জনগণের জন্য নেমেছি, অধিকার আদায় করে ফিরব : শফিকুর রহমান

ডা. শফিকুর রহমান। ভিডিও থেকে সংগৃহীত
বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘লংমার্চের পথে কোনো বাধাকেই পরোয়া করা হবে না। আমরা জনগণের জন্য রাস্তায় নেমেছি, জনগণের অধিকার আদায় করে ঘরে ফিরব ইনশাল্লাহ।’
আজ শনিবার সকালে রাজধানীর শাপলা চত্বর থেকে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেছেন জামায়াত আমির। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এদিন সকাল ৭টায় রাজধানীর শাপলা চত্বরে উদ্বোধনী সমাবেশ করে ১১ দলীয় ঐক্য। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ডা. শফিকুর রহমান। সমাবেশ শেষে চট্টগ্রাম অভিমুখী জোটের লংমার্চ শুরু হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমরা আজ কোনো দল, ব্যক্তি, গোষ্ঠীর জন্য এই রাস্তায় নামিনি। আমরা নেমেছি বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের পক্ষে।’
‘আমাদের এই আন্দোলন চলবে রাস্তায়, রাজপথে। চলবে জাতীয় সংসদে। সমান্তরালে এই আন্দোলন চলতে থাকবে, যতক্ষণ পর্যন্ত ১৮ কোটি মানুষের প্রত্যেকটি অধিকার প্রতিষ্ঠিত না হয়’, যোগ করেন বিরোধীদলীয় নেতা।
জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে সরকারের অবস্থানের সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেছেন, এই সরকার জনগণের সঙ্গে ভাওতাবাজি করছে, প্রতারণা করছে। ওয়াদা দিয়ে ওয়াদা লঙ্ঘন করেছে। জনগণ তাদের ক্ষমা করবে না।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘আমরা লংমার্চ শান্তিপূর্ণভাবে পালন করব। যদি সরকার বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে তাহলে এই লংমার্চের ছয় দফা এক দফাতে পরিণত হবে।’
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের কথা স্মরণ করে নাহিদ ইসলাম বলছিলেন, ‘সেদিন সারা বাংলাদেশের মানুষ লংমার্চ টু ঢাকা কর্মসূচিতে সবাই ঢাকায় একত্রিত হয়ে স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছিল। এবার আমরা ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম এবং অন্যান্য বিভাগের উদ্দেশে লংমার্চের যাত্রা শুরু করেছি। নতুন করে যারা স্বৈরাচার হতে যাচ্ছে, সেই স্বৈরাচার হওয়ার পথ বন্ধ করার জন্য।’
‘আমাদের এই লংমার্চ, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, মাদকের বিরুদ্ধে লংমার্চ। এই লংমার্চ যারা তেল গ্যাস বিদ্যুতের সিন্ডিকেট করে দাম বৃদ্ধির পাঁয়তারা করছে তাদের বিরুদ্ধে লংমার্চ। এই লংমার্চ যারা ৭০ শতাংশ জনগণের গণরায়ের সঙ্গে প্রতারণা করেছে তাদের বিরুদ্ধে লংমার্চ’, যোগ করেন নাহিদ ইসলাম।
অনুষ্ঠানে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেছেন, ‘আজকে আমরা কেন এখানে একত্রিত হয়েছি? আমরা বিভিন্ন মিটিংয়ে বলেছি, আপনি যদি জনগণের দাবি-দাওয়া মেনে না নেন, ১১ দলের পক্ষ থেকে আপনাকে বাধ্য করা হবে। সেটা হবে নিয়মতান্ত্রিকভাবে।’
‘আমরা আমাদের প্রথম রাউন্ড শেষ করেছি, দ্বিতীয় রাউন্ড শুরু। এখনো বসে আছেন, সঠিক পথে চলেন। না হলে অন্যান্যরা যেভাবে দেশ ছেড়ে পলায়ন করেছে, তাদের পথ আপনাকে অনুসরণ করতে হবে’, সরকারকে সতর্ক করেন কর্নেল অলি আহমদ।
দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে এলডিপি সভাপতি বলেছেন, ‘আজকে যারা আমাদের সঙ্গে যাবেন, সবাইকে অনুরোধ করবো অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে লং মার্চ করবো। কারণ আমরা সন্ত্রাসী দল নই।’
হঁশিয়ারি উচ্চারণ করে অলি আহমদ বলছিলেন, ‘আমাদের মিছিল হবে শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল। আপনার, আমাদের গন্তব্যে পৌঁছার পথে যদি কেউ বাধা সৃষ্টি করে, সেটা অধিকতর শক্তি দিয়ে মোকাবিলা করা হবে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রসঙ্গে এলডিপি সভাপতি বলেছেন, ‘সালাহউদ্দিন সাহেব যিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, বেগম জিয়ার অনুরোধে তাকে আমি তার নিজের এলাকায় নিয়ে গেছিলাম। আমি তার সম্বন্ধে বিশেষ কিছু বলি না, সবাই তাকে শিলং সালাউদ্দিন বলে নতুন একটা টাইটেল দিয়েছে। তিনি একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন, সুন্নত এবং কোরআনের বাইরে আমি কোনো কাজ করব না।’
‘এখন আমি উনাকে জিজ্ঞাসা করি, আপনি কি আগের জায়গায় আছেন? থাকলে আমাদের সঙ্গে সমস্যাটা কোথায়’, প্রশ্ন তোলেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির এই নেতা।






