‘ব্যাগ গুছিয়ে’ ভারতীয় কোম্পানিকে কেনিয়া ছাড়ার নির্দেশ

কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটো। ফাইল ছবি/ রয়টার্স
ভারতের অন্যতম বড় শিল্পগোষ্ঠী টাটা। দেশের বাইরেও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে আছে তাদের ব্যবসা। আফ্রিকাতেও দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম চালিয়ে আসছে টাটার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। এবার সেই আফ্রিকাতেই বড় ধাক্কা খেল টাটা কেমিক্যালস। কেনিয়া সরকার প্রতিষ্ঠানটিকে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে।
দেশটির প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটো শুক্রবার বলেছেন, কেনিয়ার গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি খাতগুলোর একটিতেও এ কোম্পানিটি তেমন কোনো অর্থনৈতিক প্রভাব তৈরি করতে পারেনি।
টাটা কেমিক্যালস লেক মাগাদি থেকে সোডা অ্যাশ উৎপাদন করে। কাচ, সাবান ও পরিষ্কারক তৈরিতে এই রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত এক বছরে কেনিয়া ২ লাখ ৫৪ হাজার ৭৭৯ টন সোডা অ্যাশ রপ্তানি করেছে। এর মূল্য ছিল ৫ কোটি ৬৯ লাখ ডলার।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার এক জনসভায় রুটো বলেছেন, নতুন কোনো বিনিয়োগকারীকে জায়গা করে দিতে টাটা কেমিক্যালসকে ‘গুছিয়ে দেশ ছাড়তে’ হবে।
টাটা কেমিক্যালস মাগাদি লিমিটেড ২০০৫ সাল থেকে কেনিয়ায় কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। তবে জুলাইয়ে কেনিয়ার খনি মন্ত্রণালয় ‘নিয়ম মেনে চলার বিষয়টি পর্যালোচনার’ জন্য কোম্পানিটির কার্যক্রম স্থগিত করে।
কোম্পানিটি কেনিয়া ছাড়লে বহু মানুষ চাকরি হারাতে পারেন। সরকারের রাজস্বও উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে।
রুটো বলেছেন, লেক মাগাদির সোডা অ্যাশ কেনিয়ার অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। কিন্তু হ্রদটি যে কাউন্টিতে অবস্থিত, সেই কাজিয়াদোতে টাটা কেমিক্যালস কিছুই তৈরি করেনি।
তিনি বলেছেন, ‘তারা কোনো কারখানা তৈরি করেনি বা মানুষকে চাকরি দেয়নি।’
রুটো আরও বলেছেন, ‘আমি তাদের গুছিয়ে দেশ ছাড়তে বলেছি। তারা আমাদের সম্পদ নিয়ে ভারতে পাঠাচ্ছে। আমরা নতুন একটি কোম্পানি আনব। শর্ত হবে, তাদের এখানেই একটি কাচের কারখানা তৈরি করতে হবে।’
শুক্রবার ভারতের ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জকে দেওয়া এক বার্তায় টাটা কেমিক্যালস মাগাদি লিমিটেড বলেছে, কেনিয়ায় তাদের কার্যক্রম ‘সব নিয়ম মেনে’ চলছে। কোম্পানিটি আরও জানিয়েছে, তাদের কার্যক্রম পর্যালোচনা নিয়ে কেনিয়া সরকারের কাছ থেকে যোগাযোগের অপেক্ষায় রয়েছে।
কোম্পানিটি আনুষ্ঠানিকভাবে দেশ ছাড়ার নির্দেশ পেয়েছে কি না, তা জানায়নি। তবে তারা ‘গঠনমূলক আলোচনায়’ যুক্ত থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
লেক মাগাদি থেকে উত্তোলন করা প্রাকৃতিক সোডিয়াম কার্বনেট খনিজ ট্রোনা থেকে সোডা অ্যাশ তৈরি করা হয়। ওই এলাকায় বড় পরিসরে বাণিজ্যিকভাবে সোডা অ্যাশ উৎপাদন শুরু হয় ১৯১১ সালে।
সূত্র: আল জাজিরা






