মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে শপথ নিলেন নরওয়ের নতুন রাজা

পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে সংবিধান মেনে চলার শপথ নিয়েছেন নরওয়ের নতুন রাজা অষ্টম হাকন। ছবি: সংগৃহীত
পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে দেশটির সংবিধান মেনে চলার শপথ নিয়েছেন। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) নরওয়ের পার্লামেন্ট স্টরটিংয়ে অনুষ্ঠিত এই শপথ অনুষ্ঠানে তার পাশে ছিলেন কন্যা ও সিংহাসনের উত্তরাধিকারী রাজকন্যা ইনগ্রিড আলেকজান্দ্রা। তবে ঐতিহাসিক এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না রানি মেটে-মারিত। অস্ত্রোপচারের পর শারীরিক জটিলতার কারণে অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেননি তিনি।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ৫৩ বছরের হাকন শপথে নরওয়ের ১৮১৪ সালের সংবিধান ও আইন মেনে দেশটির রাজ্য পরিচালনার অঙ্গীকার করেন। তার এই শপথের মধ্য দিয়ে পিতা রাজা পঞ্চম হারাল্ডের দীর্ঘ ৩৫ বছরের রাজত্বের পর নরওয়ের রাজতন্ত্রে নতুন অধ্যায়ের আনুষ্ঠানিক সূচনা হলো।
রাজা পঞ্চম হারাল্ডের মৃত্যুর পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিংহাসনে আরোহণ করেন হাকন। ৮৯ বছরে গত শুক্রবার (২৮ আগস্ট) হারাল্ডের মৃত্যু হয়। তিন দশকের বেশি সময় ধরে নরওয়ের রাজতন্ত্রের প্রতীক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
শপথ অনুষ্ঠানে হাকনের সঙ্গে ছিলেন তার ২২ বছরের কন্যা রাজকন্যা ইনগ্রিড আলেকজান্দ্রা, যিনি ভবিষ্যৎ সিংহাসনের উত্তরাধিকারী। এ ছাড়া ছিলেন রাজপুত্র স্ভেরে ম্যাগনাস এবং প্রয়াত রাজা হারাল্ডের স্ত্রী রানি সোনিয়া।
তবে রাজপরিবারের জন্য আনন্দের এই অনুষ্ঠানে উদ্বেগের ছায়াও ছিল। হাকনের স্ত্রী রানি মেটে-মারিত অস্ত্রোপচারের পর শারীরিক জটিলতার কারণে অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেননি।
রাজপ্রাসাদ জানিয়েছে, ফুসফুস প্রতিস্থাপনের পর রানির কিছু জটিলতা দেখা দিয়েছে। চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে সারাদিন পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। চিকিৎসক আরে হোলম জানিয়েছেন, ফুসফুস প্রতিস্থাপনের পর এ ধরনের জটিলতা অস্বাভাবিক নয়। তবে সতর্কতার জন্য রানিকে অনুষ্ঠানে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নরওয়েতে প্রচলিত অর্থে রাজাদের অভিষেক বা রাজ্যাভিষেক অনুষ্ঠান হয় না। তবে ভবিষ্যতে ট্রনডহাইমের নিদারোস ক্যাথেড্রালে ঐতিহ্যবাহী আশীর্বাদ অনুষ্ঠান হতে পারে বলে জানানো হয়েছে একাধিক প্রতিবেদনে।
শপথ অনুষ্ঠানে পার্লামেন্টের স্পিকার মাসুদ গারাহখানি প্রয়াত রাজা হারাল্ডের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং মানুষের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রশংসা করেন। নতুন রাজার কাছেও সেই ঐতিহ্য ধরে রাখার প্রত্যাশা জানানো হয়।
এদিকে হাকনের শপথের সময় নরওয়ের রাজতন্ত্রের প্রতি জনসমর্থনও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। নরওয়ের সম্প্রচার সংস্থা এনআরকের জন্য জরিপ প্রতিষ্ঠান নরস্ট্যাটের সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, ৭২ শতাংশ নাগরিক এখনো রাজতন্ত্রের পক্ষে। মে মাসের জরিপে এই হার ছিল ৬৪ শতাংশ। রাজা হারাল্ডের মৃত্যুর পর রাজতন্ত্র নিয়ে এটিই প্রথম জনমত জরিপ।
শোক, ঐতিহ্য ও নতুন প্রত্যয়ের মধ্য দিয়ে নরওয়ে দেখল রাজা হাকনের শপথের দিন। পিতার রেখে যাওয়া উত্তরাধিকার ধরে রেখে এখন নতুন প্রজন্মের কাছে রাজতন্ত্রকে প্রাসঙ্গিক রাখা এবং মানুষের আস্থা ধরে রাখাই হাকনের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।
ভাষান্তর: ইরফান রহমান








