেংদুর জলবায়ুর সঙ্গে অনেকটাই সাদৃশ্যপূর্ণ।
এর আগে ১৯৯৯ সাল থেকে একটানা ২৫ বছর চীনের কাছ থেকে ধার নেওয়া পান্ডা আটলান্টা চিড়িয়াখানায় ছিল। তবে ২০২৪ সালের পর থেকে সেখানে কোনো পান্ডা ছিল না।
পান্ডা দুটি ২০২০ সালে জন্ম নেয়। পুরুষ পিং পিংয়ের বয়স এখন ছয় বছর। আর নারী ফু শুয়াং আগামী মাসে ছয় বছরে পা দেবে।
বন্দিদশায় পান্ডারা সাধারণত প্রায় ৩০ বছর বাঁচে। কূটনৈতিক সদিচ্ছার প্রতীক হিসেবে ‘সফট পাওয়ার’ দূত হিসেবে চীন কয়েক দশক ধরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই লোমশ প্রাণীগুলো পাঠিয়ে আসছে।
১৯৭২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের ঐতিহাসিক চীন সফরের পর ওয়াশিংটনকে এক জোড়া পান্ডা উপহার দিয়েছিল চীন।
তাইওয়ানে কোনো হামলা হলে টোকিও সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করতে পারে বলে জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইঙ্গিত দেওয়ার পর দেশটির সঙ্গে কূটনৈতিক বিরোধ শুরু হয়। এর জেরে চলতি বছরের শুরুতে জাপান থেকে দুটি পান্ডা ফিরিয়ে নেয় বেইজিং।
সূত্র: এএফপি




