চাঁদা দাবির অভিযোগের পর ৫ মহিষের মৃত্যু, অসুস্থ ৩১

সংগৃহীত ছবি
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার নদীবেষ্টিত চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের লালচর এলাকায় বিষক্রিয়ায় পাঁচটি মহিষের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও অন্তত ৩১টি মহিষ অসুস্থ হয়ে পড়েছে।
একের পর এক মহিষ মারা যাওয়ায় দুশ্চিন্তা ও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন চরাঞ্চলের হতদরিদ্র কৃষকরা।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, নিয়মিত মহিষ চরানো মাঠের ঘাসে দুর্বৃত্তরা বিষাক্ত পদার্থ ছিটিয়ে থাকতে পারেন। ওই ঘাস খাওয়ার পরই মহিষগুলো অসুস্থ হয়ে পড়ে।
স্থানীয়রা জানান, চরাঞ্চলের কৃষক বাবুল মৃধা, সুমন মাঝি, আসাদুল ফকির, নুর মোহাম্মদ, চান্দু মিয়া, বশির ফকির, মিরাজ ফকির, চান্দু খান, কবির, শাহজাহান, রিপন, শাহিন, সুজন ও জাহাঙ্গীরের মহিষগুলো মাঠ থেকে গোয়ালঘরে ফেরার পর খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে ৫টি মহিষ মারা যায়।
এর আগে গত ২২ আগস্ট কেশবপুর ইউনিয়নের মমিনপুরের লালচর এলাকায় বিষক্রিয়ায় দুটি মহিষ মারা যায়। ওই ঘটনায় আরও একটি মহিষ অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং একটি মহিষের সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে গত ২৮ আগস্ট একই এলাকায় ঘাস খেয়ে অন্তত ৩০টি মহিষ অসুস্থ হয়ে পড়ে। এর মধ্যে তিনটি মহিষ মারা যায়।
এদিকে, গত ১১ আগস্ট আগামীর সময়ে ‘খাসজমিতে মহিষ চরাতে চাঁদা দিতে হয় ছাত্রদল নেতাকে’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। স্থানীয় মহিষ পালনকারীদের অভিযোগ ছিল, লালচর এলাকার খাসজমিতে মহিষ চরানোর জন্য প্রতিটি মহিষের বিপরীতে ২০০ টাকা করে চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। টাকা না দিলে মহিষ চরাতে বিভিন্নভাবে বাধা দেওয়ারও অভিযোগ করেন তারা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, খাসজমিতে মহিষ চরানোকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি এলাকায় রাজনৈতিক বিরোধ ও উত্তেজনা তৈরি হয়। এ ঘটনায় বিএনপি সমর্থকদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে এবং কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তী সময়ে মহিষ মালিকরা মাঠে মহিষ চরানোর জন্য ছাত্রদলের এক নেতার পক্ষ থেকে চাঁদা দাবির অভিযোগ করেন।
এসব অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মধ্যেই মহিষের বিষক্রিয়ার ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তবে মহিষের খাদ্য বা ঘাসে কারা এবং কী উদ্দেশ্যে বিষাক্ত পদার্থ প্রয়োগ করেছে, সে বিষয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করছে পুলিশ।
বাউফল উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কৃষিবিদ শুভেন্দু সরকার আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘মহিষ অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়ার পর আমরা দ্রুত চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। এর আগেই কয়েকটি মহিষ মারা যায়। অসুস্থ মহিষগুলোকে স্যালাইন দেওয়ার সময় তাদের রক্ত কালচে দেখা যায়। এটি নাইট্রেট বিষক্রিয়ার বিশেষ লক্ষণ হতে পারে। একই সঙ্গে মহিষগুলোর শ্বাসকষ্ট ও মুখ দিয়ে লালা পড়ছিল, যা নাইট্রেট বিষক্রিয়ার অন্যতম লক্ষণ।’
তিনি আরও বলেছেন, ‘যে ঘাস খেয়ে মহিষগুলো আক্রান্ত হয়েছে, সেখান থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। মৃত মহিষেরও নমুনা নেওয়া হয়েছে। প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়ার জন্য নমুনাগুলো পরীক্ষার উদ্দেশ্যে ঢাকার সিডিআইএলে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মহিষগুলোর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিতভাবে বলা যাবে।’
প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আরও জানিয়েছেন, ঘাসে অতিরিক্ত নাইট্রেট জমে গেলেও গবাদিপশুর বিষক্রিয়া হতে পারে। তবে বর্তমান ঘটনায় ঘাসে নাইট্রেটের আধিক্য রয়েছে কি না, নাকি অন্য কোনো বিষাক্ত পদার্থের কারণে মহিষগুলো আক্রান্ত হয়েছে তা পরীক্ষার প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।






