আদালতের রায়
কারাগারে পরিবারের দেখা পাবেন ইমরান খান ও তার স্ত্রী

ছবি: রয়টার্স
পাকিস্তানের আদিয়ালা কারাগারে ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবিকে ঘিরে এবার আদালতের হস্তক্ষেপ। ইসলামাবাদ হাইকোর্ট তাদের একাকী বন্দিত্বে রাখার বিরুদ্ধে করা আবেদন গ্রহণ করে দুজনের কাউকেই একাকী বন্দিত্বে না রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা, ইমরানের ছেলেদের সঙ্গে ফোনে কথা বলা, বই ও সংবাদপত্র পাওয়ার সুযোগ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশও দিয়েছেন আদালত।
বিচারপতি খাদিম হুসাইন সুমরো গত ৬ আগস্ট স্থগিত রাখা রায়টি মঙ্গলবার ঘোষণা করেন। আদালত বেগম নুসরাত ভুট্টো ও বেগম শামীম আফ্রিদি মামলার নীতির আলোকে আবেদনগুলো গ্রহণযোগ্য বলে জানান।
আদালত কারাবিধি অনুযায়ী ইমরান ও বুশরা বিবির সাক্ষাতের ব্যবস্থা করতে এবং ইমরানের পরিবারের সদস্যদের তার সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তার দুই ছেলের সঙ্গে ফোনে কথা বলার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। তবে এসব ফোনালাপের রেকর্ড রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার হলে ফোনের সুযোগ প্রত্যাহার করা যাবে।
ইমরানকে প্রতিদিন সংবাদপত্র ও বই এবং কারাবিধি অনুযায়ী চিকিৎসাসেবা দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বুশরা বিবিকে একাকী বন্দিত্বে না রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করে ১৫ দিনের মধ্যে বাস্তবায়ন প্রতিবেদন জমা দিতে আদিয়ালা কারাগারের সুপারিনটেনডেন্টকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইমরানের বোন আলিমা খান এবং বুশরা বিবির মেয়ে মুবাশশিরা খাওয়ার মানেকা আবেদন দুটি করেছিলেন। তাদের অভিযোগ ছিল, ইমরান ও বুশরাকে দীর্ঘদিন একাকী রাখা হচ্ছে।
তবে সরকার ও কারা কর্তৃপক্ষ এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছিল, নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে দুজনকে আলাদাভাবে রাখা হয়েছে। কারা সুপারিনটেনডেন্ট সাজিদ বায়েগ জানিয়েছিলেন, ইমরানকে সারাক্ষণ একটি কক্ষে রাখা হয় না; সাতটি কক্ষ নিয়ে একটি কম্পাউন্ডে তিনি দিনের বেলায় চলাফেরা করতে পারেন। বুশরার ক্ষেত্রেও একই ধরনের নিরাপত্তাজনিত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।
আবেদনকারীদের আইনজীবী ব্যারিস্টার সালমান সফদার অবশ্য দাবি করেন, এসব বিধিনিষেধ দীর্ঘমেয়াদি একাকীত্ব ও মানসিক চাপের কারণ হচ্ছে। তিনি আইনজীবী, পরিবারের সদস্য ও বইয়ের সীমিত প্রবেশাধিকার নিয়েও অভিযোগ করেন।
গত সপ্তাহে ইমরানের দুই ছেলের সাক্ষাৎকার সম্প্রচারের পর পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় দাবি করে, ইমরান ‘শাস্তিমূলক একাকী বন্দিত্ব, নিষ্ঠুরতা বা সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত’ হচ্ছেন না। সাক্ষাৎ, ফোনে কথা বলা, বইপত্র ও বাড়িতে রান্না করা খাবারসহ বিভিন্ন সুবিধা তাকে দেওয়া হচ্ছে বলেও জানায় মন্ত্রণালয়।
তথ্য মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, ইমরান নির্বাহী আদেশে আটক নন; একাধিক মামলায় বিচারিক প্রক্রিয়ার পর দোষী সাব্যস্ত হয়ে তিনি কারাবন্দি এবং পাকিস্তানের আইনে তার জন্য উন্মুক্ত সব আইনি প্রতিকার নেওয়ার অধিকার রয়েছে। পিটিআই পরে এসব দাবিকে ‘বিভ্রান্তিকর, বানোয়াট ও ভুল’ বলে প্রত্যাখ্যান করে।
সূত্র : দ্য ডন








