১০ বছরের রেসিডেন্সি পেয়ে ফ্রান্সে বিতর্কের কেন্দ্রে রুশ উপস্থাপক

সংগৃহীত ছবি
রুশ সংবাদমাধ্যম আরটি ফ্রান্সের সাবেক প্রধান ও আলোচিত উপস্থাপক জেনিয়া ফেদোরোভাকে ১০ বছরের রেসিডেন্স পারমিট দিয়েছে প্যারিস। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে দেশটির অভিবাসননীতি, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক প্রভাবের সংযোগস্থলে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক।
রুশ রাষ্ট্রীয় মিডিয়ার ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও এই দীর্ঘমেয়াদি অনুমতি কীভাবে দেওয়া হলো, তা নিয়ে প্রশাসনের ভেতরে ও বাইরে চলছে তুমুল আলোচনা।
ফরাসি দৈনিক লে মোঁদের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত এখন আর কেবল প্রশাসনিক বিষয় নয়, বরং ফ্রান্সের রাজনৈতিক ভারসাম্য ও রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে।
২০১৭ সালে ফেদোরোভা ফ্রান্সে এসে রুশ রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে পরিচালিত আরটি ফ্রান্সের কার্যক্রম শুরু করেন। শীর্ষ পদেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। সে সময় তিনি বিশেষ আবাসিক কর্মসূচির আওতায় দেশে থাকার অনুমতি পান।
২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর আরটির সম্প্রচার নিষিদ্ধ করে ইইউ। অভিযোগ ছিল, প্রতিষ্ঠানটি রুশ রাষ্ট্রীয় বয়ানকে ইউরোপীয় জনপরিসরে ছড়িয়ে দিচ্ছে এবং তথ্যযুদ্ধের অংশ হিসেবে কাজ করছে। এরপর বন্ধ হয়ে যায় আরটি ফ্রান্সের কার্যক্রম।
এরপরও ফরাসি মিডিয়া পরিসরে সক্রিয় থাকেন ফেদোরোভা। তিনি কট্টর ডানপন্থী ব্যবসায়ী ভাঁসো বলোরে নিয়ন্ত্রিত প্রভাবশালী চ্যানেলগুলোতে নিয়মিত উপস্থিত হতে শুরু করেন। যার মধ্যে সি নিউজ, ইউরোপ ১ এবং জেডিডি নিউজ রয়েছে। তার উপস্থিতি ফরাসি মিডিয়া জগতে মতাদর্শগত বিভাজন আরও স্পষ্ট করে তোলে।
তার বক্তব্য ঘিরে বাড়তে থাকে বিতর্ক। সমালোচকদের একাংশের মতে, তিনি ইউক্রেন যুদ্ধ, ন্যাটো এবং ইউরোপীয় রাজনীতি বিষয়ে এমন অবস্থান তুলে ধরছেন যা রুশ রাষ্ট্রীয় বয়ানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সম্প্রতি ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ নোয়েল বারো তাকে প্রকাশ্যে রুশ প্রচারক হিসেবে উল্লেখ করেন। যা বিষয়টিকে আরও রাজনৈতিক মাত্রা দেয়।
অন্যদিকে ফরাসি প্রশাসনিক সূত্র বলছে, ২০২১ সালে চার বছরের রেসিডেন্স পারমিট পাওয়ার পর ২০২৪ সালে তাকে ১০ বছরের রেসিডেন্ট কার্ড দেওয়া হয়। কর্তৃপক্ষের দাবি, এটি প্রচলিত নিয়ম ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই সম্পন্ন হয়েছে।
তবে এই ব্যাখ্যা পুরো বিতর্ক থামাতে পারেনি। সমালোচকদের মতে, এটি শুধু একজন ব্যক্তির রেসিডেন্স অনুমোদনের বিষয় নয়, বরং ফ্রান্সে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, অভিবাসন নীতি এবং মিডিয়া প্রভাবের পারস্পরিক সম্পর্কের জটিলতা তুলে ধরছে।





