তীব্র আক্রমণ রাহুলের
শিক্ষাব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, সরাতে হবে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে

প্রশ্নফাঁস নিয়ে নরেন্দ্র মোদীকে তীব্র আক্রমণ করেন রাহুল গান্ধী।
নিট-ইউজি ২০২৬ প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে সামনে রেখে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারকে ফের তীব্র আক্রমণ করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা তথা কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। বুধবার সাংবাদিক বৈঠকে তিনি দাবি করেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থা আজ সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়েছে এবং এর জন্য কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে দায়িত্ব নিয়ে পদ ছাড়তে হবে।
রাহুলের অভিযোগ, গত এক দশকে দেশে মোট ১৫২টি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে, অথচ একটি ক্ষেত্রেও দোষীদের বিরুদ্ধে কার্যকর শাস্তি বা দণ্ড নিশ্চিত করা যায়নি। তার কথায়, “ভারতের শিক্ষাব্যবস্থা একসময় বিশ্বের অন্যতম সেরা ছিল। কিন্তু এখন তা একটি ‘রিগড সিস্টেম’-এ পরিণত হয়েছে। প্রতি মাসেই লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীকে নতুন করে অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে।”
ছাত্র আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে বিরোধী দলনেতা বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করা পড়ুয়াদের ওপর পুলিশি লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “ছাত্ররা কী অপরাধ করেছে? তারা শুধু একটি স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য পরীক্ষাব্যবস্থার দাবি জানাচ্ছে। তাদের ওপর বলপ্রয়োগ কেন?”
রাহুল গান্ধীর দাবি, প্রায় সাড়ে সাত কোটি ছাত্রছাত্রী এবং তাদের পরিবার এই পরিস্থিতির শিকার। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবারগুলি নিজেদের সঞ্চিত অর্থ ব্যয় করে সন্তানদের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখায়। কিন্তু বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় সেই স্বপ্ন ভেঙে যাচ্ছে। তিনি বলেন, এই পরিস্থিতির জন্য শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ এবং তাঁকে অবিলম্বে পদ থেকে সরানো উচিত।
একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ছাত্রদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের নির্দেশ যারা দিয়েছেন এবং যারা তা কার্যকর করেছেন, তাদের প্রত্যেকের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীরও এই ঘটনার জন্য দেশবাসী ও ছাত্রসমাজের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন রাহুল।
তিনি আরও বলেন, শুধুমাত্র পরীক্ষায় অনিয়ম নয়, দেশের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ভবিষ্যৎ নিয়েও গভীর সংকট তৈরি হয়েছে। তাই শিক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে অবিলম্বে কাঠামোগত সংস্কারের দাবি জানিয়েছে কংগ্রেস।




