পশুপাখির বন্ধু সাইমুন

শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে কুকুরদের খাবার দেন সাইমুন
ফেনীর আব্দুল্লাহ আল নোমান সাইমুন (৩০) আট বছর ধরে ব্যবসায়ের পাশাপাশি পশুপাখি নিয়ে কাজ করছেন। বিভিন্ন স্থানে আটকে পড়া পশুপাখি উদ্ধার করে নিজের টাকায় চিকিৎসা শেষে অবমুক্ত করেন। শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে খাবার দেন কুকুরদের।
প্রতি বছর শ্রাবণ ও ভাদ্র মাসে ফেনী পৌরসভা থেকে ডাক পড়ে সাইমুনের। শুরু হয় জলাতঙ্ক প্রতিরোধে কুকুরকে ভ্যাকসিন প্রয়োগ। গত দুই মাসে ফেনী পৌর এলাকার ছয় শতাধিক কুকুরকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। এখনো চলছে এ কার্যক্রম।
সাইমুন জানিয়েছেন, গত আট বছরে তিনি কয়েকজন সহযোগী ও বন্ধুকে নিয়ে পাখি উদ্ধার করেছেন প্রায় পাঁচ হাজার, শকুন চারটি, বানর ১২টি, গুইসাপ ১০টি, ভবনের কার্নিশ থেকে আটকে পড়া ১৫টি বিড়াল এবং গন্ধগোকুল উদ্ধার করেছেন পাঁচটি। সম্প্রতি ফেনীর একটি শিশু পার্ক থেকে দুটি বানর উদ্ধার করে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করেন তিনি। এ পর্যন্ত শতাধিক কুকুর, বিড়াল ও পাখির চিকিৎসা করেছেন। এ ব্যাপারে ফেনীর মাস্টারপাড়ার পেট ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ সহযোগিতা করে তাকে। এ ছাড়া ফেনী বন বিভাগের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করেন তিনি।
ফেনীতে কর্মরত পোলট্রি সার্জন ও ফেনী পেট ক্লিনিকের প্রতিষ্ঠাতা ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিম জানিয়েছেন, সাইমুন ও তার সঙ্গীরা মাঝে মাঝে চিকিৎসার জন্য আহত প্রাণী নিয়ে এই ক্লিনিকে আসেন। আমরা তাদের সহযোগিতা করে থাকি। তার ভাষ্য, পোষাপ্রাণীর চিকিৎসা ও বন্যপ্রাণী অবমুক্ত করার ক্ষেত্রে সাইমুনের কাজগুলো প্রশংসনীয়।
ফেনী পৌরসভার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. কৃষ্ণপদ সাহা বললেন, প্রতি বছর পৌর এলাকার বেওয়ারিশ কুকুরকে ভ্যাকসিন দেওয়ার ক্ষেত্রে সাইমুন ও তার সহযোগীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এখনো বিভিন্ন এলাকায় ভ্যাকসিন দেওয়ার কাজ চলছে তাদের। সাইমুন জানালেন, তারা কয়েকজন মিলে ফেনী অ্যানিমেল লাভার্স নামে একটি ফেসবুক গ্রুপ গঠন করেছেন, যার ফলোয়ার রয়েছে ২২ হাজার।
সাইমুন ২০২৩ সালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বন বিভাগের অধীন ওয়াইল্ড লাইফ ক্রাইম কন্ট্রোল ইউনিটের আয়োজনে প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছেন। প্রাণী সংরক্ষণে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন চট্টগ্রাম ফরেস্ট একাডেমি থেকে। এ ছাড়া ফেনী বন্যপ্রাণী রেসকিউ টিমের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সাইমুন।
সাইমুনের বাড়ি ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার সিন্দুরপুর এলাকায়। ব্যবসায়ী আব্দুল জলিল ও সাহেনা আক্তারের বড় ছেলে সাইমুন। তিনি দাগনভূঞার দরবেশের হাট স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ২০১৯ সালে এসএসসি ও ২০২১ সালে এইচএসসি পাস করে বর্তমানে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন। ফেনীতে পরিচালনা করেন ‘সাইমুন ইভেন্টস’ নামে একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান। তিনি বর্তমানে ফেনী শহরের মাস্টারপাড়ার ভাড়া বাসায় বসবাস করেন।
সাইমুন বলেছেন, ‘শুধু মানবিক কারণে পোষা ও বন্যপ্রাণী নিয়ে কাজ করছি। এ কাজ করতে ভালো লাগে। এই কাজে কামরুল ইসলাম, আজমী, আহনাফ তাহমিদ, তানজিলা রাহি, রুমা নাসরিন, সামী, নজরুল ইসলাম অয়নসহ কয়েকজন তাকে সহযোগিতা করছেন। তিনি বললেন, ‘বন থেকে পাখি ধরে বাজারে বিক্রি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এ বিষয়ে মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করছি আমরা।’





