আওয়ামী লীগকে আগে অপরাধ স্বীকার করতে হবে : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। ছবি : ফাইল ছবি
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের কার্যক্রম পরিচালনায় রয়েছে নিষেধাজ্ঞা, তবে দলটির রাজনীতিতে ফেরার আলোচনাও চলছে। এ অবস্থায় কীভাবে আওয়ামী লীগের ফেরার সুযোগ ঘটতে পারে? প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলছেন, সেজন্য আগে আওয়ামী লীগকে তাদের অপরাধ স্বীকার করে নিতে হবে।
আজ মঙ্গলবার ঢাকায় সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ‘রিকনসিলিয়েশনের বেসিক হচ্ছে যে গ্রুপ, গোষ্ঠী বা রাজনৈতিক দল অপরাধ করেছে, তাদের সেই অপরাধের স্বীকৃতি থাকতে হবে। অপরাধের স্বীকৃতি এবং অনুতাপের পরই রিকনসিলিয়েশনের প্রশ্ন আসে।’
অন্তর্বর্তী সরকার আমলে আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা আরোপের সময় বলা হয়েছিল, জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচার শেষ না হওয়া অবধি এ নিষেধাজ্ঞা থাকবে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলছে এই বিচার। এরই মধ্যে কয়েকটি মামলার রায় হয়েছে, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়ও এসেছে।
দলটির সঙ্গে রিকনসিলিয়েশন প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান বলছিলেন, সরকার মনে করে দেশে রিকনসিলিয়েশন প্রয়োজন। তবে এর একটি মৌলিক ভিত্তি থাকতে হবে।
দক্ষিণ আফ্রিকার উদাহরণ টেনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, অপরাধের স্বীকৃতি থাকলেও তা ফৌজদারি অপরাধের আইনি প্রক্রিয়া থেকে অব্যাহতি দেয় না।
‘৫ আগস্টের পরও আওয়ামী লীগের প্রধান নেত্রী সরকারকে দোষারোপ করছেন এবং হুমকি দিচ্ছেন। এ পরিস্থিতিতে সরকারের পক্ষ থেকে রিকনসিলিয়েশনের আলোচনা গ্রহণ করা কঠিন’, যোগ করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।
তবে কেউ যদি রিকনসিলিয়েশন চান, তাহলে আওয়ামী লীগের সঙ্গে যোগাযোগ করে দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
টানা ১৫ বছরের শাসনের পর ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের মুখে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে।
ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দলটির কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে ওঠে নিষিদ্ধের দাবি। ২০২৫ সালের ১২ মে তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সব সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।




