পবিত্র কোম শহরে খামেনির মরদেহ, হবে শোক মিছিল

সংগৃহীত ছবি
ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মরদেহ পবিত্র কোম শহরে নেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা। আজ মঙ্গলবার পবিত্র কোম শহরে তার শোক মিছিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ছবিতে দেখা গেছে, খামেনির মরদেহ বহনকারী একটি হেলিকপ্টার রাজধানী তেহরানের দক্ষিণে অবস্থিত এই শহরে অবতরণ করছে।
এর আগে টানা তৃতীয় দিনের মতো খামেনির শেষ বিদায়ের মিছিলে অংশ নিতে রাজধানীর সড়কে নেমে আসেন লাখ লাখ শোকার্ত ইরানি। গতকাল সোমবার গ্র্যান্ড মোসাল্লা থেকে খামেনির কফিন শহরের আজাদি স্কয়ারে নেওয়া হয়।
আজাদি স্কয়ারে পৌঁছালে কালো পোশাক পরিহিত শোকার্ত ইরানিরা কফিনগুলোর ওপর ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানান। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, কফিনগুলোর মধ্যে খামেনির নাতনির একটি ছোট কফিনও ছিল। মৃত্যুর সময় তার বয়স ছিল মাত্র ১৪ মাস।
দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, তেহরানে এদিন বেশ কয়েক মাইল দীর্ঘ শোকমিছিল অনুষ্ঠিত হয়। ইমাম হোসেন স্কয়ার থেকে আজাদি স্কয়ার পর্যন্ত এই শোকমিছিলে লাখ লাখ শোকার্ত ইরানি অংশ নেন।
গতকাল সোমবার তেহরানে শেষ বিদায়ের মিছিলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে অংশ নিয়েছিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘আজ আমরা ইরানের সম্মান, অগ্রগতি এবং গৌরবের পথ অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করছি।’
মিছিলে অংশ নেওয়া অন্যান্য হাই-প্রোফাইল ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি, বিচার বিভাগের প্রধান গোলামহোসেইন মহসেনি এযেই এবং কুদস ফোর্সের প্রধান ইসমাইল কানি।
এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ বিমান হামলায় নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। এই হামলায় নিহত হন খামেনি পরিবারের আরও চার সদস্য।
আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা ও দাফন ঘিরে গত শুক্রবার থেকে তেহরানে নজিরবিহীন আয়োজন শুরু হয়। এদিন গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদে রাখা হয় খামেনির কফিন। সেখানে কূটনীতিক ও বিদেশি অতিথিরা শ্রদ্ধা জানান।
শনিবার জনসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের গ্র্যান্ড মোসাল্লার সব দরজা খুলে দেওয়া হয়। রবিবার তেহরানে জানাজা শেষে সোমবার রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোয় অনুষ্ঠিত হয় শোকযাত্রা।
আজ মঙ্গলবার মরদেহ নেওয়া হয়েছে পবিত্র নগরী কোমে। বুধবার কর্মসূচি সীমান্ত পেরিয়ে ইরাকের নাজাফ ও কারবালায় পৌঁছাবে। এরপর বৃহস্পতিবার খামেনির জন্মস্থান মাশহাদে ইমাম রেজার মাজারে তাকে দাফন করা হবে।






