আপনাকে রুমে ঢোকার সাহস কে দিয়েছে, সাংবাদিককে শিক্ষক

বেড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
গাইবান্ধার সাঘাটায় সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়া এক সাংবাদিককে শাসানোর অভিযোগ উঠেছে এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে। স্কুলের কক্ষে ঢুকে ভিডিও ধারণ করায় ক্ষুব্ধ হন ওই শিক্ষক।
এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। পরে সাঘাটা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন ওই সাংবাদিক।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার সাঘাটা উপজেলার বেড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের দায়িত্ব পালনের চিত্র ধারণ ও তথ্য সংগ্রহ করতে যান দৈনিক নয়াদিগন্তের সাঘাটা প্রতিনিধি সোহাগ খন্দকার। এ সময় বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণিকক্ষে সহকারী শিক্ষিকা রুমি বেগমের সামনে হিন্দি গানের দৃশ্য চলতে দেখেন। বিষয়টি ভিডিও ধারণ করেন সোহাগ। একই সময় আরেক সহকারী শিক্ষক মোশাররফ হোসেন মিলনকে মোবাইল ফোনে ব্যস্ত অবস্থায় দেখতে পান।
ভিডিও ধারণের বিষয়টি আরেক সহকারী শিক্ষক মোশাররফ হোসেন মিলনের নজরে এলে তিনি সাংবাদিকের সঙ্গে উচ্চবাচ্য করেন এবং আঙুল উঁচিয়ে শাসানোর ভঙ্গিতে কথা বলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে মোশাররফ হোসেন মিলনকে বলতে শোনা যায়, ‘আপনি একটা মহিলা মানুষের রুমে কেন ঢুকেছেন, একা একা। এই সাহস আপনাকে কে দিছে। আপনি সাংবাদিক হইছেন তো কী হইছে।’
ভিডিও ধারণের আগে কেন সহকারী শিক্ষিকার অনুমতি নেওয়া হয়নি, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেন ওই শিক্ষক।
সাংবাদিক সোহাগ খন্দকার জানিয়েছেন, বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে দায়িত্ব পালনের সময় সহকারী শিক্ষিকা রুমি বেগম উচ্চ শব্দে হিন্দি সিনেমা দেখছিলেন। সংবাদ সংগ্রহের অংশ হিসেবে তিনি বিষয়টি ভিডিও ধারণ করেন।
ক্যাম্পাসে ঢুকতে না পারলেও ১০৮৭ শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন বন্ধ করলেন চুয়েট ভিসি
০৬ অক্টোবর ২০২৬
সোহাগ খন্দকারের অভিযোগ, ভিডিও ধারণের বিষয়টি জানতে পেরে সহকারী শিক্ষক মোশাররফ হোসেন মিলন তার সঙ্গে উত্তপ্ত আচরণ করেন। একপর্যায়ে স্থানীয় কয়েকজনকে ডেকে এনে তার ওপর চাপ সৃষ্টি ও মব তৈরির চেষ্টা করা হয়।
পরে বিষয়টি শিক্ষা কর্মকর্তা ও স্থানীয় সাংবাদিকদের জানালে তাদের সহযোগিতায় তিনি পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে আসেন বলে জানান সোহাগ খন্দকার।
ঘটনায় সাঘাটার সাংবাদিক ঐক্য ফোরামের সদস্যদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জয়নুল আবেদীন বলেছেন, সংবাদ সংগ্রহের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের অবাধ ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সংবাদ সংগ্রহে বাধা সৃষ্টি করা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
ঘটনার বিষয়ে সাঘাটা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল্লাহীশ শাফির কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন সাংবাদিক সোহাগ খন্দকার।
সাঘাটা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল্লাহীশ শাফি আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, ভিডিওটি তার নজরে এসেছে এবং সাংবাদিকের লিখিত অভিযোগও পেয়েছেন। অভিযোগটি তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিক্ষক মোশাররফ হোসেন মিলন ও রুমি বেগমের বক্তব্য জানতে তাদের মোবাইলে কল করলেও তারা রিসিভ করেননি।




