তিন দিক থেকে চাপে হুতিরা, প্রতিরোধ কতটা টিকবে

সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনীর একাংশ। ফাইল ছবি: রয়টার্স
ইয়েমেনে যুদ্ধের চিত্র দ্রুত বদলাচ্ছে। সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনী একদিকে বাব আল-মান্দেব প্রণালি থেকে বন্দরনগরী মোকা পর্যন্ত দ্রুত অগ্রসর হয়েছে। অন্যদিকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট আকাশ ও সমুদ্রপথে অভিযান জোরদার করেছে। ফলে হুতিদের ওপর একসঙ্গে কয়েক দিক থেকে চাপ তৈরি হয়েছে।
কিংস কলেজ লন্ডনের গবেষক নওয়াফ ওবেইদের মতে, এই অগ্রগতি আকস্মিক নয়। সরকারি বাহিনী অভিযানের আগে উন্নত সামরিক পরিকল্পনা করেছে।
তার মতে, হুতিরা এখনো তুলনামূলক প্রচলিত পদ্ধতিতে যুদ্ধ করছে। বিপরীতে সৌদি জোটের যুদ্ধকৌশল অনেক বেশি সমন্বিত হয়েছে।
ওবেইদের ধারণা, আকাশ, স্থল ও সমুদ্র— তিন দিক থেকে যে বড় আকারের অভিযান আসছে, তা দীর্ঘ সময় ধরে মোকাবিলা করার সক্ষমতা হুতিদের নাও থাকতে পারে। তার মতে, হুতিদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধীরে ধীরে ভেঙে পড়ার শুরু দেখা যাচ্ছে।
এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ বাব আল-মান্দেবের উপকূলীয় এলাকা। সরকারি বাহিনী দাবি করেছে, তারা গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান পুনর্দখল করে মোকা শহরের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। মোকা দখল নিশ্চিত হলে লোহিত সাগরের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও জ্বালানি রুটে হুতিদের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হবে।
তবে যুদ্ধ এখনো একমুখী নয়। তাইজের আশপাশে হুতিরা পাল্টা অগ্রগতি চালিয়েছে। সরকারি সামরিক সূত্রগুলোর দাবি, তাইজ-এডেন সড়কের কিছু অংশ বিচ্ছিন্ন হয়েছে এবং শহরটির ওপর চাপ বেড়েছে। যদিও এসব দাবির কিছু অংশ নিয়ে সরকারি পক্ষের মধ্যেই ভিন্ন বক্তব্য রয়েছে।
অর্থাৎ, উপকূলীয় এলাকায় সরকারি বাহিনী দ্রুত এগোলেও দেশের অন্য অংশে হুতিদের প্রতিরোধ এখনো শক্তিশালী। রাজধানী সানাসহ জনবহুল উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বড় অংশও তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
হুতিরা পাল্টা সৌদি ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে। রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, আরামকোর একটি স্থাপনা, আবহা বিমানবন্দর ও একটি সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করার দাবি করেছে তারা। এসব দাবি তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
এদিকে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান সৌদিতে দ্রুত সামরিক বাহিনী ও সক্ষমতা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে সংঘাতের আঞ্চলিক মাত্রা আরও বাড়তে পারে।
সবচেয়ে বড় উদ্বেগ এখন বেসামরিক মানুষ। জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থার হিসাবে, যুদ্ধ আবার শুরু হওয়ার পর ১ লাখ ৮৪ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। তাইজে জ্বালানি ও রান্নার গ্যাসের জন্য দীর্ঘ লাইনও দেখা গেছে।
তাই সামরিক অগ্রগতি হলেও যুদ্ধের পরিণতি শুধু ভূখণ্ড দখলের হিসাবেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। বাব আল-মান্দেব ও হরমুজ— দুটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ঘিরে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ এবং ইয়েমেনের মানবিক পরিস্থিতি— সবকিছুর ওপরই চাপ বাড়ছে।
সূত্র : আল জাজিরা ও রয়টার্স




