নিউ ইয়র্কে নিখোঁজ বাংলাদেশি খোকনকে নিয়ে তোলপাড়

কাজি আজিজুল হক খোকনের অন্তর্ধান এবং এই পরিস্থিতিতে করণীয় নিয়ে গত বুধবার রাতে জ্যাকসন হাইটসে মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতারা। ছবি: আগামীর সময়
কাজি আজিজুল হক খোকন, যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি পরিমণ্ডলে পরিচিত এক মুখ। নিউ ইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে গেলেই দেখা মিলতো তার। খামারবাড়ি গ্রোসারি ও নবান্ন রেস্তোরাঁ সংলগ্ন অবকাস স্টোরে কাজ করতেন তিনি। জড়িত ছিলেন রাজনীতিতেও। যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক লীগের সভাপতি তিনি।
এই খোকন নিখোঁজ গত পাঁচ দিন ধরে। পুলিশ, হাসপাতাল কিংবা মর্গ কোথাও তার খোঁজ নেই। নিউ ইয়র্ক পুলিশ ‘নিখোঁজের তালিকা’য় তার নাম অন্তর্ভুক্ত করেছে।
গত ৩০ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা খোকন। কুইন্সের কিউ গার্ডেনের বাসায় একাই থাকতেন অকৃতদার খোকন (৬০)। বন্ধুরা জানাচ্ছেন, গত শনিবার থেকেই নিখোঁজ খোকন। রবিবার মধ্যরাত পর্যন্ত তার টেলিফোন সচল ছিল, কিন্তু রিং হলেও কেউ ধরেননি। স্থানীয় পুলিশ সোমবার দরজা ভেঙে তার ঘরে ঢুকলেও তাকে পায়নি।
খোকন তিন দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রে থাকলেও তার বৈধ কাগজপত্র ছিল না বলেই জানিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। ফলে তাকে অবৈধ অভিবাসী হিসেবে বন্দি করা হলো কি না, তা নিয়ে উৎকণ্ঠায় তার বন্ধু ও সহকর্মীরা।
বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রবাসী নেতা-কর্মীরাও খোকনকে নিয়ে উদ্বিগ্ন। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক মো. হামিদ আগামীর সময়কে বলেন, তারা নানা স্থানে খবর নিয়েও খোকনের কোনো সন্ধান পাননি।
অনেকে সন্দেহ করছেন আইস (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) পুলিশের হাতে খোকন ধরা পড়লেন কি না? সেক্ষেত্রে তথ্য পেতে কয়েক দিন সময় লাগে।
একাধিক ব্যক্তি আগামীর সময়কে বলেছেন, শনিবার জ্যাকসন হাইটস এলাকায় আইস গ্রেপ্তার অভিযান চালিয়েছিল। তখন খোকন গ্রেপ্তার হলেও আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই।
খোকনের সন্ধান পেতে নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের সহায়তা চেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতা মাসুুদুর রহমান। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান পুলিশ প্রিসিংক্টে জিডি করার কথা জানিয়েছেন।
খোকনের অন্তর্ধান এবং এই পরিস্থিতিতে করণীয় নিয়ে বুধবার রাতে জ্যাকসন হাইটসে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সেখানে উপস্থিত ছিলেন সিদ্দিকুর রহমান, প্রদীপ রঞ্জন কর, মাসুদুর রহমান, হাকিকুল ইসলাম খোকন, জয়নাল আবেদীন, ইমদাদ চৌধুরী, মঞ্জুর চৌধুরী, শেখ আতিকুর রহমান, মিজানুর রহমান চৌধুরী, রিদয় মিয়া, সেবুল মিয়া, দুরুদ মিয়া, রোনেল, নুরুজ্জামান সরকার, শাবান মাহমুদসহ কমিউনিটির অনেকেই। বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মো. আলী প্রবাসী খোকনের নিখোঁজের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারাও বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।



