মাদক মামলায় টিভি উপস্থাপিকার মৃত্যুদণ্ড

সারাহ খলিফা। ছবি: সংগৃহীত
মাদক মামলায় মিসরের টেলিভিশন উপস্থাপিকা সারাহ খলিফাসহ ১২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মাদক পাচারের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর এই সাজা দেওয়া হয় তাদের। তবে এ রায়ের বিরুদ্ধে রয়েছে আপিলের সুযোগ।
মিসরের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আল-আহরামের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সারাহ খলিফা ও অন্য আসামিরা ছিলেন একটি অপরাধী চক্রের সদস্য। ওই চক্র মাদক তৈরির উপকরণ আমদানি করে তা ব্যবহার করত বিক্রির উদ্দেশ্যে। তাদের কাছে পাওয়া যায় অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদও।
৩৯ বছর বয়সী সারাহ খলিফা মিশন ইমপসিবল নামের একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠান উপস্থাপনার জন্য পরিচিত। অনুষ্ঠানটিতে তুলে ধরা হতো অপরাধসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়। তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সারাহ।
গত মাসেই আদালতের রায় ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে নেওয়া হয় দেশটির গ্র্যান্ড মুফতির ধর্মীয় মতামত। মৃত্যুদণ্ডের মামলায় এটি আইনি প্রক্রিয়ার অংশ। এক মাস পর সেই মতামত পাওয়ার পর রায়টি নিশ্চিত করা হয় আনুষ্ঠানিকভাবে।
মামলার বিচার চলাকালে আদালতকে জানানো হয়, কর্তৃপক্ষ আসামিদের কাছ থেকে জব্দ করেছে ৭৫০ কেজির বেশি মাদক। ছিল মাদক তৈরির জন্য আমদানি করা কাঁচামালও। এই মামলায় নেওয়া হয়েছে ২০ জন সাক্ষীর বক্তব্য।
আল-আহরাম জানায়, মামলায় অভিযোগের বিষয়ে কথোপকথন ও ভিডিও ক্লিপ রয়েছে।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আখবার আল-ইয়োমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের সেপ্টেম্বরে আদালতে শুনানির সময় বিচারক সারাহ খলিফার কাছে তার কথিত ভূমিকা সম্পর্কে জানতে চান।
জবাবে তিনি জানিয়েছেন, তিনি আগে কখনো মাদক দেখেনি। মাদকবিরোধী কর্তৃপক্ষের কার্যালয়ের ভেতরে সেগুলোর সঙ্গে ছবি তোলার সময়ই প্রথম তিনি সেগুলো দেখেছেন।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ২০২৫ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই বছর মিসরে দেওয়া হয়েছিল ৪৯২টি মৃত্যুদণ্ডের রায়। এর মধ্যে কার্যকর করা হয় ২৩ জনের মৃত্যুদণ্ড।
সূত্র : বিবিসি








