ট্রাম্প কয়বার ইরানকে ধ্বংস করার হুমকি দিয়েছেন?

আয়ারল্যান্ডের কাউন্টি ক্লেয়ারের ডুনবেগে ট্রাম্প ইন্টারন্যাশনাল গলফ লিঙ্কসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স
চলতি বছরের শুরুতে ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথ হামলা শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে বারবার ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছেন।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোয় প্রকাশিত সংবাদের তথ্য বলছে,মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটির ওপর ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর সরাসরি হুমকি ট্রাম্প একবার নয়, উচ্চারণ করেছেন একাধিকবার।
ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো থেকে শুরু করে পুরো জাতিকে টার্গেট করে তিনি এই বার্তা দিয়েছেন অন্তত ছয়বার।
হুমকির শুরুটা হয়েছিল গত ২১ মার্চ। হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেন ট্রাম্প। তা না করলে দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোয় আঘাত হেনে সেগুলো পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করার হুমকি দেন তিনি।
এরপর ১ এপ্রিল এক টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে তিনি জানান, চুক্তিতে না পৌঁছালে ইরানকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে পাথর যুগে। সে সময় দেশটির বিদ্যুৎ গ্রিডে আরও ভয়াবহ হামলার হুমকি দেন ট্রাম্প।
পরবর্তীতে ৫ এপ্রিল হরমুজ প্রণালি চালুর জন্য নতুন সময়সীমা বেঁধে দেন ট্রাম্প। সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার হুমকি দিয়ে তিনি বলেছেন, ইরানকে এবার মুখোমুখি হতে হবে জাহান্নামের।
এর ঠিক পরদিনই ৬ এপ্রিল তিনি আরও কড়া ভাষায় বলেছেন, পুরো দেশটিকে মাত্র এক রাতেই সম্ভব শেষ করে দেওয়া। দেশটির প্রতিটি সেতু ধ্বংস এবং প্রতিটি বিদ্যুৎকেন্দ্র উড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পরনার কথা তিনি জানান প্রকাশ্যে।
এরপর ৭ এপ্রিল ট্রাম্পের হুমকি ধারণ করে চরম রূপ। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, তেহরান তার দাবি না মানলে আজ রাতেই একটি ‘সম্পূর্ণ সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে’, যা আর ফিরে আসবে না কখনোই।
সর্বশেষ গত ১৭ সেপ্টেম্বর অনলাইন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আবারও ইরান সরকারকে ধ্বংস করার কথা জানান। তিনি বলেছেন, ‘আমি কি তাদের ধ্বংস করতে চাই, নাকি চাই না? এটি একটি বড় সিদ্ধান্ত। আমার ক্ষেত্রে যেকোনো কিছুই ঘটতে পারে।’
ট্রাম্পের হুমকির বাস্তবতাও অবশ্য আছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানে এখন পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু এবং ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ব্যাপক বেসামরিক অবকাঠামোর।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতে দেশটির পরমাণু, সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি আক্রান্ত হয়েছে আবাসিক এলাকা ও স্কুল-হাসপাতাল।
এর মধ্যে দক্ষিণাঞ্চলের মিনাব এলাকার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মার্কিন হামলায় বহু শিশুসহ শতাধিক বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে জন্ম দিয়েছে তীব্র সমালোচনার।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা দেশটির বিভিন্ন বেসামরিক এলাকায় চালানো এসব হামলাকে উল্লেখ করেছেন যুদ্ধাপরাধের শামিল বলে।
এসব হামলায় চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইরানের যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জাম ও স্থাপনা। বন্দর আব্বাসসহ বিভিন্ন এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইন ও বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়ে।
আইআরজিসির বিভিন্ন ঘাঁটি ও লজিস্টিক কমপ্লেক্স যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্যবস্তু হওয়ায় বহু মূল্যবান সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি ধ্বংস হয়েছে।
যদিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নির্দিষ্ট কিছু বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতির দায় অস্বীকার করেছে। তবে স্বাধীন তদন্ত ও স্যাটেলাইট চিত্রে প্রমাণিত হয়েছে, হামলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে ইরানের সাধারণ অবকাঠামো।
সূত্র: আলজাজিরা





