দেশে-বিদেশে মানুষের পাশে জিয়াউল হক

পেশায় তিনি ব্যবসায়ী, বাস করেন মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমানে। তবে নিজ এলাকা ফেনীতে তাকে লোকে চেনে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠক হিসেবে। বছরের বড় সময় প্রবাসে থাকলেও ভাবেন দেশের কথা, সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কথা। ওমানে বসেই ফেনীতে আয়োজন করেন নানা ধরনের মানবিক কর্মসূচির। তা ছাড়া ওমানে বসবাসরত বাংলাদেশিদের বিপদে-আপদেও পাশে থাকেন এই তরুণ সংগঠক।
বলছি জিয়াউল হক জিয়ার (২৯) কথা। ফেনী সদর উপজেলার কাজীরবাগ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাজীবাড়ির মৃত আব্দুল করিম ও আনোয়ারা বেগমের সন্তান তিনি। তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি তৃতীয়। স্ত্রী জান্নাতুন নিহা ও মাকে নিয়ে এখন তার সংসার।
স্থানীয় মজিদ মিয়ার বাজার ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা ও ফুলগাজীর আনন্দপুর ইউনিয়নের হাসানপুর শাহ আলম চৌধুরী কলেজ থেকে পড়াশোনা শেষ করে ২০১৬ সালে পাড়ি জমান ওমানে। সেখানে প্রথমে মেজো ভাই মোহাম্মদ হারিসের সহায়তায় কাজ করেন সালালা সায়ডা এলাকার একটি রিসোর্টে। পরে সালালা আল-মশুর শহরে দেন বোরকা-হিজাবের দোকান। বর্তমানে দুটি শোরুম রয়েছে তার। বছরে দুই দফা দেশে আসেন, থাকেন কয়েক মাস।
সবসময়ই মানুষের পাশে দাঁড়ানোর তাড়না ছিল জিয়ার। সেই তাড়না থেকেই ১১ বছর আগে কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে গড়ে তোলেন সামাজিক সংগঠন ‘বন্ধুমহল’। ফেনী ও ওমানে রয়েছে এ সংগঠনের কমিটি। ওমানপ্রবাসী বাংলাদেশিদের ভিসা, পাসপোর্ট-সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যায় সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন জিয়া। সম্প্রতি সিলেটের হোসেন আহমেদ নামের এক নির্মাণশ্রমিক ওমানে কাজ করতে গিয়ে গুরুতর আহত হন। জিয়া ও তার সহযোগীরা ওই শ্রমিকের যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করার পাশাপাশি দেশে ফেরত পাঠাতেও নানাভাবে সহায়তা করছেন। দিয়েছেন কিছু অর্থসহায়তাও। বন্ধুমহলের ওমান কমিটি ফেনীতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালনে আর্থিক সহায়তা দেয়। ওমানে এ সংগঠনের সদস্য রয়েছেন ৮০ জন, আর ফেনীতে শতাধিক।
গত ১১ বছরে ফেনীতে দেড় শতাধিক ছোট-বড় কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে ‘বন্ধুমহল’। এর মধ্যে রয়েছে শীতবস্ত্র বিতরণ, নগদ সহায়তা, শিক্ষাবৃত্তি, ঘর মেরামতে সহায়তা, হাসপাতালের রোগীদের স্বজনদের জন্য ইফতার বুথ চালু, হাসপাতালে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, হাসপাতালে অবস্থানরত বিপদগ্রস্ত রোগীদের সেবা ও চিকিৎসা সহায়তা, কুড়িয়ে পাওয়া নবজাতকের দেখাশোনা, চিকিৎসা ও আইনগত অভিভাবকের কাছে হস্তান্তর ইত্যাদি।
তাদের নিয়মিত কর্মসূচি চলছে জানিয়ে জিয়া বললেন, কয়েক মাস আগে স্থানীয় এক ভিডিও সাংবাদিক মস্তিষ্কের গুরুতর রোগে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি ও তার সহযোগীরা বেশ কিছু টাকা সংগ্রহ করে ওই সাংবাদিকের পাশে দাঁড়ান। এ ছাড়া রমজান মাসে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে রোগীদের সঙ্গে যে স্বজনরা থাকেন, তারা কোথায় নামাজ পড়বেন, ইফতার করবেন— এসব দুশ্চিন্তা থেকেও তাদের বাঁচায় ‘বন্ধুমহল’। রোগীর স্বজনদের দুশ্চিন্তামুক্ত রাখতে বুথ বসিয়ে ফ্রি ইফতারি বিলি করা হয়। সম্প্রতি সংগঠনটির সদস্যরা ফেনী জেনারেল হাসপাতালের বিভিন্ন অংশে পরিচ্ছন্নতা অভিযানও চালিয়েছেন।
ফেনী জেনারেল হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক মোবারক হোসেন দুলাল বললেন, জিয়াসহ সংগঠনের সদস্যরা এরই মধ্যে হাসপাতালে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালিয়েছেন। অনেক সময় তারা রোগীদের নানাভাবে সহায়তাও করে থাকেন।



