শেরেবাংলা নগরে হচ্ছে বিভাগীয় কমিশনারের নিজস্ব কার্যালয়
- ব্যয় হবে ৩০৮ কোটি টাকা
- ঢাকা বিভাগীয় প্রশাসনের দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত স্থান সংকুলানের ব্যবস্থা হবে
- দুটি বেজমেন্টসহ ১০তলা ভবন তৈরি হবে
- বুধবার পিইসি সভায় উঠবে প্রকল্প প্রস্তাব

প্রতীকী ছবি
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে তৈরি হচ্ছে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনের নিজস্ব কার্যালয়। এজন্য ‘শেরেবাংলা নগরে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের অফিস ভবন নির্মাণ’ নামের একটি প্রকল্প প্রস্তাব করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩০৮ কোটি ৮ লাখ টাকা। প্রস্তাবটি নিয়ে আগামী বুধবার অনুষ্ঠিত হবে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা। এতে সভাপতিত্ব করবেন পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. নেয়ামত উল্লা ভূঁইয়া।
প্রক্রিয়াকরণ শেষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পেলে ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ২০২৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও গৃহায়ন অধিদপ্তর। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের
এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনা কমিশনের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা আগামীর সময়কে বলেছেন, প্রকল্পটি চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) অননুমোদিত নতুন প্রকল্প তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা বিভাগীয় প্রশাসনের দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত স্থান সংকুলানের ব্যবস্থা করা যাবে। এর মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির পেশাদারত্ব এবং জনগণের সেবার মান বাড়বে।
প্রকল্পে ঢাকা বিভাগ দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক অঞ্চল। ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় কেন্দ্রীয় সরকার ও মাঠ প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয়সাধন, বিভাগীয় পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি কার্যক্রম তদারকি, মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা, রাজস্বসংক্রান্ত কার্যক্রম, বিভিন্ন সভা ও সমন্বয় কার্যক্রমসহ সরকারের নীতি ও উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বর্তমানে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়টি সেগুনবাগিচাস্থ ১ম ১২-তলা অফিস ভবনে অবস্থিত। বিদ্যমান ভবনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় স্থান সংকুলান না হওয়ায় প্রশাসনিক কার্যক্রম সুষ্ঠু ও কার্যকরভাবে পরিচালনায় স্থান সংকট দেখা দিয়েছে।
এ প্রেক্ষাপটে আগারগাঁওস্থ শেরেবাংলা নগরের প্রশাসনিক এলাকায় ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের অনুকূলে বরাদ্দ দেওয়া ২ দশমিক ৩৭ একর জমিতে অফিস কাঠামো নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক কার্যক্রমের চাহিদা নিয়ে গঠিত কমিটি চাহিদামালার ভিত্তিতে স্থাপত্য অধিদপ্তর প্রস্তাবিত ভবনের স্থাপত্য নকশা তৈরি করেছে। বরাদ্দ দেওয়া জমিতে ২টি বেজমেন্টসহ ১০-তলা অফিস ভবন নির্মাণের মাধ্যমে ঢাকা বিভাগীয় প্রশাসনের জন্য পর্যাপ্ত ও আধুনিক কর্মপরিবেশ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি দাপ্তরিক কার্যক্রমের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জনগণকে অধিক কার্যকর ও মানসম্মত সরকারি সেবা দেওয়া যাবে। এসব দিক বিবেচনা করে প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রকল্পের মূল কার্যক্রম হলো-বেজমেন্টসহ ১টি ১০তলা ভবন তৈরি (ফাউন্ডেশন, বেজমেন্ট, সুপার স্ট্রাকচার, অভ্যন্তরীণ পানি সরবরাহ এবং পয়ঃনিষ্কাশন, অভ্যন্তরীণ বিদ্যুতায়ন, গ্যাস সংযোগসহ)। এ ছাড়া গভীর নলকূপ স্থাপন, ভূগর্ভস্থ জলাধার (অগ্নিনির্বাপণের জন্য), অভ্যন্তরীণ রাস্তা, সুয়্যারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) এবং বাউন্ডারি ওয়ালসহ আনুষঙ্গিক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।
পিইসি সভায় যেসব বিষয় জানতে চাওয়া হবে : পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রস্তাবিত প্রকল্পটি গ্রহণের ক্ষেত্রে ভেল্যু ফর মানি, রিটার্ন অব ইনভেস্টমেন্ট নিশ্চিতসহ নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে কি না তা জানতে চাওয়া হবে। প্রকল্পের আওতায় ২টি বেজেমেন্টসহ ১টি ১০-তলা ভবন নির্মাণের ব্যয় আগে ধরা হয়েছিল ১৭২ কোটি ২৬ লাখ টাকা, যা এখন ৩০৮ কোটি টাকা ধরা হয়েছে। এ ব্যয় বৃদ্ধির যৌক্তিকতা নিয়ে সভায় প্রশ্ন তোলা হবে। প্রকল্পে অফিস ভাড়া বাবদ ১৮ লাখ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। এক্ষেত্রে পৃথক অফিস ভাড়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে কিনা এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হবে।
যানবাহন ব্যবহার (চুক্তিভিত্তিক-২টি) বাবদ মোট ৬০ লাখ টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়বেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। আরও আছে প্রকল্পের ডিপিপিতে (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) বিভিন্ন নকশা তৈরি বাবদ ৩০ লাখ টাকা প্রস্তব করা হয়েছে। এটির বিষয়েও জানতে চাওয়া হবে। এগুলো ছাড়াও আরও বিভিন্ন খাতে প্রস্তাবিত ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা হবে পিইসি সভায়।



