তাইজে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা দখলের দাবি ইয়েমেনি বাহিনীর, হুতিদের হামলাও অব্যাহত

দখল করা এলাকা পাহারা দিচ্ছেন ইয়েমেনি বাহিনীর একদল সৈন্য। ফাইল ছবি/ রয়টার্স
ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলে হুতিদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে সৌদি-সমর্থিত দেশটির সরকারি বাহিনী। তারা পশ্চিম তাইজের উপকূলসংলগ্ন পার্বত্য এলাকায় আরও অগ্রসর হওয়ার দাবি করেছে। ‘ডন অব ইয়েমেন’ অভিযানের অংশ হিসেবে ইরান-সমর্থিত হুতিদের থেকে কৌশলগত এসব এলাকা দখলের চেষ্টা চলছে বলে জানানো হয়েছে।
ইয়েমেন সরকার জানিয়েছে, তাদের বাহিনী বাব আল-মান্দেব প্রণালির আশপাশের কয়েকটি এলাকা থেকে হুতিদের সরিয়ে দিয়েছে এবং কৌশলগত বন্দরনগরী মোকা পুনর্দখল করেছে। লোহিত সাগরের উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ ভূখণ্ড পুনর্দখল করাই এ অভিযানের প্রধান লক্ষ্য।
তবে হুতিরা সরকারি বাহিনীর এসব দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। গত মাসে দখল করা এলাকাগুলোর নিয়ন্ত্রণ এখনো তাদের হাতে রয়েছে বলে দাবি করেছে তারা।
এদিকে হুতিরা দাবি করেছে, তাইজ প্রদেশের আকাশে ‘শত্রুতামূলক মিশনে’ থাকা সৌদি মালিকানাধীন তুরস্কের তৈরি বায়রাকতার আকিঞ্চি সশস্ত্র গোয়েন্দা ড্রোন তারা ভূপাতিত করেছে।
সানায় হুতি সমর্থকরা সম্মুখসারির যোদ্ধাদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। হুতিগোষ্ঠী পশ্চিম উপকূলে সরকারি বাহিনীর অবস্থানে হামলার ভিডিও প্রকাশ করেছে। এসব হামলার ভিডিও বলে দাবি করেছেন তারা।
যুদ্ধের উত্তেজনা এখন ইয়েমেনের যুদ্ধক্ষেত্র ছাড়িয়ে আরও ছড়িয়ে পড়ছে। সরকারি বাহিনী জানিয়েছে, হুতিরা এডেন বিমানবন্দরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এতে কয়েকটি ফ্লাইটের গন্তব্য পরিবর্তন করতে হয়েছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটও জানিয়েছে, রিয়াদের কাছে হুতিদের ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আটকানো সম্ভব হয়েছে।
ইয়েমেনের জাতিসংঘের বিশেষ দূত আবদুল্লাহ আল-সাদি হুতিদের যুদ্ধ বন্ধে চাপ দিতে মিত্রদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারও হুতি-নিয়ন্ত্রিত এলাকার বাসিন্দাদের তাদের সামরিক অভিযানে যোগ না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
তবে দুপক্ষের লড়াইয়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। জাতিসংঘ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক লড়াইয়ে দুই লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
বাস্তুহারা ইয়েমেনি সামির হাসান বলেছেন, এক শিবির থেকে আরেক শিবিরে ঘুরেও তারা প্রয়োজনীয় সহায়তা পাচ্ছেন না। তার ভাষায়, ‘আমাদের অবস্থা খুবই খারাপ। আমাদের সবকিছুর প্রয়োজন। সংগঠনগুলোর কাছ থেকে জরুরি সহায়তা ও সমর্থন দরকার।’
ফ্রন্টলাইনের মাঝখানে আটকে থাকা এসব মানুষকে এক শিবির থেকে আরেক শিবিরে যেতে হচ্ছে। আর এর মধ্যেই পশ্চিম ইয়েমেনে সরকারি বাহিনী ও হুতিদের লড়াই আরও তীব্র হচ্ছে।
সূত্র : আল জাজিরা




