নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে এবার এক মঞ্চে দুই ঠাকরে
- পথে একাধিক বিরোধী রাজনৈতিক দল

রবিবার দিল্লির ইন্ডিয়া গেট থেকে মুম্বইয়ের রাজপথ—দফায় দফায় বিক্ষোভে সরব বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি।
ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের আন্দোলনের আঁচ এ বার ছড়িয়ে পড়ল দেশের দুই গুরুত্বপূর্ণ শহরে। রবিবার দিল্লির ইন্ডিয়া গেট থেকে মুম্বইয়ের রাজপথ—দফায় দফায় বিক্ষোভে সরব হয়ে ওঠে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) এবং ভোটাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের অপসারণের দাবিতে পথে নামল আম আদমি পার্টি, কংগ্রেস এবং মহারাষ্ট্রের দুই রাজনৈতিক শিবির। দিল্লিতে একের পর এক বিক্ষোভ কর্মসূচিকে ঘিরে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের টানাপড়েন তৈরি হয়। অন্য দিকে মুম্বইয়ে দীর্ঘ রাজনৈতিক দূরত্ব সরিয়ে এক মঞ্চে হাজির হলেন শিবসেনা (উদ্ধব) প্রধান উদ্ধব ঠাকরে এবং মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনার প্রধান রাজ ঠাকরে।
দিল্লির ইন্ডিয়া গেটে এদিন প্রথমে বিক্ষোভে নামে আম আদমি পার্টি (আপ)। জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সরব হন দলের নেতা-কর্মীরা। বিক্ষোভ ঘিরে আগে থেকেই এলাকায় মোতায়েন ছিল বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও নিরাপত্তারক্ষী। আন্দোলনকারীদের ঘিরে ফেলে পুলিশ। পরে আপের সৌরভ ভরদ্বাজ সহ একাধিক নেতা-কর্মীকে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়।
আপের কর্মসূচির রেশ কাটতে না কাটতেই বিকেল পাঁচটা থেকে একই ইন্ডিয়া গেট এলাকায় বিক্ষোভের ডাক দেয় যুব কংগ্রেস। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে পথে নামার কর্মসূচি ঘোষণা করে হাত শিবির। দলের বক্তব্য, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে যোগ্য ভোটারদের অধিকার খর্ব করার অভিযোগ উঠছে। সেই অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং নির্বাচন কমিশনের জবাবদিহি নিশ্চিত করতেই এই আন্দোলন।তাদের সাথে আন্দোলনে যোগ দেয় বাম ছাত্র সংগঠন আইসা ।
দিল্লিতে পর পর দুই বিরোধী দলের কর্মসূচি রাজনৈতিক ভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এখন আর কোনও একটি দলের অভিযোগে সীমাবদ্ধ নেই। বিরোধী শিবিরের একাধিক দল একই প্রশ্নে সরব হচ্ছে। বিশেষত এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া, সংশোধনের পদ্ধতি এবং কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বচ্ছতা নিয়ে বিরোধীদের ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে।
দিল্লির পাশাপাশি এদিন মুম্বইয়েও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বড়সড় রাজনৈতিক জমায়েতের নেতৃত্ব দেন উদ্ধব ও রাজ ঠাকরে। ‘বিরাট গর্জনা মোর্চা’ নামে এই প্রতিবাদ মিছিলের মূল দাবি ছিল মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং মহারাষ্ট্রে এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা অভিযোগের নিষ্পত্তি। মেট্রো সিনেমা এলাকা থেকে শুরু হয়ে মিছিল পৌঁছয় বৃহন্মুম্বই পুরসভার সদর দফতরের কাছে। কংগ্রেস এবং শরদ পওয়ারের এনসিপি-ও এই কর্মসূচিকে সমর্থন করে।
দুই ঠাকরে নেতার এক মঞ্চে আসা মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতেও বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকে দলীয় সীমানার বাইরে নিয়ে যাওয়ার বার্তা দিতে কর্মীদের দলীয় পতাকার পরিবর্তে জাতীয় পতাকা নিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছিল। রাজ ঠাকরে ভোটার তালিকা সংশোধন এবং ইভিএমের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। উদ্ধব ঠাকরেও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন।
বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁরা জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ দাবি করছেন। যদিও ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ এবং কমিশনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পক্ষপাতের দাবি বিরোধীদের বক্তব্য হিসাবেই বিবেচ্য।
সব মিলিয়ে, দিল্লি ও মুম্বইয়ের বিক্ষোভ স্পষ্ট করে দিচ্ছে, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ঘিরে বিরোধীদের রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হচ্ছে। রাজধানীতে আপের কর্মীদের আটক এবং তার পর কংগ্রেসের বিক্ষোভ, অন্য দিকে মুম্বইয়ে ঠাকরে-যুগলের যৌথ আন্দোলন,দুই ঘটনাই জাতীয় রাজনীতিতে নতুন চাপের আবহ তৈরি করল। এখন দেখার, এই আন্দোলন কতটা বৃহত্তর বিরোধী ঐক্যের রূপ নেয় এবং নির্বাচন কমিশন এই রাজনৈতিক চাপের জবাবে কী অবস্থান নেয়।



