এআই নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন ট্রাম্প

ছবি: রয়টার্স
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) খাতের শীর্ষ নির্বাহীরা মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও একজন শীর্ষ রিপাবলিকান নেতার সঙ্গে বৈঠক করবেন। একই সময় কংগ্রেসে এআই শিল্পের ওপর আরও কঠোর নজরদারির দাবি উঠছে।
নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে প্রযুক্তি জায়ান্ট ওপেনএআই তাদের নতুন মডেল প্রকাশ বাতিল করার পর এবং প্রযুক্তিটির নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার একাধিক ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর দ্রুত এই বৈঠক হতে যাচ্ছে।
সিএনএনের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবারের মধ্যাহ্নভোজের বৈঠকে মেটার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মার্ক জাকারবার্গ, গুগলের সিইও সুন্দর পিচাই এবং ওপেনএআইয়ের প্রেসিডেন্ট গ্রেগ ব্রকম্যান অংশ নেবেন।
বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি এএফপিকে জানিয়েছেন, অ্যানথ্রপিকের সিইও দারিও আমোদেইও বৈঠকে থাকবেন। এর মাত্র দুই দিন আগে ট্রাম্পের সঙ্গে তিনি ব্যক্তিগত বৈঠক করেছিলেন। স্পেসএক্সের নির্বাহী ইলন মাস্কও বৈঠকে অংশ নেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত আরেক ব্যক্তি জানিয়েছেন, এনভিডিয়ার সিইও জেনসেন হুয়াংও বৈঠকে থাকবেন।
এই বৈঠক ওয়াশিংটনে ক্রমবর্ধমান বিভাজনকে সামনে এনেছে। এআইয়ের উন্নয়ন সীমিত বা ধীর করার জন্য ভোটারদের চাপ বাড়ছে আইনপ্রণেতাদের ওপর। তাদের আশঙ্কা, এআই কর্মীদের কাজ কেড়ে নিতে পারে এবং সমাজব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।
ওপেনএআইয়ের স্বয়ংক্রিয় এজেন্টগুলো নিজেদের ওপর আরোপিত সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে যাওয়ার ধারাবাহিক কয়েকটি ঘটনার পর এসব উদ্বেগ আরও জোরালো হয়েছে। এর শুরু হয় জুলাইয়ে হাগিং ফেসে একটি অনুপ্রবেশের ঘটনায়। এআই মডেল শেয়ার করার জন্য ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত একটি প্ল্যাটফর্ম হলো হাগিং ফেস।
সপ্তাহান্তে ওপেনএআই জানায়, তাদের এজেন্টগুলো যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থার ওয়েবসাইটেও প্রবেশ করেছিল। এর এক সপ্তাহ আগে প্রতিষ্ঠানটি স্বীকার করেছিল, তাদের এজেন্ট অস্ট্রেলিয়ার একটি সরকারি ওয়েবসাইটে প্রবেশের চেষ্টা করেছিল।
চ্যাটজিপিটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি সোমবার জানায়, তাদের সর্বশেষ মডেল ‘অ্যাস্ট্রা ৬.১’ প্রকাশ বাতিল করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ পরীক্ষায় মডেলটি নিরাপত্তার মানদণ্ড পূরণ করতে পারেনি বলে প্রতিষ্ঠানটি এ সিদ্ধান্ত নেয়।
ট্রাম্পের পরামর্শক হুয়াং এবং তার সাবেক এআইবিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তা ডেভিড স্যাকস। তাদের পরামর্শে ট্রাম্প চীনের চেয়ে এগিয়ে যেতে এবং এআইনির্ভর প্রবৃদ্ধির ওপর ক্রমশ নির্ভরশীল মার্কিন অর্থনীতিকে চাঙা করতে এআইয়ের অবাধ উন্নয়নের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন।
এআই প্রযুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় বিশাল কম্পিউটিং স্থাপনা ডেটা সেন্টারও একটি বড় বিতর্কের বিষয় হয়ে উঠেছে। দুই দলের মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিদ্যুতের বিল বাড়তে পারে এবং পানি ও জমির ওপর চাপ তৈরি হতে পারে—এমন আশঙ্কায় ক্রমেই বেশিসংখ্যক কমিউনিটি ডেটা সেন্টার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে।
ডেটা সেন্টারের বিরোধীদের সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেছেন, যেসব কমিউনিটি এগুলোর বিরোধিতা করছে, তারা ‘পিছিয়ে পড়া ও দরিদ্র হয়ে থাকতে চায়।’ তিনি আরও বলেছেন, এই বিরোধিতা নিয়ে চীন ‘এর চেয়ে বেশি খুশি হতে পারত না।’
এআই নিয়ে বিতর্কে অস্বাভাবিক রাজনৈতিক মিত্রতাও তৈরি হয়েছে। এআই প্রতিযোগিতা নতুন করে ভাবার আহ্বান জানাতে এ মাসে ওয়াশিংটনে একই মঞ্চে হাজির হয়েছিলেন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স ও ট্রাম্পের সাবেক কৌশলবিদ স্টিভ ব্যানন।



