ব্রিকস সম্মেলনে তারেক রহমান যাবেন কি না জানে না ভারত

রণধীর জয়সওয়াল- সংগৃহীত ছবি
ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন শুরু হতে আর মাত্র এক সপ্তাহ। অথচ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্মেলনে যোগ দেবেন কি না, তিনি না গেলে কে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন—কোনোটিই এখনো নিশ্চিত নয়। এমনকি আয়োজক দেশ ভারতের সরকারও এ বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য জানে না।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শুক্রবারের ব্রিফিংয়ে এ–সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, এ বিষয়ে তার কাছে নতুন কোনো তথ্য নেই।
১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনের আউটরিচ পর্বে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত।
এর আগে দ্বিপক্ষীয় সফরে ভারত যাওয়ার জন্যও তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল দিল্লি। প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পরপরই তাকে ওই আমন্ত্রণ জানানো হয়। পরে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে ব্রিকসের আসরে যোগ দেওয়ার জন্য তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়।
তবে দ্বিপক্ষীয় সফর নিয়ে ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে আলোচনা চলার সময় ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। ভারতে অবস্থান করে বাংলাদেশ নিয়ে তার ‘রাজনৈতিক প্রচারণা’ তারেক রহমানের ভারত সফরকে অনিশ্চিত করে তোলে।
গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লির ফরেন করেসপনডেন্টস ক্লাবে (এফসিসি) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভার্চুয়ালি অংশ নেন শেখ হাসিনা। ওই অনুষ্ঠানে তিনি বাংলাদেশ সরকার ও দেশের বিরুদ্ধে ‘রাজনৈতিক প্রচারণা’ চালিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর হাসিনার প্রত্যর্পণের দাবিও নতুন করে জোরালোভাবে তোলা হয়। তাকে সংযত রাখার দাবিও জানানো হয় ভারত সরকারের কাছে।
ব্রিকস সম্মেলনের আগে দ্বিপক্ষীয় সফরে তারেক রহমানের ভারত সফরে না আসার সিদ্ধান্ত ওই ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে জানা গেছে। তবে তিনি ব্রিকসের আউটরিচ পর্বে যোগ দেবেন কি না, সেটি এখনো নিশ্চিত নয়। তিনি না এলে বাংলাদেশকে অন্য কেউ প্রতিনিধিত্ব করবেন কি না, সে বিষয়েও আজকের ব্রিফিংয়ে কোনো স্পষ্টতা পাওয়া যায়নি।
৫ আগস্টের পর সম্প্রতি এফসিসিতে অন্য একটি আন্তর্জাতিক আলোচনা সভার অনুমতি দেয়নি দিল্লি পুলিশ। ওই অনুষ্ঠানেও বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত একাধিক ব্যক্তির যোগ দেওয়ার কথা ছিল।
এদিকে সম্প্রতি ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যমে শেখ হাসিনা নতুন করে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। সেই সাক্ষাৎকার প্রসঙ্গেও আজ কোনো মন্তব্য করতে চায়নি ভারত সরকার।
ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক বলেছেন, হাসিনার সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময়টা বেশ ‘ইন্টারেস্টিং’। এ নিয়ে ভারত সরকারের কিছু বলার আছে কি না জানতে চাইলে জয়সাওয়াল জানান, এ নিয়ে তার কোনো মন্তব্য নেই।
অন্য এক সাংবাদিক বললেন, ভারতীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হাসিনা জানিয়েছেন, চলতি বছরের ডিসেম্বরে দেশে ফেরার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে তার কোনো বোঝাপড়া হয়নি। সরকারের সঙ্গে নেপথ্যে কোনো আলোচনাও হচ্ছে না। এসব বিষয়ে শেখ হাসিনা ভারত সরকারকে কিছু জানিয়েছেন কি না, জানতে চাইলে জয়সাওয়াল এবারও বলেছেন, এ বিষয়েও তার কিছু জানা নেই।






