আগামীর চোখ
কনফিউশন নয় সল্যুশন চাই

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বরাবর
জেলা প্রশাসক, বাগেরহাট
বাগেরহাট পৌরবাসীর সুপেয় পানির কষ্ট দূর করতে প্রায় ৪০ কোটি টাকা খরচ করে চালু করা হয়েছিল আধুনিক সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট। ভৈরব নদের পানি আসবে, প্ল্যান্টে পরিশোধন হয়ে পচা দিঘিতে জমা হবে, তারপর সেই পানি যাবে মানুষের বাড়িতে। কিন্তু কয়েক মাস পরীক্ষামূলকভাবে পানি সরবরাহ করেই বন্ধ হয়ে যায় প্রকল্পের কার্যক্রম। চার বছর সেটি অচল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। কথা ছিল, আমাদের পানির কষ্ট দূর হবে চিরকালের মতো; কিন্তু কেউ কথা রাখেনি। চাতক পাখি যেমন বৃষ্টির পানির আশায় পথ চেয়ে থাকে, আমরাও ঠিক তেমনি পচা দিঘির পানির পথ চেয়ে আছি।
অথচ পচা দিঘির পানি পচে গেছে সেই কতকাল আগে। ইজারা দিয়ে সেখানে চলছে মৎস্যবিলাস। কেমিক্যালযুক্ত পচা চার, বস্তা বস্তা কৃত্রিম খাবার এবং শৌখিন মাছশিকারিদের ফেলে যাওয়া পলিথিন-ওয়ানটাইম প্লেটে দিঘির পানি বুড়িগঙ্গা নদীর চেহারা নিয়েছে।
মন্ত্রণালয়ে চিঠি চালাচালি আর ইজারার মেয়াদ গণনা বন্ধ করে একটু বাস্তবতার জমিতে আসুন
আশায় বাঁচে চাষা। আমরাও আশায় বেঁচে আছি এতকাল। নীতিনির্ধারকদের মন গলবে, দয়া হবে, তবেই না সংকট কাটিয়ে পানি পাব! কিন্তু সেদিন তো আর আসে না। উপরন্তু পত্রিকায় আপনার মন্তব্য দেখে হতাশই হয়েছি। আপনি বলেছেন, ‘প্রকল্পটি আবার ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি। পানি পরিশোধন করে সরবরাহ করা যায় কি না, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলতে হবে!’ আচ্ছা, আপনি কি কনফিউশনে আছেন? একটি শহরের হাজার হাজার মানুষ পানির জন্য হাহাকার করছে অথচ ৪০ কোটি টাকার ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট অচল হয়ে মরিচা ধরেছে, মূল্যবান সরঞ্জাম চুরি হয়ে যাচ্ছে, দিঘির পানি পচছে। আর আপনি এখনো চিন্তাভাবনা এবং আলোচনায় আছেন! পৌরসভার মানুষের তৃষ্ণা মেটানোর চেয়ে শৌখিন মৎস্যশিকারি আর ইজারাদারের বিনোদন আপনার কাছে ঢের বেশি গুরুত্বপূর্ণ!
সরকারের ৪০ কোটি টাকা জলে গেছে, নাকি পচা দিঘির পানিতে গেছে— তা আমরা জানি না। আমরা শুধু জানি, দীর্ঘ চার বছর ধরে বিশাল ওভারহেড ট্যাংক আর পাম্পহাউজটি শহরের বুকে শৈল্পিক ভাস্কর্যের মতো দাঁড়িয়ে আছে। তাই বলছি, কনফিউশন নয়— সল্যুশন দিন। মন্ত্রণালয়ে চিঠি চালাচালি আর ইজারার মেয়াদ গণনা বন্ধ করে একটু বাস্তবতার জমিতে আসুন। পৌরবাসীর ভাগ্যে পরিশোধিত বিশুদ্ধ পানি জুটবে, নাকি পচা দিঘির পচা পানি জুটবে—
সে সিদ্ধান্তটি নিন জলদি।
ইতি
বাগেরহাট পৌরসভার এক নাগরিক





