গোপনীয়তা রক্ষার ‘চুক্তি ভেঙেছে’ কিয়েভ, ক্ষমা চাইতে বলল সিউল

ছবি: রয়টার্স
রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গিয়ে আটক হওয়া দুই উত্তর কোরীয় সেনাকে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে হস্তান্তর নিয়ে নতুন করে বিরোধে জড়িয়েছে কিয়েভ ও সিউল। যুদ্ধবন্দিদের হস্তান্তরের বিষয়টি গোপন রাখার সমঝোতা ইউক্রেন একতরফাভাবে লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। বিষয়টি নিয়ে কিয়েভকে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দিতে ও ক্ষমা চাইতে বলেছে সিউল। দুই দেশের এই বিরোধের প্রভাব পড়তে পারে ইউক্রেনকে দক্ষিণ কোরিয়ার অস্ত্র সরবরাহের প্রচেষ্টাতেও।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি গত সপ্তাহে দুই উত্তর কোরীয় সেনাকে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে হস্তান্তরের কথা প্রকাশ করার পর এ বিরোধের সূত্রপাত হয়। তিনি বলেছিলেন, তাদের ‘জীবিত অবস্থায় আটক করা সহজ ছিল না’।
জেলেনস্কির বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পর দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং এ পদক্ষেপের সমালোচনা করেন। এক্সে তিনি লেখেন, ‘ইউক্রেনের পক্ষ কেন সমঝোতা ভেঙে বিষয়টি প্রকাশ্যে আনল, তা আমি জানি না। তবে বিষয়টি অত্যন্ত হতাশাজনক।’
জেলেনস্কির সহযোগী দিমিত্রো লিতভিন বিষয়টি হালকা করে দেখানোর চেষ্টা করেন। তিনি বলেছেন, প্রেসিডেন্ট শুধু সেনা দুজনকে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে হস্তান্তরের বিষয়টি প্রকাশ্যে জানিয়েছেন। লিতভিন বলেন, ইউক্রেন একটি ‘উন্মুক্ত দেশ’ এবং সেনাদের গোপনে হস্তান্তর করা ‘অস্বাভাবিক’ হতো।
তবে সিউল এটিকে আস্থার লঙ্ঘন হিসেবে নিন্দা করেছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের জনসংযোগবিষয়ক জ্যেষ্ঠ সচিব সিয়ং গি-হং রবিবার রাতে এক বিবৃতিতে বলেছেন, দক্ষিণ কোরিয়া ‘এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে’।
তিনি বললেন, ‘দুই দেশের মধ্যে গোপনীয়তা রক্ষার যে চুক্তি ছিল, ইউক্রেনের পক্ষ তা ভঙ্গ করে একতরফাভাবে বিষয়টি প্রকাশ করেছে—এটি নিজেই অত্যন্ত গুরুতর বিষয়।’
তিনি আরও বললেন, ‘তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের প্রেস অফিস গোপনীয়তার কোনো চুক্তি ছিল না বলে যে মিথ্যা বিবৃতি দিয়েছে, তা দুই সরকারের মধ্যে আস্থাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে গুরুতর ক্ষতি করেছে।’
সিয়ং বলেছেন, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ‘আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা ও ক্ষমা’ দাবি করছে।
গত বছরের শুরুর দিকে রাশিয়ার হয়ে লড়াইরত উত্তর কোরিয়ার সেনাদের মধ্যে দুইজনকে আটক করে ইউক্রেন। তাদের একজন জানান, তিনি একটি গোয়েন্দা ইউনিটে দায়িত্ব পালন করতেন। উত্তর কোরিয়ার কিছু সেনাকে রুশ সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেওয়া হলেও তাকে দেওয়া হয়নি বলে জানান তিনি।
বিশ্লেষকদের ধারণা, গোপনীয়তা রক্ষার চুক্তি নিয়ে লি জে মিয়ংয়ের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া পারমাণবিক অস্ত্রধারী উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে তীব্র বিরোধের সূত্রপাত ঘটাতে পারে, যা সিউলের বিরুদ্ধে আরও বৈরিতায় রূপ নিতে পারে।
ইহওয়া উইমেন্স ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক পার্ক ওয়ান-গন বললেন, ‘উত্তর কোরিয়া মোতায়েন করা সেনাদের ব্যবহার করে শাসকগোষ্ঠীর প্রচারের জন্য বীরত্বপূর্ণ একটি বয়ান তৈরি করছে। দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের আশঙ্কা, যুদ্ধবন্দিদের দক্ষিণ কোরিয়ায় ফেরত পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করা এবং তা প্রকাশ্যে আনলে সিউলের বিরুদ্ধে বৈরিতা আরও বাড়তে পারে।’
দক্ষিণ কোরিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এর প্রভাবের বাইরে, এই বিরোধ মিত্র দেশটির কাছে অস্ত্র সরবরাহের জন্য কিয়েভের অনুরোধও জটিল করে তুলতে পারে।
এখন পর্যন্ত দক্ষিণ কোরিয়া ইউক্রেনকে প্রাণঘাতী অস্ত্র সরবরাহ করেনি। যুদ্ধে লিপ্ত দেশগুলোকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার ওপর দেশের অভ্যন্তরীণ নিষেধাজ্ঞার কথা উল্লেখ করে তারা এ অবস্থান নিয়েছে। তবে বিশেষ করে উত্তর কোরিয়া রাশিয়ার সমর্থনে সেনা মোতায়েন করার পর থেকে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্রের অনুরোধগুলো বিবেচনা করছিল দক্ষিণ কোরিয়া।
সূত্র: ইউরো নিউজ




