ট্রাম্পের বিপর্যয়ে নতুন অঙ্ক!
ফের হোয়াইট হাউজের দৌড়ে কমলা হ্যারিস?
- মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের ঐতিহাসিক জয়ের পর ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে জল্পনা
- কমলা হ্যারিস থেকে জেডি ভ্যান্স, হোয়াইট হাউজের পরবর্তী লড়াইয়ে কারা?

ছবি: রয়টার্স
একটি নির্বাচনের ধুলো এখনো থিতিয়ে বসেনি। তার মধ্যেই শুরু আরেক নির্বাচনের হিসাব। দু’বছর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে হেরে হোয়াইট হাউস ছাড়তে হয়েছিল কমলা হ্যারিসকে। এবার ট্রাম্পের দলের নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর সেই কমলাই আবার আলোচনায়। আমেরিকার প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হওয়ার স্বপ্ন কি ফের দেখতে চলেছেন তিনি? নাকি নতুন মুখের হাতেই ভবিষ্যৎ খুঁজবে ডেমোক্র্যাটরা?
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজের প্রতিবেদনে ২০২৮ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা উঠে এসেছে। গত মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় পরাজয়ের পর দুই দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়েই নতুন করে শুরু হয়েছে হিসাব।
বৃহস্পতিবার রয়টার্স জানিয়েছে, ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস, ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজম, কেন্টাকির গভর্নর অ্যান্ডি বেশিয়ার, সাবেক পরিবহনমন্ত্রী পিট বুটিজেজ এবং প্রগতিশীল কংগ্রেস সদস্য আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কোর্তেস। তবে কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থিতা ঘোষণা করেননি।
কমলা হ্যারিসের প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা বিশেষভাবে আলোচিত। ২০২৪ সালে ট্রাম্পের কাছে পরাজিত হলেও রাজনীতি ছাড়েননি তিনি। বুধবার অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানিয়েছেন, আবার নির্বাচনে দাঁড়ান কিংবা না দাঁড়ান, দলের ভবিষ্যৎ গঠনে ভূমিকা রাখতে চান। তার বক্তব্য, নিজের অভিজ্ঞতার সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয় ও মানুষের কণ্ঠস্বর সামনে আনার দায়িত্ব অনুভব করেন তিনি।
কিন্তু ডেমোক্র্যাটদের সামনে কঠিন প্রশ্ন। মধ্যপন্থী রাজনীতিতে ফিরবেন তারা, নাকি আরও প্রগতিশীল পথ বেছে নেবেন? দলের কৌশলবিদ স্কট ফারসনের দাবি, অন্তত ৩০ জন ডেমোক্র্যাট নেতা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা বিবেচনা করছেন।
অন্যদিকে রিপাবলিকানদের সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিস্যান্টিস ও টেক্সাসের সিনেটর টেড ক্রুজ।
ভ্যান্সের সামনে অবশ্য বড় সংকট। ইরান যুদ্ধকে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের কারণ বলেছেন তিনি নিজেই। অথচ সেই যুদ্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া ট্রাম্প প্রশাসনেরই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যক্তি তিনি। ফলে ট্রাম্পের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ধরে রাখা এবং তার বিতর্কিত নীতি থেকে দূরত্ব তৈরি করার মধ্যে ভারসাম্য খুঁজতে হচ্ছে তাকে।
মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী, দুবার নির্বাচিত ট্রাম্প তৃতীয়বার প্রেসিডেন্ট হতে পারবেন না। ফলে ২০২৮ সালে দুই দলেই নতুন নেতৃত্বের লড়াই অনিবার্য।
মঙ্গলবারের ভোটে কংগ্রেসের দুই কক্ষই জিতেছে ডেমোক্র্যাটরা। কিন্তু ট্রাম্পবিরোধী ভোট যে তাদের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ের নিশ্চয়তা দেবে, এমন নয়।
দুবছর আগে যে কমলা হ্যারিসের স্বপ্ন ভেঙেছিল ভোটের বাক্সে, সেই ভোটের বাক্সই কি তাকে আরেকবার সুযোগের সামনে দাঁড় করাবে? নাকি আমেরিকার পরবর্তী অধ্যায়ের লেখক হবেন সম্পূর্ণ নতুন কেউ? হোয়াইট হাউজের দরজা খুলতে এখনো দুবছর বাকি। কিন্তু সেই দরজার চাবি খোঁজা শুরু হয়ে গেছে এখনই।



