বিনিয়োগ পরামর্শে আসছে লাইসেন্সধারী আর্থিক পরামর্শক: বিএসইসি কমিশনার

শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের পেশাদার পরামর্শ দিতে লাইসেন্সধারী আর্থিক পরামর্শক ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে এ বিষয়ে নিয়ম চালু হতে পারে বলে জানিয়েছেন বিএসইসির কমিশনার মো. নাফিজ আল তারিক।
বুধবার (৭ অক্টোবর) ‘বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ ২০২৬’ উপলক্ষে রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান। সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) ও সেন্ট্রাল কাউন্টারপার্টি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিসিবিএল) যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে।
নাফিজ আল তারিক বলেছেন, বর্তমানে অনেক বিনিয়োগকারী ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তা বা অনুমোদিত প্রতিনিধিদের কাছ থেকে অনানুষ্ঠানিকভাবে বিনিয়োগের পরামর্শ নেন। তবে তাঁরা বিনিয়োগ পরামর্শ দেওয়ার জন্য আলাদাভাবে লাইসেন্সপ্রাপ্ত নাও হতে পারেন। ফলে এ ধরনের পরামর্শের ক্ষেত্রে তাঁদের দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহির বিষয়টি স্পষ্ট নয়।
তিনি উল্লেখ করেন, একজন মিউচুয়াল ফান্ড ব্যবস্থাপক বিনিয়োগকারীদের অর্থ পরিচালনা করলে তাঁর নির্দিষ্ট দায়িত্ব ও জবাবদিহি থাকে। কিন্তু জবাবদিহি ছাড়া কোনো দায়িত্ব নিলে তা যথাযথভাবে পালন করা কঠিন।
এ কারণে বিনিয়োগকারীদের জন্য এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করা প্রয়োজন, যেখানে তাঁরা নিবন্ধিত আর্থিক পরামর্শকের কাছ থেকে পেশাদার পরামর্শ নিতে পারবেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ বিষয়ে লাইসেন্স চালুর কাজ এগিয়ে চলছে। এক থেকে দুই মাসের মধ্যে নিবন্ধিত আর্থিক পরামর্শকের বিষয়ে নিয়ম চালু হতে পারে বলেও জানান বিএসইসির এই কমিশনার।
বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি কমাতে বিভিন্ন ধরনের বিকল্প বিনিয়োগের সুযোগ তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেন নাফিজ আল তারিক। তিনি বলেন, নতুন ও খুচরা বিনিয়োগকারীদের জন্য সরাসরি শেয়ারে বিনিয়োগ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
তিনি উল্লেখ করেন, বাজারে বড় ধরনের পতন হলে একজন বিনিয়োগকারীর এক কোটি টাকার বিনিয়োগ ৬০ লাখ টাকায় নেমে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে মানসিক চাপ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে। এ ক্ষেত্রে বৈচিত্র্যপূর্ণ মিউচুয়াল ফান্ড ঝুঁকি কিছুটা কমাতে পারে।
তবে সব মিউচুয়াল ফান্ড বা সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান সমানভাবে ভালো নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোন ফান্ডে বিনিয়োগ করা উচিত, তার অতীত ফলাফল কেমন এবং ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান কতটা দক্ষ, এসব বিষয় বুঝতে বিনিয়োগকারীদের পেশাদার পরামর্শ প্রয়োজন।
বিএসইসির কমিশনার আরও জানান, বাজারের সূচক বাড়া বা কমা নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিয়ন্ত্রণে নেই। তাই সূচকের ওঠানামার চেয়ে বাজার সংস্কার, প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন এবং চিহ্নিত সমস্যার সমাধানে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
বিনিয়োগকারীদের আর্থিক সক্ষমতার পাশাপাশি মানসিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করাও শেয়ারবাজারের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিসিবিএলের পরিচালক সৈয়দ হাম্মাদুল করিম। এতে সভাপতিত্ব করেন সিডিবিএলের পরিচালক সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ। এ সময় সিডিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল মোতালেব, সিসিবিএলের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ. এস. এম. খায়েরুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।



