কানাডায় বারবারই ব্যর্থ ট্রাম্প
- খুলছে মিশিগান-অন্টারিও সংযোগ সেতু

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
কানাডায় বারবার ব্যর্থ হচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২০২৪ সালের শেষ এবং ২০২৫ সালের প্রথম দিকে কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম প্রদেশ বানানোর ইচ্ছা পোষণ করে ব্যর্থ হন তিনি। সে সময় তার এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন কানাডার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। এবার তার আপত্তি ও হুমকি উপেক্ষা করে চালু হতে যাচ্ছে দেশ দুটির মধ্যে নির্মিত ‘গর্ডি হাউ ইন্টারন্যাশনাল ব্রিজ’। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে ২৭ জুলাই জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে এটি।
ট্রাম্পের আপত্তি ও হুমকির কারণে উদ্বোধন নিয়ে সৃষ্টি হওয়া জটিলতা কাটিয়ে ডেট্রয়েট নদীর ওপর নির্মিত সেতুটি চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কানাডার অবকাঠামো মন্ত্রণালয় গত শুক্রবার জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পূর্ণ সমর্থন নিয়ে নির্ধারিত সময়ে কার্যক্রম শুরু হবে সেতুটির। নতুন এ যোগাযোগব্যবস্থা দুদেশের সীমান্ত বাণিজ্য, যাতায়াত এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রমে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছে কানাডা সরকার।
মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, সেতুটি কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সংযোগ হিসেবে কাজ করবে। ভবিষ্যতে দশকের পর দশক ধরে দুদেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে শত শত কোটি ডলারের অবদান রাখবে।
শুক্রবার উদ্বোধনের তারিখ ঘোষণার আগে গত মাসে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে কারিগরি জটিলতার কারণে সেতুটির উদ্বোধন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছিল।
সেতুটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৬ দশমিক ৪ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার (৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার)। এই সেতু যুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেট্রয়েট এবং কানাডার অন্টারিও প্রদেশের উইন্ডসর শহরকে। ২০১৮ সালে শুরু হওয়া সেতুটির নির্মাণকাজ কয়েক বছর ধরে চলার পর গত মাসে উদ্বোধনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কিছু আপত্তি ও প্রযুক্তিগত বিষয় নিয়ে আলোচনা শুরু হলে পিছিয়ে যায় এর উদ্বোধন।
এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেছিলেন, সেতুটি নির্মাণের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ন্যায্য আচরণ করা হয়নি। এর মালিকানায় যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদারত্ব দাবি করে প্রকল্পটি আটকে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছিলেন তিনি।
পরে দুদেশের মধ্যে নতুন সমঝোতা হওয়ার পর ট্রাম্প কানাডা সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, নতুন চুক্তির মাধ্যমে আগের চেয়ে ভালো সুবিধা পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প বললেন, ‘নতুন চুক্তিটি তার কাছে আরও গ্রহণযোগ্য ও ন্যায্য। ফলে ডেট্রয়েট ও উইন্ডসরের মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী এই গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্ধারিত সময়েই চালু হচ্ছে।’
উইন্ডসর-ডেট্রয়েট ব্রিজ অথরিটির তথ্য অনুযায়ী, সেতুটির নির্মাণ ব্যয়ের পুরো অর্থায়ন করেছে কানাডা। তবে এটি যৌথভাবে কানাডা সরকার ও যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের মালিকানায় থাকবে। কানাডিয়ান হকি কিংবদন্তি গর্ডি হাউয়ের নামে নামকরণ করা এই সেতুকে দুদেশের বন্ধুত্ব, সহযোগিতা ও দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।




